এদেশ আপনাদের দিলাম, দিলাম স্বাধীনতার গান, কবিতাও


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

IMG_2734 জেসমিন চৌধুরী

 

 

 

 

নারী এবং মানবতার প্রতি অপমানসূচক সামাজিক প্রথা আর রীতিনীতির বিরুদ্ধে দু’চারটা নিবন্ধ আর একটা ‘নিষিদ্ধ দিনলিপি’ লিখে সাহসী নারী হিসেবে বেশ খানিকটা সুনাম কুড়িয়ে নিয়েছি হয়তো, কিন্তু দিনের শেষে নিজের মুখোমুখি হলে আমার বেশ রাগ আর লজ্জাই লাগে।

আজো পুরো ঝেড়ে কাশার সাহস অর্জন করতে পারিনি। আজো লেখার সময় অনেক শব্দ ভেবেচিন্তে বদলে দেই কারণ রক্তের ভালবাসা, বন্ধুত্বের আনন্দ, অনুমোদনের আকাঙ্ক্ষা থেকে মুক্ত হতে পারিনি এখনো। আড়ালে আবডালে ঘাপটি মেরে থাকা, স্ট্যাটাসে লাইক/কমেন্ট না করা চোখগুলোকে এড়াতে শিখিনি এখনো। ইনবক্সে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মাঝে মধ্যে নিজের স্ট্যাটাস এডিট করতে হয় এখনো। মানুষ ছাড়া আর কিছু হতে চাইনি কখনো, অথচ মানুষ হতে পারিনি এখনো।

বড় সখ মৃত্যুর আগে একটা বার, শুধু একটা বার মানুষ হবো।

Info lady Farhana is discussing in farmer’s session with farmers and showing them useful video content about fertilizer as well an awareness building video about arsenic. mothor para, Ghori doho, Gaibanda
ফিচার ও টেক্স বক্স, দুটো ছবিই ইন্টারনেট থেকে নেয়া

আব্দুর রাজ্জাক নামের একজন ইসলামী ওলামা যখন বাংলাদেশের মাটিতে জনসভা ডেকে অন্য সব ধর্মের বরাত দিয়ে প্রকাশ্যে বলে- নারীর জন্মই একটা কলংক এবং পাপ, নারী পরিবারের সম্পত্তি, নির্যাতিত হলেও তাকে পুরুষের পদানত হয়েই থাকতে হবে, প্রয়োজনে তাকে বিক্রি করে দেবার অধিকার রাখে পুরুষ, তখনো এর প্রতিবাদে লিখবো কি না তা নিয়ে খানিকটা চিন্তা করতে হয়। কারন একজন কাটমোল্লার মুখ থেকে এত জগন্য মন্তব্য বের হওয়ার পরও যখন দেখি  এর প্রতিবাদে ফেটে পড়ে না আমার ‘প্রিয়’ স্বাধীন বাংলাদেশ, তখন একা এই যুদ্ধে নামবো কি না তানিয়ে তো খানিকটা চিন্তা করতেই হয়। অবশ্য এসব মুহূর্তে হতবুদ্ধি হলেও ঠিক অবাক হই না। এদেশের ধর্মভীরু ‘মানুষদের’ কাছ থেকে এর বেশি কিছু আশাও করি না। মাথায় টুপি, চিবুকে দাঁড়ি- এমন একটা লোক যখন অন্য সব ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলছে, তখন এখানে বিবেকের, যুক্তির, মানবতার স্থান কোথায়?

এই লোক খোলামেলা সকল ধর্মকে অপমান করেছে, নারীকে অপমান করেই চলেছে অথচ তার কোনো শাস্তি হয়নি। যে দেশে ইসলাম ধর্ম নিয়ে বিন্দুমাত্র সমালোচনা করলে আইনের আওতায় পড়তে হয় মানুষকে, সেই দেশে এইসব ধর্মব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইন, আদালত, রাজনীতিবিদ, সুশিল এবং সৃজনশীল ব্যক্তিরা সকলেই নীরব থাকেন। দুই লক্ষ মা বোনের ‘ইজ্জত হারানো’ নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটা হয় যে দেশে, যে দেশের প্রধানমন্ত্রী/বিরোধী দলের নেত্রী/স্পিকার নারী হওয়া সত্ত্বেও এইসব নারী-বিদ্বেষ মূলক প্রচারণা চলতে পারে, সেই দেশ কখনোই স্বাধীন নয়, সার্বভৌম নয়। সেই দেশের স্বাধীনতা আমার কাছে একটা কৌতুক মাত্র। এই দেশ আপনাদের দিলাম আজ থেকে। স্বাধীনতার গান কবিতা সব দিলাম আপনাদের।

আর আমার যেসব বোদ্ধা ফেসবুক ‘বন্ধুরা’ নারী অধিকার বিষয়ক আমার প্রতিটি লেখায় এসে পন্ডিতি ফলান, কিন্তু এসব পোস্ট ছুঁয়েও দেখেন না, তাদের প্রতি পরামর্শ- আব্দুর রাজ্জাকের পা ধুয়ে পানি খান গিয়ে। বেহেস্তে একটা বিলাস বহুল কামরা একদম পাক্কা হয়ে যাবে।

অনেকে বলছেন, সে বলেছে অন্য ধর্মে নারীকে এভাবে দেখা হয়ে থাকে, ইসলামে নয়। সে ক্ষেত্রেও অন্য ধর্ম সম্পর্কে মিথ্যে তথ্য দেয়ায় এই লোকের শাস্তি হওয়া উচিৎ। শাস্তি প্রয়োজন মিথ্যাচারীতা এবং সমালোচনার অজুহাতে এইসব অকথ্য কথা বলার জন্য।

জেসমিন চৌধুরী: সত্যবাণী’র ফিচার করেসপন্ডেন্ট

7th April’2017, 15:51 BST

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *