নিউজিল্যান্ডে দুই মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ৪৯: নিরাপদে আছেন বাংলাদেশী ক্রিকেটাররা


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

লন্ডন: নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে (বাংলাদেশ সময় সকাল আটটা নাগাদ) আল নূর নামের মসজিদে হামলা হয়। আল নূর ছাড়াও হামলা হয়েছে ক্রাইস্টচার্চের আরেকটি মসজিদেও। এতে সব মিলিয়ে ৪৯ জন নিহত হয়েছেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদসহ পৃথক এক স্থানে সন্ত্রাসী হামলায় কমপক্ষে ৪৯ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। এতে সামান্যের জন্য বেঁচে গিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। দলের খেলোয়াড়েরা হামলা হওয়া মসজিদ আল নুরের খুব কাছের এক মাঠেই অনুশীলন করছিলেন। অনুশীলন শেষে তারা মসজিদটিতে জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৩০ মিনিটে ক্রাইস্টচার্চে হ্যাগলি ওভাল মাঠের খুব কাছে অবস্থিত আল নুর মসজিদসহ লিনউড অ্যাভিনিউয়ের একটি মসজিদে ও অন্য একটি স্থানে হামলা করা হয়।

ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভাল মাঠে শনিবার (১৬ মার্চ ) বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় টেস্ট হওয়ার কথা রয়েছে। তবে হামলার কারণে সে ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে।

নামাজ শুরুর ঠিক ১০ মিনিট পর একজন বন্দুকধারী সেজদায় থাকা মুসল্লিদের ওপর গুলি চালান বলে প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে নিউজিল্যান্ডের অনলাইন সংবাদমাধ্যম স্টাফ ডট কো জানিয়েছে। এরপর জানালার কাচ ভেঙে হামলাকারী পালিয়ে যান।এ হামলায় বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। হামলার সময় মসজিদে অন্তত ৩শ’ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আল নুর মসজিদে হামলাকারী মিলিটারি পোশাক পরে প্রবেশ করেন। স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে তিনি মসজিদে নামাজ পড়ার সময় মুসল্লিদের লক্ষ করে এলোপাতাড়ি গুলি করেন। এরপর পালিয়ে যান। পুলিশ জানিয়েছে, ২৮ বছর বয়সী হামলাকারীর নাম ব্রেন্টন ট্যারেন্ট। তিনি অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভূত।

হামলার ঘটনায় এক নারীসহ চারজনকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্নে এই হামলাকে ‘নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে অন্ধকার দিনগুলির মধ্যে’ একটি বলে অভিহিত করেছেন।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়েরাও হ্যাগলি ওভাল মাঠে অনুশীলন শেষে আল নুর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। খেলোয়াড়রা সেখানে গিয়ে শুনতে পান মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এরপর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে মাঠের দিকে চলে যান।

হামলার পর টুইটার বার্তায় নিজেদের নিরাপদ থাকার ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম।

এক প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, গুলিতে বেশ কয়েকজন সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

হামলার পর ক্রাইস্টচার্চে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হামলা হওয়া মসজিদ দু’টিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত জনসাধারণকে সেখানে সেখানে প্রবেশ না করতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে হামলার পর ক্রাইস্টচার্চের সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

নিরাপদে আছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা

প্রধান সড়কে টিম বাস রেখে পার্কের ভেতর থেকে হেটে আল নূর মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। শুক্রবারের জুমার নামাজ আদায়ের জন্য। কিন্তু মসজিদের কাছাকাছি যেতেই গোলাগুলির শব্দ। এক নারী সতর্কও করে দিলেন সেদিকে না যেতে। অনেকটা দৌড়ে ক্রিকেটাররা ফিরলেন টিম বাসে। এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে আগে কখনও পড়েননি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।

শুক্রবারের অনুশীলন শেষ করেই জুমার নামাজ আদায়ের জন্য ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল নূরে যায় ক্রিকেটাররা। তবে জানা গেছে ক্রিকেটাররা সবাই নিরাপদে ও সুস্থভাবে টিম হোটেলে পৌঁছেছেন।

এ ঘটনার পর টুইটারে নিজের অনুভূতি জানিয়ে ওপেনার তামিম ইকবাল লেখেন, ‘পুরো দল গোলাগুলির হাত থেকে বেঁচে গেলো। খুবই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

মুশফিক লেখেন, ‘মসজিদে গোলাগোলির মধ্যেও আল্লাহ আমাদের নিরাপদে রেখেছেন। আমরা খুবই ভাগ্যবান। সর্বময়কর্তাকে ধন্যবাদ। আমরা এত কাছ থেকে এমন অভিজ্ঞতার মুখে আগে কখনও পড়িনি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

দলের ডাটা অ্যানালিস্ট শ্রিনিবাস তার টুইটার একাউন্টে লিখেছেন, ‘মাত্রই এক বন্দুকধারীর হাত থেকে রক্ষা পেলাম। এখনো শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হচ্ছে না। ভয় কাজ করছে সর্বত্র।’

জাতীয় দলে ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়েন বলেন, ‘আমি ঘটনার পরপরই ক্রিকেটারদের সবার সঙ্গে এক এক করে কথা বলেছি। তারা কিছু দেখেনি তবে গুলির আওয়াজ শুনে হাগলি পার্ক দিয়ে মাঠে ফিরে গেছে। কোচিং স্টাফের সবাই টিম হোটেলেই ছিলেন। খেলোয়াড়রা গোলাগুলির শব্দ শুনেই দৌড়ে নিরাপদ স্থানে গিয়েছেন।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ওয়েবসাইট থেকে জানানো হয়েছে, ‘শহরের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা যারা নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে তারা সবাই নিরাপদে হোটেলে পৌঁছেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক দলের সদস্য ও টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।’

 

 

 

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *