সেনা মোতায়েন ২৪ অথবা ২৬ ডিসেম্বর


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

ঢাকাঃ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ২৪ থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে মাঠপর্যায়ে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হবে।আগামী ১ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবে।

আজ বুধবার ইসির যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত নির্বাচনে নির্বাহী হাকিম নিয়োগসংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কমিশনের এক বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা ইসি সূত্রে জানা গেছে।ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান বলেন,১৫ ডিসেম্বর থেকে সেনাবাহিনী মাঠে নেমে রেকি করা শুরু করবে।তবে তারা ২৪ থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে মাঠে নেমে পুরোদমে নির্বাচনী কাজ শুরু করবে।একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হবে সেনাবাহিনীর প্রতিটি টিমের সঙ্গে।ইসি থেকে এসব নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব (নির্বাচন পরিচালনা -২) ফরহাদ আহম্মদ খান বলেন,আগামীকাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ইসির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আছে।ওই বৈঠকে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনী কতদিন মাঠে অবস্থান করবেন সে বিষযে সিদ্ধান্ত হবে।বাহিনীগুলোর সঙ্গে এরই মধ্যে বেশ কিছু বৈঠক হয়েছে।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে পাঠানো ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে,৩০ ডিসেম্বর তারিখে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।মোবাইল কোর্ট আইন,২০০৯ এর আওতায় আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সারা দেশে নির্বাহী হাকিম নিয়োগ করা হয়েছে।আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকার সার্বিক শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা,অপরাধ প্রতিরোধের জন্য ভোট গ্রহণের দুইদিন আগে থেকে ভোট গ্রহণের পরদিন অর্থাৎ ২৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাহী হাকিম নিয়োগ করা প্রয়োজন।সেই সঙ্গে ২৪-২৬ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত মোতায়েনকৃত সশস্ত্র বাহিনী,বিজিবি,কোস্টগার্ড,ব্যাটালিয়ন আনসারের মোবাইল/স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে একজন করে নির্বাহী হাকিম নিয়োগের প্রয়োজন হবে।

চিঠিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জনপ্রশাসন বিভাগের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদের সচিব,সব মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব/সচিব,পুলিশের মহাপরিদর্শক,সব বিভাগীয় কমিশনার,জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে এই চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়,সশস্ত্র বাহিনী ঠিক কবে থেকে মোতায়েন হবে,বিষয়টি আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা-বিষয়ক বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে।এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছিলেন,১৬ ডিসেম্বর থেকে সেনাবাহিনীর ছোট ছোট কয়েকটি দল জেলা পর্যায়ে যাবে এবং সেখানে তারা কোথায় অবস্থান করবে,তা পর্যবেক্ষণ করবে।

তবে বিএনপিসহ অন্য বিরোধী দলগুলো আগে থেকেই নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়ে আসছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের ওপর হামলা থামাতে আজকে থেকেই সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।রিজভী বলেন,আমরা জানতে পেরেছি আগামী ২৩ ডিসেম্বর সেনা মোতায়েনের তারিখ ধার্য করা হয়েছে।আমরা শুনতে পেয়েছি,এই তারিখটিও আরো পেছানোর ষড়যন্ত্র চলছে।সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে নির্বাচনী মাঠ ফাঁকা করার জন্যই সেনাবাহিনী মোতায়েনে বিলম্ব করছে।সরকারের মদদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সন্ত্রাসীরা যৌথভাবে ধানের শীষের প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর নগ্ন হামলা ও সেনাবাহিনী মোতায়েনের তারিখ পেছানো ষড়যন্ত্রমূলক।আমি চলমান নির্বাচনী সহিংসতা ও সন্ত্রাস দমনে আজ থেকেই সারাদেশে সেনা মোতায়েনের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *