ছাতক-সুনামগঞ্জ রেলওয়ে সংযোগের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

শামীম আহমদ তালুকদার
সত্যবাণী

সুনামগঞ্জ থেকেঃ জাতীয় উন্নয়ন অবকাঠামোতে পিছিয়ে থাকা সুনামগঞ্জ জেলাকে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে যুক্ত করতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।সম্প্রতি ছাতক থেকে সুনামগঞ্জে রেললাইন সম্প্রসারণ বিষয়টি বিশেষ আলোচনায় উঠে এসেছে। চলতি বছরেই জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পরিবহন সুবিধার জন্য সরকার রেলপথের উন্নয়ন বাস্তবায়ন করার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে।সুনামগঞ্জ জেলা সদরে রেলওয়ে সংযোগের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়।সিলেট জেলার সীমানা ঘেঁষেই সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বিস্তাার। ব্রিটিশ আমল থেকেই সিলেট-ছাতক রেললাইন রয়েছে।

তবে জনগণের যাতায়াতের চেয়ে মালবাহী ট্রেনই যাতায়াত করছে এই পথে।সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে দিয়ে বাংলাদেশের রেল মন্ত্রণালয়ের যাত্রা শুরুর পর জেলাবাসী স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন।সুনামগঞ্জে সংবর্ধনায় ছাতক-সুনামগঞ্জ রেললাইন সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়ে সংশ্লিষ্টদের জমি অধিগ্রহণের নির্দেশনাও দিয়েছিলেন তিনি।ওই সময়ে একটি বিশেষ ট্রেনও ছাতকে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর মন্ত্রীত্ব চলে যাওয়ার পর এই স্বপ্নের ছেদ পড়ে।তবে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে নিয়ে যান।বর্তমানে এটি বিবেচনা লিস্টে রয়েছে।

তাছাড়া সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের প্রতিটি সমাবেশেই তিনি ছাতক-সুনামগঞ্জ রেলাইন সম্প্রসারণসহ সুনামগঞ্জ মোহনগঞ্জ রেললাইন ও সড়ক লাইন নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আসছিলেন। এম এ মান্নান পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে গত শুক্রবার প্রথমে সুনামগঞ্জে আসার পর গোবিন্দগঞ্জে এক পথসভায় ছাতক-সুনামগঞ্জ রেললাইনের কথা জানিয়েছিলেন। সরকার ইতোমধ্যেই পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগে ‘সুনামগঞ্জ জেলা সদরে রেলওয়ে সংযোগের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রস্তাব করেছে রেলওয়ে মন্ত্রণালয়। ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এক বছরের মধ্যেই সমীক্ষার কাজ সম্পন্ন করে এ বিষয়ে মূল প্রকল্প হাতে নেবে সরকার। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক টপোগ্রাফিক সার্ভে অনুযায়ী ছাতক থেকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত রুটের দৈর্ঘ্য ২৭ থেকে ২৮ কিলোমিটার। আলোচ্য প্রকল্পের আওতায় ছাতক থেকে

সুনামগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে।পরবর্তীতে নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করা গেলে একটা বৃত্তাকার রেলপথ তৈরি হবে।এই রেলপথ হাওর অঞ্চলের উন্নয়নে বড় ভূমিকা পালন করবে।সংশ্লিষ্টরা জানান,অনন্য প্রাকৃতিক জলাভূমি বৈশিষ্ট্যের হাওর বেষ্ঠিত জেলা সুনামগঞ্জে এই প্রকল্পটি চ্যালেঞ্জের সঙ্গে নিয়েছে সরকার। এটি বাস্তবায়ন হলে যোগাযোগে নতুন দ্বার উন্মোচন হবে।ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ বৃত্তাকার রেলপথ দিয়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সহজে যোগাযোগ সম্ভব হবে।প্রথমে সমীক্ষা প্রকল্পের আওতায় এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট,এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান ও এনভায়রনমেন্টাল মনিটরিং প্ল্যান করা হবে। পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব দূর করেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান জানান,হাওরবাসীসহ আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এই এলাকায় রেলপথ নির্মাণ করা। অবশেষে সেই উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি।

আমরা প্রথমে ছাতক থেকে সুনামগঞ্জ সদর পর্যন্ত রেলপথ নিয়ে যাবো।পরবর্তীতে নেত্রকোণা ও ময়মনসিংহের সঙ্গে রেলপথে যুক্ত করা হবে সুনামগঞ্জ জেলাকে।তিনি আরো বলেন,ছাতক-সুনামগঞ্জ রেললাইন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর গ্রিন সিগন্যাল পেয়েছি।মোহনগঞ্জ-সুনামগঞ্জ রেললাইনও আমরা এই মেয়াদে বাস্তবায়ন করবো। যাতে আমাদের প্রজন্ম সহজে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।তিনি বলেন,হাওরকে জাতীয় উন্নয়নে যুক্ত করতে এবার আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *