উগ্রবাদী চরমপন্থী সন্ত্রাসীরা মানবতার দুশমন


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Akbar hussain  আকবর হোসেন

 

সন্ত্রাস চলছে সারা বিশ্বে। উগ্রবাদী চরমপন্থীরা তাদের ভ্রষ্ট মতবাদের বিষবাস্প ছড়াচ্ছে। তাদের হিংস্র আক্রমণের শিকার হচ্ছে নিরপরাধ মানুষ। উগ্রবাদ এখন একটি সংক্রামক ব্যাধির মতো ধ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সম্প্রতি লন্ডন ওয়েষ্ট মিনষ্টার ব্রিজে খালিদ মাসুদ (রিভার্টেড মুসলিম, পূর্বের নাম এড্রিয়ান রাসেল) নামের একজন সন্ত্রাসী বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে ক্ষতবিক্ষত করলো নিরপরাধ মানুষকে। তারপর পার্লামেন্টের গেটে ছুরির আঘাতে প্রাণ কেড়ে নিলো একজন পুলিশ কর্মকর্তার পরে সেই সন্ত্রাসীও পুলিশের গুলিতে নিহত হলো। পরবর্তীতে নিহত হলেন আরো মানুষ। এসব করে কি পেলো সেই দুস্কৃতিকারী সন্ত্রাসী? ২০০৫ সালের ৭ জুলাই লন্ডনে টিউব ও বাসে আত্মঘাতি সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন ৫৬ জন (সন্ত্রাসীসহ)। তারপর ইষ্ট লন্ডনের ফরেষ্ট গেইটে রাসায়নিক বোমা তৈরি করা হচ্ছে সন্দেহে দু’ভাইকে তাদের ঘরে রেইড দিয়ে গ্রেফতার করা হয়। এটিও একটি বড় নিউজ ছিলো আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়। ঘটনাটি ঘটে ২০০৬ সালের ২ জুন। পরবর্তীতে দু‘ভাইয়ের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের কোন প্রমাণ না পেয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। তারপর ২০১৩ সালের ২২ মে লি রিগবি নামের একজন বৃটিশ সৈন্যকে হত্যা করে মাইকেল ভ্রাতৃদ্বয় (রিভার্টেড মুসলিম)। ৪ বছর পর এবারই ঘটলো আরেকটি সন্ত্রাসী ঘটনা। অবশ্য ইতোমধ্যে আরো ১৫টি সন্ত্রাসী হামলাকে বাস্তবায়িত হবার পূর্বেই নস্যাত করে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। খালিদ মাসুদ কেনো এই হামলা করলো এর মোটিভ নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে। এছাড়া ইস্তাম্বুল, মাদ্রিদ, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, আমেরিকা সর্বত্রই আজ সন্ত্রাস। সে সন্ত্রাস থেকে বাংলাদেশও মুক্ত নয়। ইতোমধ্যে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্নস্থানে উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের আস্তানা গড়ে তোলার খবর মিডিয়ায় আসছে। অবশ্য বাংলাদেশে সন্ত্রাসীদেরকে ‘জঙ্গি’ বলা হয়। জানিনা তারা কোন উদ্দেশ্যে জঙ্গি শব্দ ব্যবহার করেন। জঙ্গি শব্দের অর্থ হচ্ছে যোদ্ধা। আন্তর্জাতিক কোন মিডিয়ায় জঙ্গি বলে না। তারা বলে উগ্রবাদী, চরমপন্থী সন্ত্রাসী। যাক সেকথা। এই ‘জঙ্গিদের’ বিরুদ্ধে চলছে শক্তিশালী অভিযান। যদিও এসব অভিযানের ধরণ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন।
আমরা জানি বৃটেনসহ পাশ্চাত্যে বসবাসরত মুসলমানদের বৃহত্তর অংশটি শান্তিপ্রিয় এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। একেবারেই ক্ষুদ্র একটি বিপথগামী অংশের ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের দায় গোটা কমিউনিটি কেনো নেবে! এটি একটি প্রশ্ন। কোন সন্ত্রাসী ঘটনার পরপরই বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন, মসজিদ ও সেন্টারের পক্ষ থেকে নিন্দা জানানো হয় এবং এর সাথে যে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই তা’ জোরালো কন্ঠেই উচ্চারিত হয়। কিন্তু এভাবে নিন্দা জানালেই দায়ভার এড়ানো যায় না বলে মিডিয়াতে প্রায়ই অভিযোগ শুনা যায়। তাদের বক্তব্য হচ্ছে এজন্য মুসলিম কমিউনিটির আরো কিছু করা উচিত যাতে তরুণতরুনীরা বিভ্রান্ত হয়ে চরমপন্থী হতে না পারে। এজন্য সরকার নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। এমনিতেই মসজিদের মিম্বর থেকে প্রায়ই ইমামদের পক্ষ থেকে খুতবা ও ওয়াজ নসীহতে মুসলমানদেরকে নামাজরোজা সহ যাবতীয় ইবাদাত পালন করতে এবং সবার সাথে মিলেমিশে সামাজিকভাবে ইসলাম নির্দেশিত পথে জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করা হয়। বলা হচ্ছে সন্ত্রাসের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। সন্ত্রাসীরা মানবতার দুশমন। পবিত্র কোরআনের রেফারেন্স দিয়ে বলা হয় অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা যেনো গোটা মানব জাতিকে হত্যার সমতুল্য। আর একজনের জীবন রক্ষা করা মানে গোটা মানবজাতির জীবন রক্ষা করা। মসজিদ থেকে কখনোই হোষ্ট কমিউনিটির প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। মুসলিম কমিউনিটি সব সময়ই এপোলজেটিক। অথচ সাদা বর্ণবাদী চরমপন্থীরা কিন্তু প্রতিনিয়তই ইসলাম, মুসলিম, হালাল, হিজাব ইত্যাদি নিয়ে কটাক্ষ ও ব্যঙ্গবিদ্রুপ করে। কোন সন্ত্রাসী হামলার পর তাদের আক্রমণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে মসজিদ-মাদ্রাসায় হামলা হয় ও হিজাবধারী মহিলারা তাদের আক্রমণের শিকার হন। এই সেদিনও ইংলিশ ডিফেন্স লীগ (ইডিএল) ও বৃটেন ফাষ্ট লন্ডনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। ইষ্ট লন্ডন মসজিদেতো তারা প্রায়ই বিক্ষোভ জানাতে সমবেত হয়। কিন্তু এসকল বর্ণবাদীদের বিরুদ্ধে হোষ্ট কমিউনিটি বরাবরই সোচ্চার। তারা মুসলিমসহ অন্যান্য ফেইথ কমিউনিটির সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে এদের মোকাবেলায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৃটেনের ফরেন পলিসির কারণে এখানে উগ্রবাদ বাড়ছে। কারণ মুসলিম দেশগুলোর উপর আমেরিকা ও বৃটেনের আক্রমণের ঘটনাগুলো মুসলিম তরুণ তরুণীদের ভীষণ ক্ষেপিয়ে তুলছে। তারা দেখছে চোখের সামনে হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যা করা হচ্ছে, মুসলিম দেশগুলোর স্বৈরশাসকদের (অপছন্দনীয়) সরিয়ে দেশগুলোকে কব্জা করা হচ্ছে। পাশ্চাত্যের দেশগুলি গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কর্ণধার বলে দাবী করলেও মুসলিম দেশগুলোতে তারা নিজেদের পছন্দের স্বৈরাশাসকদের বিরুদ্ধে শক্ত ভূমিকা রাখে না। মিশরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মুরসীকে অন্যায়ভাবে সরিয়ে সেনাপ্রধানকে ক্ষমতায় আনা হলো। কেউ কিছু বললো না। এ সকল ডাবল ষ্ট্যান্ডার্ডের কারণে উগ্রবাদ বাড়ছে বলে অনেকেরই ধারণা। অপরদিকে বলা হচ্ছে, যারা এসব করছে তাদের কাজকর্ম নেই, শিক্ষাদীক্ষা তেমন নেই, তারা সমাজের নানা সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তারা হতাশ আর এই হতাশা থেকে তারা এই পথে ধাবিত হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের ব্রেইন ওয়াশ করার জন্য একদল কাজ করছে। বিশেষ করে ইন্টারনেটে আজকাল উগ্রবাদী তথ্য ছেড়ে দিয়ে তরুণ তরুণীদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। আইএস নামের বিষধর সাপের কালো থাবা পড়েছে তরুণতরুণীদের উপর। এই আইএস কারা তৈরি করেছে তা’ এখন আর বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন নেই। এরা কার কাছ থেকে অর্থ ও সহযোগিতা পায় তা’ ভালো করে খতিয়ে দেখতে হবে।
বিভিন্ন ঘটনায় দেখা গেছে সন্ত্রাসীরা আল্লাহর নাম নিয়ে আক্রমণ চালায়। তারা অমুসলমানদের হত্যা করতে চায় এমনকি তারা তাদের বিরুদ্ধমতের মুসলমানদেরকেও সহ্য করতে পারেনা। মুসলিম স্কলারদের কেউ কেউ এ সকল সন্ত্রাসীদের হটলিষ্টে আছেন। তারা তাদের হত্যার হুমকি দিয়েছে। মুসলিম নামধারী চরমপন্থীরা মনে করে তারাই একমাত্র সত্যিকার মুসলিম! তারা এভাবে বোমা মেরে জিহাদ করে সহজে বেহেশতে চলে যাবে! জিহাদের মানে তাদের কাছে হলো হত্যাকান্ড! যেখানে পাও অমুসলিমদের হত্যা করো! আসলে এরা ইসলামের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষাকে আজ বিরাট প্রশ্নবোধক চিহ্ন দিয়ে দিচ্ছে। তারা জিহাদের ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। অথচ পবিত্র কোরআনে ক্বতলকে হত্যা অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে (পৃথিবীর সকল ধর্মগ্রন্থেই যুদ্ধবিগ্রহের বর্ণনা আছে)। বিপথগামীরা ভুলে গেছে নিজের নফস (প্রবৃত্তি) এর বিরুদ্ধে জিহাদই সর্বোত্তম জিহাদ। জিহাদ অর্থ হচ্ছে আল্লাহর পথে সর্বোচ্চ চেষ্টা সাধনা। পবিত্র কোরআনকে বুঝতে হবে কনটেক্সট দিয়ে, শুধুমাত্র শাব্দিক অর্থ দিয়ে কিংবা পূর্বের এবং পরের আয়াতের অর্থ বাদ দিয়ে অর্থ পুরোপুরি হৃদয়ঙ্গম করা যাবেনা। এজন্য বিশেষজ্ঞ আলেমদের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ অধ্যয়ন করতে হবে। কিন্তু তারা এর ধারেকাছেও নেই। ৭/৭, লী রিগবী হত্যাকান্ড এবং সাম্প্রতিক ওয়েষ্ট মিনষ্টারের ঘটনায় ধর্মান্তরিত মুসলিম জড়িত। এনিয়েও জনমনে যথেষ্ট প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।
একথা অস্বীকার করার জো নেই যে, সাম্প্রতিক সময়ে যেখানেই সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটছে বেশিরভাগ ঘটনায় মুসলিম নামধারীরা জড়িত থাকার কথা মিডিয়ায় আসছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমরা যতোই দায় এড়ানোর চেষ্টা করিনা কেনো, ঘুরে ফিরে এই অপবাদ আমাদের কমিউনিটির উপরই এসে পড়ছে। আর মিডিয়া এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বলা হয় এটা ‘ইসলামীক সন্ত্রাসী’ কিংবা ‘রেডিক্যাল ইসলামিষ্ট’। তারা এজাতীয় খবর ফলাও করে প্রচার করে। কোন সন্ত্রাসী যখন মুসলমান হয় তখন তার ধর্মের নাম ব্যবহৃত হয়। কিন্তু সন্ত্রাসী অন্য ধর্মের হলে তখন শুধু তার নামটাই আসে ধর্মীয় পরিচয় আসে না। এন্ডার্স ব্রিভিক নরওয়েতে সন্ত্রাসী হামলা করে ৭৭জনকে হত্যা করলো সেখানে তার ধর্মের নাম আসেনি। আমেরিকায় স্কুলে হামলা করে ছাত্রছাত্রী হত্যা করলেও কোন ধর্মের নাম আসেনা। সেসব ঘটনায় শুধু অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত হয় অথচ মুসলিম হলে চৌদ্দগোষ্টি উদ্ধার করা হয়। নিউজ ষ্টোরির কোন শেষ নেই। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নৃশংস ঘটনাগুলোকে তুলে ধরা হয়। এসব দেখে একজন সাধারণ মুসলিম নিজেকে খুবই অসহায় মনে করে। প্রতিবাদ করলেও কোন কাজ হয়না।

ওয়েষ্ট মিনষ্টার এর ঘটনায় বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ও লন্ডন মেয়রের ভূমিকা সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে। পরদিন থেকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পথে চলেছে বৃটেন। পার্লামেন্ট বসেছে, অফিস আদালত সিটি হল সবই খোলা ছিলো। এই সন্ত্রাসী হামলাকে প্রধানমন্ত্রী ‘ইসলামিক সন্ত্রাসী বা চরমপন্থী’ আক্রমণ বলে আখ্যায়িত করেননি। তদন্তের আগে এখানে কোন দোষাদোষির প্রতিযোগিতা দেখা যায়নি যা’ সচরাচর আমাদের বাংলাদেশে দেখা যায়। যেভাবে ব্যাকল্যাশ (প্রতিক্রিয়া) হবার আশংকা ছিলো সেরকম কিছু হয়নি। তবে ক্রয়ডনে একজন এসাইলামসিকারের উপর আক্রমণ হয়েছে। বরাবরের মতো কিছু হেইটক্রাইমের খবর পাওয়া গেছে। তবে যে যা-ই বলুক বৃটেন বৃটেনই। এখানে একটি মাল্টিকালচারাল সোসাইটি আছে। বিশেষ করে লন্ডনে সব ধর্ম ও মতের মানুষ বিশ্বাসী অবিশ্বাসী সবাই মিলেমিশে বসবাস করছেন। লন্ডন মেয়র সাদিক খান ঠিকই বলেছেন এই শহর হচ্ছে একটি গ্রেট সিটি। ওয়েষ্ট মিনষ্টারে সন্ত্রাসী ঘটনার পর মেয়রের আহবানে ট্রাফালগার স্কোয়ারে সমবেত হয়েছিলেন জাতি বর্ণ ধর্ম নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ। সবারই একই দৃষ্টিভঙ্গি, এখানে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের কোন স্থান নেই। সন্ত্রাসীরা জাতির ঐক্যের মাঝে কোন ফাটল ধরাতে পারবেনা। শান্তি ও নিরপত্তার জন্য মানুষ এখানে বাস করে। আইনের শাসন রয়েছে এখানে। মানুষের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা রয়েছে। একজন ইসলামিক স্কলারতো তার এক খুতবায় বৃটেনকে দশটি কারণে অন্যান্য মুসলিম দেশের চাইতেও উত্তম বলে আখ্যায়িত করেছেন। এলবিসি (লন্ডন বিগ ডিবেইট) রেডিওতে একজন মুসলিম মহিলা তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন এই ঘটনায় মুসলিম হিসেবে তিনি খুবই লজ্জিত। শরীয়া আইন নিয়ে তার আক্ষেপের অভিব্যক্তি এভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি বলেছেন, যে এনএইচএস আমার চিকিৎসা দেয়, সরকার থাকার ঘর দেয়, সোশ্যাল সিকিউরিটি দেয় এটা কী শরীয়া নয়?
নিরাপত্তাহীনতা যেনো আজ ঘিরে ফেলেছে চারদিক। এর সাথে রয়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়া, ইয়ামেনে প্রতিনিয়ত আক্রমণ, সংঘাত ও প্রাণহানির খবর। সন্ত্রাসবাদ নির্দিষ্ট কোন দেশে আজ সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিদিনই দুনিয়ার কোথাও না কোথাও ঘটছে সন্ত্রাসী হামলা। আজকেও রাশিয়ায় মেট্রোতে হামলার খবর এসেছে। সিরিয়ায় আসাদ বাহিনী অগণিত মানুষকে হত্যা করছে। সে তার জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করছে আর সারা বিশ্ব শুধু তাকিয়ে দেখছে। স্বৈরাচারী আসাদের বিরুদ্ধে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কোন শক্তিশালী অবস্থান নেই। ফিলিস্তিনের উপর ইজরাইলের আগ্রাসন এতোই চরমে উঠেছে যে, অদুর ভবিষ্যতে হয়তো ফিলিস্তিন নামের যে একটি ভূখন্ড ছিলো তাও হয়তো একদিন ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হবে। এই ভয়াবহ বিশ্ব পরিস্থিতিতে মানবতা আজ আতংকিত! চরম অস্বস্থিতে ভুগছি আমরা সবাই। কোথায় কখন কি ঘটতে যাচ্ছে সেই খবরই যেনো বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেডিও, টেলিভিশন, সোশ্যাল মিডিয়ায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের খবরের প্রাধান্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। মিডিয়ায় কোন ভাল খবর নেই। যুদ্ধ, গোলাগুলি, ধ্বংসযজ্ঞই যেনো দুনিয়ার মানুষের নিত্যদিনের সাথী। অথচ আমরাতো শান্তি চাই, যুদ্ধ চাই না। নিরাপত্তা চাই, ভয়-ভীতি ও সন্ত্রাস চাই না। পারস্পরিক মতপার্থক্য থাকা সত্বেও একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ দেখাতে চাই, মিলেমিশে থাকতে চাই। উগ্রবাদ নয় মধ্যপন্থা চাই। আমরা ধ্বংস চাই না কল্যাণ চাই। এই সন্ত্রাসীরা বিশ্বময় ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। তারা মানুষের মাঝে হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি ও সংঘাত সৃষ্টি করে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়। আজকে যারা সন্ত্রাস করে মানুষ হত্যা করছে তারা আসলেই মানবতার দুশমন। এদের কোন ধর্ম নেই। এরা দুষ্কৃতিকারী, মতলববাজ, এরা ধর্মের খোলস পরেছে। জিহাদের নামে সন্ত্রাস করে শান্তি ও মানবতার ধর্ম ইসলামকে কলংকিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের কথা হচ্ছে সন্ত্রাসের আসল কারণ চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে যথার্থ পদক্ষেপ নিন। শুধুমাত্র তথাকথিত ‘ইসলামী মৌলবাদের’ জুজুর ভয় দেখালে কোন কাজ হবেনা।

লন্ডন, ৪ঠা এপ্রিল’২০১৭

লেখক: আকবর হোসেইন, সাংবাদিক
akbargermany@hotmail.com

5th April’ 2017, 13:53 BST

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *