৫ম মৃত্যুবার্ষিকী: নোরা শরীফের নামে ফাউন্ডেশন গঠনের প্রস্তাব হাই কমিশনারের


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

কমিউনিটি করেসপন্ডেন্ট
সত্যবাণী

লন্ডন: মহান মুক্তিযুদ্ধের বিদেশী সংগঠক, ‘ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ’ খেতাব প্রাপ্ত বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ব্যারিষ্টার নোরা শরিফের স্মৃতি ধরে রাখতে তাঁর নামে একটি ফাউন্ডেশন গঠনের প্রস্তাব করেছেন ব্রিটেনে সদ্য নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মুনা তাসনিম। রবিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের কমার্শিয়াল রোড়ের একটি হলে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, যুক্তরাজ্য শাখার উদ্যোগে নোরা শরীফের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই প্রস্তাব করেন হাই কমিশনার। ফাউন্ডেশন গঠনের প্রস্তাব করে মুনা তাসনিম বলেন, ভিন্ন বর্ণের একজন বিদেশী নারী বাংলাদেশকে যেভাবে হৃদয়ে ধারণ করতেন, তাতে নোরা শরীফ ও বাংলাদেশ সমার্থক শব্দ হয়ে উঠেছিলো। ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ৭০ এর নির্বাচন ও ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ বাঙালীর স্বাধীকার আন্দোলনের প্রতিটি বাঁকেই নোরা শরিফের ছিলো সরব উপস্থিতি। নিজের পরাধীনতার গ্লানি ভুলতে একজন আইরিস নাগরিক হয়েও বাঙালীর মুক্তি সংগ্রামে জড়িত হয়েছিলেন নোরা, এমন মন্তব্য করে হাই কমিশনার বলেন, নোরা শরীফ ছিলেন আমাদের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসের অংশ। তাঁর জীবন দর্শন থেকে আমাদের এই প্রজন্ম যদি অনুপ্রেরণা নেয়,  তাহলে জাতী হিসেবে অবশ্যই আমরা লাভবান হবো।  

E850CB67-2429-43B7-89D0-502DFD8C2176একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি  নূর উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারন সম্পাদক জামাল আহমেদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডনের সহকারী হাই কমিশনার মোহাম্মদ জুলকার নাঈন ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নোরা শরীফের স্বামী সুলতান মাহমুদ শরীফ। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীন সাংবাদিক ও কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরী।

আলোচনার শুরুতেই মিলাদ এবং দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা কুতুব উদ্দিন। এরপর সঞ্চালক জামাল খান ব্যারিস্টার নোরা শরীফের জীবন বৃত্তান্ত তুলে ধরেন সকলের সামনে। তিনি বলেন, ‘ব্যারিস্টার নোরা শরীফ জন্মসূত্রে ছিলেন আইরিশ নাগরিক। জন্ম আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে। বাবা শ্যন এফ মারে (Sean F. Murray) আইরিশ কারেন্সি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। ৬ বোন, ৩ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। নোরা শরীফ লিংগুইস্টিক্স-এ গ্র্যাজুয়েশন করেন ডাবলিন, এরপর কৃষি বিষয়ে পড়তে গিয়েছিলেন ফ্রান্সে। সেখান থেকে লন্ডনে আসেন ব্যারিস্টারী পড়তে। ছয় দফা আন্দোলনের সময়

এখানেই সুলতান মাহমুদ শরীফের সাথে তাঁর পরিচয়। সুলতান শরীফের সাথে পরিচয়ের সুবাদে বাঙালির সব  আন্দোলন সংগ্রামের সাথে এসময় সংশ্লিষ্টতা বাড়তে থাকে নোরার। আন্দোলন সংগ্রামের সব প্লাকার্ড, ফেস্টুন বহন থেকে শুরু করে সবকিছুতেই জড়িয়ে পড়েন তিনি।

নোরার পরিচয় দিতে গিয়ে আরও বলা হয়, নোরা শরীফ সুলতান মাহমুদ শরীফের সাথে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন  ১৯৬৮-এর ৩০ সেপ্টেম্বর। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ থেকে ৭৪ এই তিন বছর  স্বামীর সাথে কাটিয়েছেন তিনি। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নোরা পুরোপুরি একজন বাঙালি নারী হিসেবে। আইরিশ, ল্যাটিন ইংরেজি,ফ্রেঞ্চ ও ইটালিয়ান ভাষা জানার পরও  বাঙালির সাথে নোরা কথা বলতেন বাংলাতে। বাসায় ও বাইরের প্রায় সব অনুষ্ঠানে পরতেন শাড়ি।

প্রধান বক্তা সাংবাদিক আব্দুল গাফফার চৌধুরী তাঁর বক্তৃতায় বলেন, নোরা শরীফ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে আইনজীবি পাঠাতে সাহায্য করেছিলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে কাজ করেছেন অনেক। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠনেও অন্যতম উদ্যোক্তার ভূমিকা পালন করেন নোরা।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সুলতান  শরীফ ও নোরা শরীফ দম্পতির দুই কন্যা রাজিয়া এবং ফউজিয়া, নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা আনসার আহমেদ উল্লাহ, বাংলা টিভি’র সিইও সৈয়দ সামাদুল হক, টিভি প্রেজেন্টার উর্মী মাজহার, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক নইমুদ্দিন রিয়াজ, সহ সভাপতি জালাল উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ চৌধুরী, সাজ্জাদ মিয়া, সোরাব আলী, শাহ শামিম, আসম মিসবা, সায়েদ আহমেদ সাদ, হুসনা মাতিন, আঞ্জু মান আরা আঞ্জু , খালেদা কোরেশী, সাজিয়া স্নিগ্ধা, আলতাফুর রহমান মুজাহিদ, খলিল কাজি, মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেইন, লুতফুর রহমান সায়েদ, ইকবাল হোসেন, এনামুল হক এনাম, নির্মূল কমিটি নেতা শাহ বেলাল, রুবি হক, আব্দুল বাসির, মাশুদুল হক রুহুল, কাজি হুসেন, বাবুল হোসেন, ডঃ ফয়জুর রহমান, বাবুল খান, আমিনুল হক জিলু, আব্দুল হেলাল চৌধুরী সেলিম, মাহমুদ আলী, ফয়সল আহমেদ, কামরুল ইসলাম , সজিব ভুঁইয়া, গোলাব আলী, জুবায়ের আহমেদ, মনিরুল ইসলাম মঞ্জু, মজিবুল হক মনি, মজুমদার আলী, কবি নজরুল, এহসান, ফারুক আহমেদ, শাহিন আকতার, নাজমা হুসাইন, নাসিমা রহিম, শাহিন নাহার, সালমা আকতার, রোজি, শাহনাজ সুমি, মিতা কামড়ান, মুনিরা মলি, মিফাতুল নূর,  মাহমুদা মনি, পুষ্পিতা,  জোসনা, জানিফার ও স্মৃতি আজাদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের শাখা  সংগঠনসহ কমিউনিটির সর্ব স্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, নোরা শরিফ ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৭০ বছর বয়সে লন্ডনে মৃত্যুবরণ করেন।নোরা শরীফ এবং সুলতান মাহমুদ শরীফের দুই মেয়ে রাজিয়া, ফওজিয়া, নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে তাঁরা প্রতিষ্ঠিত।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *