ঐতিহাসিক সেই ভোর দেখেছি আমি


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

1083DFED-C457-4BEA-B08C-5AA0F6914DCA চৌধুরী ফরহাদ

আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, দেখিনি স্বাধীনতার রক্তিম সেই ভোর ৷
হ্যা, আমি একটি নতুন ভোর দেখেছিলাম, স্বৈরাচারের পতনে জনতার বিজয় উল্লাস দেখেছিলাম_________

৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ ৷ এক নতুন ভোর । আমার বাবা আমাকে ঘুম থেকে জোর করে টেনে তুললেন আর বললেন বাবা উঠো আজ নতুন ভোর দেখবো, ইতিহাসের স্বাক্ষী হবো ৷ ৫ বছরের ছোট্ট শিশু আমি…….বাবার কথা গুলোর মানে বুঝতে পারিনি, বুঝতে পারার কথাও নয়।

ঘুমঘোর চোখে বাবার দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবছি এই নতুন ভোরটা আবার কি ???

এমনি কোন কোন ভোরে একুশের প্রভাত ফেরীতে কিংবা ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে অথবা ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসে পুষ্পস্তবক প্রদানের জন্য বাবার কোলে চড়ে গিয়েছিলাম, তাই পূর্ব অভিজ্ঞতার সূত্রে ধরে নিলাম আজ প্রভাত ফেরী হবে, আজও শহীদ মিনারে যাচ্ছি…………….।

চারিদিকে আতসবাজী চলছে, মানুষের আনন্দ-উল্লাস আর স্লোগানে মুখরিত পরিবেশ । আমার বাবা কোলে তুলে নিয়ে শহীদ মিনারের দিকেই যাচ্ছেন……………….। শহীদ মিনারের পাশের মাঠে দেখলাম বিশাল লম্বা লাইনে মানুষ দাঁড়িয়ে আছে……আজ আর সবার সামনে শহীদ মিনার নয়!!!! দেখলাম খড়কুটো দিয়ে বানানো ৪/৫ টি কুশপুত্তলিকা (আমাদের আঞ্চলিক ভাষায় খড়ের ভূত বলে) ।
ঐ কুশপুত্তলিকার বুকে লিখা ছিল-

“আমি বিশ্ব বেহায়া স্বৈরাচার”

বাবার বাম রাজনীতির সূত্রে তখনকার একটি জনপ্রিয় স্লোগান ” স্বৈরাচার নিপাত যাক-গণতন্ত্র মুক্তি পাক ” শব্দগুলো মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল ।

তো ঐ কুশপুত্তলিকার পিছনে লোকজন এক এক করে লাথি দিচ্ছে সাথে একটি করে টাকা দিচ্ছে……..! এক লাথি এক টাকা, দুই লাথি দুই টাকা………… 😂
এসব দেখে আমার শিশু মনে বেশ আনন্দই হচ্ছিল,,,,,,, এক নতুন অভিজ্ঞতা ।

কিছুক্ষন পরে আমার মায়ের এক সম্পর্কে নানা আর আমার কাকা অ্যাডভেকেট আবদুল হামিদ সাহেব ( বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ) আসলেন । তিনি তার চিরায়ত ভঙ্গিমায় সবাইকে বক্তব্যের মাধ্যমে হাঁসাতে লাগলেন । তা দেখে আমারও বেশ মজা লাগছে । কিন্তু আচমকা আমার বেগতিক অবস্থা, প্রকৃতির ডাকা-ডাকি শুরু হওয়াতে আমি কাহিল হয়ে পড়েছি । মূত্র বিসর্জন আবশ্যিক হয়ে দাঁড়ায়….. বাবাকে কানে কানে বললাম হিস্যু করবো ।
আবদুল হামিদ কাকা তাই দেখে বাবাকে জিজ্ঞাস করলেন বাপ-ব্যাটা কানাকানি করে কি কয়……..?
আব্বা হেঁসে বললেন বাপ আমার মূত্র বিসর্জন দিবে…..।
এই কথা শুনা মাত্রই আবদুল হামিদ সাহেব আমাকে কোলে তুলে নিয়ে বললে-
আয় ব্যাডা তোকে জায়গা মতই মূত্র বিসর্জন করাইতেছি….. এই বলে স্বৈরশাসক এরশাদের প্রতিমূর্তির কাছে নিয়ে গেলেন আর বলেন এটার উপর কাম সারো……..!!!!
আমি তো লজ্জায় শেষ, বলে কি ?????
কিন্তু কি আর করা অবস্থা বেগতিক, উনি প্যান্টের জিপার খোলে দিয়ে পতিত স্বৈরশাসক বিশ্ব বেহায়া এরশাদের প্রতিমূর্তিতে মূত্র বিসর্জন করালেন ।
কিন্তু ব্যাপারটা কি ??? আমি মূত্র বিসর্জন করি তাই দেখে আর বাকী সবাই উল্লাস করে কেন????

যাক, আমি জটিল মজাই পেয়েছিলাম বটে । স্মৃতিরোমন্থন করার মত ঘটনাবহুল দিন ।

আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখি নাই,
দেখি নাই স্বাধীনতার রক্তিম ভোর ৷

হ্যা, আমি একটি নতুন ভোর দেখেছিলাম,
স্বৈরাচার এরশাদের পতনে জনতার বিজয় উল্লাস দেখেছিলাম,
একটি ঐতিহাসিক দিনের স্বাক্ষী হয়েছিলাম………………..!!!!!!!!!

তৎপর দেখেছি সম্ভাবনাময় ভোরের সর্বনাশ,
ঘুনে ধরা গণতন্ত্রের নমুনা দেখেছি বিএনপি পোকা, আওয়ামীলীগ পোঁকা
দেখছি কফিন বন্দী গণতন্ত্রের লাশ ।

আফসোস……………………….!
ইচ্ছে করে আজ মহামন্য রাষ্ট্রপতিকে জিজ্ঞাসা করি, সেই নতুন ভোরের কথা । এই কি তবে ইতিহাস ?????? এর জন্যই কি ছিলো তার উল্লাসের কারন ?????

গণতন্ত্র কি সেই দিন মুক্তি পেয়েছিল……. নাকি শিকল পড়ানোর নাটক মঞ্চস্থ হয়েছিলো ।

চৌধুরী ফরহাদ: বাম রাজনীতিক, সাবেক ছাত্রনেতা

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *