বোরো আবাদ নিয়ে কৃষকেরা শঙ্কায় জগন্নাথপুরে হাওরজুড়ে পানি সংকট


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

শামীম আহমদ তালুকদার
সত্যবাণী

সুনামগঞ্জ থেকেঃ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে হাওরজুড়ে পানি সংকট থাকায় চলতি বোরো ফসলের চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকেরা। হাওর এলাকায় খাল বিল জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে হাওরে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে।জেলার অন্যতম বৃহৎ হাওর নলুয়া ও মইয়ার হাওরে পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে কৃষকরা জানান। জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুরের সর্ববৃহৎ নলুয়া হাওরসহ উপজেলার ছোট বড় কমপক্ষে ১৫টি হাওরে এবার ২০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হচ্ছে। গতকাল রোববার সরেজমিনে হাওর ঘুরে দেখা যায়,কৃষকেরা এখন জমিতে চারা রোপন করছেন।

নলুয়া ও মইয়ার হাওরে চারা রোপন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চারা রোপনের পর এসব জমিতে পানি দিতে হয়।পানি সংকটের কারণে কৃষকরা বেকায়দায় পড়েছেন।নলুয়ার হাওর এলাকায় নয়াচিলাউড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন,আবাদের শুরুতেই পানি সংকটে পড়েছি।এর মধ্যে কিছু জমিতে পানির অভাবে চারা লালচে হতে চলেছে। সঠিক সময়ের মধ্যে যদি পানি না পাওয়া যায় তাহলে গোলায় হয়তো এবার ফসল তুলা হবেনা না।যাত্রাপাশা গ্রামের কৃষক বকুল গোপ বলেন,চারা রোপনের পর জমির আশেপাশে পানি না থাকায় জমিতে সেচ দিতে পারছিনা। হাওর এলাকার খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়াতে পানি সংকট দেখা দিয়েছে। জমির দেড় কিলোমিটার দূরে থাকা রৌয়া বিল থেকে পানি আনতে গেলে বিলের ইজারাদাররা মাছ ধরার সুবিধার জন্য বাধা দিচ্ছে। আবার অনেক বিল পুরোপুরি শুকিয়ে মাছ ধরার কারণে পানির সংকটে পড়তে হচ্ছে।

নলুয়া হাওরেরপাড়ের কৃষক নেতা সিদ্দিকুর রহমান জানান, হাওর এলাকার খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়া ও বিল শুকিয়ে মাছ ধরার কারণে কৃষকরা বোরো চাষাবাদে পানির সংকটে পড়ছেন।তিনি আরো বলেন, মৎস্য ব্যবসায়ীরা মাছ ধরার জন্য নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে জলমহাল শুকিয়ে মাছ ধরার জন্য পানির সংকট দেখা দেয়। পৌর এলাকার ভবানীপুর গ্রামের কৃষক আফছর উদ্দিন জানান,সময়মতো চারায় পানি দিতে না পারলে চারা ক্ষতিগস্ত হয়ে পড়ে।যথাসময়ে চারায় পানি পড়লে দ্রুত চারা বাড়তে থাকে।ফলন ভাল হয়।জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার হাওরে পানির সংকট নেই জানিয়ে বলেন,কিছুটা সমস্যা ছিল আমরা সমাধান করে দিয়েছি।জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহ্ফুজুল আলম মাসুম জানান,শুকনো মৌসুমে পানি কম থাকে।হাওর এলাকায় জলমহাল শুকিয়ে মাছ ধরার নিয়ম নেই।উপজেলা মৎস কর্মকর্তা তদারকি করছেন। এধরনের অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *