এবারও হাওরডুবির আশংকা ১২১ ক্লোজার-৪ টিতে কাজ শুরু


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

শামীম আহমদ তালুকদার
সত্যবাণী

সুনামগঞ্জ থেকেঃ সুনামগঞ্জ জেলার ৩৭ টি বড় হাওরের ১২১ ক্লোজারের মধ্যে ৪ টিতে কাজ শুরু হয়েছে মাত্র। ২০১৭ সালে দেশব্যাপি মর্মস্পর্শি বিষয় ছিল জেলার হাওরডুবি’র ঘটনা।ধানে গোটা আসার আগেই সব কয়টি হাওর ডুবে গিয়েছিল।মহামান্য রাষ্ট্রপতি,মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলরা বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।ওই বছর প্রথমেই (২৩ ফেব্রুয়ারি) ধর্মপশার চন্দ্র সোনার তাল হাওরে পানি ঢুকেছিল।হাওরের শয়তানখালী ক্লোজারে নামে মাত্র কাজ হওয়ায় ওই অংশ দিয়েই পানি পানি প্রবেশ করে হাওর ডুবেছিল।

হাওরপাড়ের রাজাপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল ওয়াহিদ জানান,ফেব্রুয়ারি’র প্রথম দিকেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছিল এবং ভরাট হয়ে যাওয়া ধনু নদী’র পানি শয়তানখালি’র বাঁধ না হওয়া অংশ দিয়ে ঢুকে চন্দ্র সোনারতাল হাওর তলিয়ে যায়।এবারও এমন আশংকাই করছেন কৃষকরা।এখনও পিআইসি গঠন হয়নি।ক্লোজারে কাজও শুরু হয়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্য সাদেকুর রহমান জানান,২-১ দিনের মধ্যে কাজ শুরু করা গেলে সময়মত কাজ শেষ করা যেতে পারে।২০১৭ সালে চন্দ্র সোনার তাল হাওরের পরেই ডুবেছিল জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওর।২৯ মার্চ নলুয়ার হাওরের মাছুখালি ও ডুমাইখালি ক্লোজার দিয়ে পানি ঢুকে বিশাল এই হাওরের ফসল ডুবেছিল।এরপর ওই বছর একে একে জেলার সব কয়টি বড় হাওরে পানি ঢুকে ডুবেছিল কাঁচা ধান। স্থানীয় ইউপি সদস্য সুজাত মিয়া জানান, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাছুখালি ও ডুবাইখালি’র বাঁধের কাজ শুরু হয়েছিল।

হাওরপাড়ের বুরাখালী গ্রামের আশিক মিয়া জানান,এবারও ওই বছরের অবস্থাই হতে পারে।এখনও বাঁধের কাজের কোন নড়াচড়াই নেই।জানা যায়,জেলার ৩৭ টি হাওরের ১২১ টি ক্লোজার হচ্ছে জামালগঞ্জ,তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রহমতপুরের ভাঙা,সাহেবনগর,নয়াবারুংকা,মাসুকের খাড়া,বাড়কুড়ি ভাঙা,জামালগঞ্জের মহালিয়া হাওরের নোয়াগাঁও ক্লোজার-১,নোয়াগাঁও ক্লোজার-৩, পাগনার হাওরের মুচিবাড়ী,গজারিয়া,মোড়লপুর,কাউয়ার বাঁধ, ফুলিয়াটানা, ও মিনি পাগনার হাওরের যশমন্তপুরের ভাঙা,হালির হাওরের বিশ্বম্ভরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলার কালাগাঙ ক্লোজার, কোপাগাঙের ভাঙা, লক্ষীপুরের ভাঙা,হেরাকান্দি,মাহমুদপুরের ক্লোজার, সাচনার খালের ভাঙা, মাটিয়ান হাওরের তাহিরপুর উপজেলার উমেদপুর ও রতনশ্রী গ্রামের মধ্যবর্তী অংশ, মেশিন বাড়ি, টাকাটুকি গাজিপুর, ছিলাইন তাহিরপুরের ভাঙা, নাইন্দার ভাঙা, শ্রীপুরের ভাঙা, গুরমার হাওরের ধর্মপাশা উপজেলার পাশুয়া, জিনারিয়ার ভাঙা ও কইন্নার খাড়ার ভাঙা,কাইল্যানী হাওরের ধর্মপাশার টঙ্গীবাঁধ,শাহ্পুরের ভাঙা, মাছিমপুর পাঠান বাড়ীর ভাঙা,ধর্মপাশার ঘোড়াডোবা হাওরের ফুলদোয়ারী,জমশেদপুর, আখড়া,শাইল্যানী ও মরিচাউড়ী। গুরমার বর্ধিতাংশের ধর্মপাশা উপজেলার লাঙ্গলজোড়া,হান্নানখালী,সোনামোড়ল হাওরের ধর্মপাশার কুকুরমারা, রাজনার ভিটা,আজরাখালী,জারারকোনা ও কয়রানী।

চন্দ্রসোনার তাল হাওরের ধর্মপাশা উপজেলার মারাদারীয়া-শয়তানখালী, উল্লাষখালী, ডুবাইল, আলীপুরের ভাঙা, গাগলাখালীর ভাঙা, কাইঞ্জার বাঁধ, ধানকুনিয়া হাওরের ধর্মপাশা উপজেলার নূরপুরের ভাঙা, মোহিনীপুরের ঢালা ও গলাভাঙা। ধর্মপাশার জয়ধোনা হাওরের মুক্তারপুরের ভাঙা, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জোয়ালভাঙা হাওরের নিয়ামতপুরের ভাঙা, জিরাকের মুখ ও জামালগঞ্জ উপজেলার বুড়িডক্কা ভাঙা। করচার হাওরের সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সোনাপুরের ভাঙা ও নাপিতখালীর ভাঙা, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার হরিমনের ভাঙা, বাঁকা বাঁধের ভাঙা ও রাবার ড্যামের ভাঙা। আঙ্গারুলি হাওরের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চতিলা, ফুলভরির ভাঙা ও গা-মারার ভাঙা। কালনার হাওরের সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বিরামপুরের ভাঙা, আদারবাজার খাল,দোয়ারাবাজার উপজেলার পেটফোলার ভাঙা, গ্যাস ফিল্ডের ভাঙা, কাঠের ব্রীজ, টাঙ্গুয়া হাওরের দিরাই উপজেলার বাদালিয়ার ভাঙা,ঘোড়ামারার ভাঙা ও হাওয়ার খাল। বরাম হাওরের দিরাই উপজেলার তুফানখালীর ভাঙা,বোয়ালখালীর ভাঙা, শাল্লা উপজেলার শয়তানখালী, কলাপাড়া ও পাখখাওড়ী। উদগল বিল হাওরের দিরাই উপজেলার মাছুয়াখাড়া, ঘাগটিয়া,শাল্লা উপজেলার গিলোটিয়ার ভাঙা, কাশিপুরের ভাঙা ও জয়পুরের ভাঙা।

দিরাই উপজেলার কালিকোটা হাওরের কলকলিয়া। চাপতির হাওরের দিরাই উপজেলার বৈশাখীর ভাঙা, ধীতপুর খাল, খাগছিড়া ভাঙা,চামতি নদীর মুখ ও কাশিতলার ভাঙা।ছায়ার হাওরের শাল্লা উপজেলার মাদারিয়ার ভাঙা, শাল্লা ব্রীজের ভাঙা ও মামুদনগরের ভাঙা, ভাবিল হাওরের শাল্লা উপজেলার নোয়া জাঙ্গাইল ও হরিনগর। দেখার হাওরের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পুটিয়ার খালের মুখ, উতারিয়া ভাঙা,ছাতক উপজেলার মাছুখালী, কুড়িবিল, দোয়ারাবাজার উপজেলার করিমপুর ভাঙা ও তেলাইখালের মুখ।কাঁচিভাঙা হাওরের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ভাই-বোনের ভাঙা ও পিঠাপুই ভাঙা। খাইহাওরের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাখিমারার ভাঙা ও সদরপুরের ভাঙা। জামখোলা হাওরের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ভাঙা ও জামখোলা ভাঙা। সুরাইয়া-বিবিয়ানা হাওরের জগন্নাথপুর উপজেলার মেঘারকান্দি-হিলালপুর।

নলুয়ার হাওরের জগন্নাথপুর উপজেলার বেতাওকার ভাঙা, বোরাখালী,স্টীল ব্রীজের পশ্চিমে,পূর্বে জনতা বাজার, পশ্চিমে মই হাওর,পশ্চিমে ইসমাইল চক ও বড়ডহর। কুশিয়ারা নদীর ডান তীরের জগন্নাথপুর উপজেলার জালালপুর,আলাগদি ও গোতগাঁও।নাইন্দার হাওরের দোয়ারাবাজার উপজেলার মংলার ভাঙা,তেগাঙার ভাঙা, ভেজাটির ভাঙা ও কাটাগাং। হুরামন্দিরা হাওরের দিরাই উপজেলার মনধরী ভাঙা ও বাকাখালী ভাঙা এবং খাসিয়ামারা নদীর দোয়ারাবাজার উপজেলার সুলতানপুর ভাঙা।সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান,জেলার সকল উপজেলায় শুক্রবার ফোন করে বলে দেওয়া হয়েছে এই সপ্তাহের মধ্যে ক্লোজারগুলোর কাজ শুরু করার জন্য,না হয় বিপদ হতে পারে।তিনি আরো জানান,এই পর্যন্ত পাগনার হাওরের গজারিয়া,ধানকুনিয়া হাওরের ইন্দু রাজার ঢালা,নাইন্দার হাওরের মংলার ভাঙা এবং তেগাঙার ভাঙায় বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *