সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

সারওয়ার ই আলম
সত্যবাণী

লন্ডন:  স্বাধীনতা হোক প্রদীপ্ত আগামীর চেতনা- এ প্রত্যাশা নিয়ে গত ২৭ মার্চ পূর্ব-লণ্ডনের ওসমানি সেন্টার-এ সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ ইউকে উদযাপন করে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। কবিতা আবৃত্তি, গান, নৃত্য, স্বাধীনতাকে নিবেদিত কবিদের স্বরচিত কবিতা পাঠ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলোচনায় অনবদ্য এ অনু্ষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাংবাদিক আব্দুল গাফফার চৌধুরী। সংগঠনের সভাপতি লেখক ফারুক আহমেদ’র সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন লেখক ইসহাক কাজল ও কবি শামীম আজাদ।বক্তব্য রাখেন কবি হামিদ মোহাম্মদ ও সৈয়দ মনসুর উদ্দিন। বিভিন্ন পর্যায়ে অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন কবি ইকবাল হোসেন বুলবুল, কবি এ কে এম আব্দুল্লাহ, কবি মোস্তফা জামান চৌধুরী নিপুণ ও হেনা বেগম।সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু এ অনুষ্ঠানে বৃন্দ আবৃত্তি উপস্থাপন করেন যথাক্রমে কণ্ঠ প্রবাস, ছান্দসিক, ডকল্যাণ্ডস থিয়েটার এণ্ড পারফর্মিং আর্টস, কথন ও ধ্বনি আবৃত্তি সংগঠনের শিল্পীবৃন্দ। দলীয় সংগীত পরিবেশন করে সত্যেন সেন স্কুল অব পারফরমিং আর্টস-এর এক ঝাঁক শিশু-কিশোর।

A5133317-C458-4237-99F0-EDD040864C79আব্দুল গাফফার চৌধুরী বলেন, বিলেতে বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতির একটা বড় ঘাঁটি গড়ে উঠেছিল। এটাকে কেউ কেউ ব্যক্তি স্বার্থে ভাঙ্গার চেষ্টা করেছেন। আর এ ভাঙ্গার ফলে এখানে জামাতীরা অর্থাৎ স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি অত্যন্ত শক্তিশালী হয়েছে। আমাদের ঐক্যের যে ভাঙ্গন তার সুযোগ নিচ্ছে। এ সম্বন্ধে আপনারা দয়া করে সজাগ থাকবেন।
তিনি আরো বলেন, যারা সত্যি সত্যি বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসেন, স্বাধীনতাকে ভালবাসেন, যারা দেশপ্রেমী তারা একটা মন্চে থাকা উচিত। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় আলাদা থাকতে পারে, আমি আওয়ামীলীগ করতে পারি, আপনি ন্যাপ করতে পারেন, আরেকজন জাসদ করতে পারে কিন্তু এরা সকলেই স্বাধীনতার মন্ত্রে দিক্ষীত। তারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে এ লণ্ডনে কারো পক্ষেই বিভেদ সৃষ্টি করা সম্ভব হবেনা।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদের বার বার ভাঙ্গনের কথা উল্লেখ করে আব্দুল গাফফার চৌধুরী আরো বলেন, এ পর্যন্ত দুইটা না তিনটা সাংস্কৃতিক পরিষদ হয়েছে। যিনি এগুলো করেন তিনি ইতিপূর্বে উদীচী ভেঙ্গেছেন। তারপর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ভেঙ্গেছেন। এবং সর্বত্রই তিনি নিজে সভাপতি হন এবং নানারকম কাজ করেন যাতে প্রগতিশীল সংস্কৃতিসেবিদের ঐক্য না হয়ে আরো ভাঙ্গে। যারা সম্মিলিত নাম দিয়ে ভেজাল সংগঠন তৈরি করে তিনি তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

শামীম আজাদ জাতির আত্ম-নির্ণয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমার নিজের ভিতরে একেবারে নিজস্ব একজন বঙ্গবন্ধু আছেন যিনি দুর্যোগে আমাকে সাহস দেন, প্রতিকূলতা মোকাবেলায় আমাকে অনুপ্রাণিত করেন দৃঢ় পদক্ষেপে জীবনের পথে হাঁটতে।আমার বঙ্গবন্ধু আমাকে ছায়া হয়ে আগলে রাখেন সবসময়; বিরুদ্ধ সময়ে আমাকে পথ দেখান সত্য ও সুন্দরের।

হামিদ মোহাম্মদ তার বক্তব্যে বাঙালীর ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার দাবী জানান।

BC887E3B-4053-4F7F-A1D3-5C4D46B28B18বৃন্দ আবৃত্তিতে ধ্বনির পক্ষ থেকে আবৃত্তি পরিবেশন করেন মোস্তফা জামান চৌধুরী নিপুণ, তৌহিদ শাকীল ও শহিদুল ইসলাম সাগর, ডকল্যান্ডস থিয়েটার এন্ড পারফর্মিং আর্টস-এর পক্ষ থেকে আফরোজা বেগম,রাশেদুল কবির , শরিফুল ইসলাম ও স্মৃতি আজাদ এবং কথন’র পক্ষ থেকে একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন ফয়জুল ইসলাম ফয়েজনূর ও হাসিনা আক্তার। এছাড়াও একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন ইয়াসমিন সুলতানা পলিন, নাজমুল হোসেন, সায়মা আহমেদ,জিয়াউর রহমান সাকলেন, শতরূপা চৌধুরী, সৈয়দ রুম্মান ও উর্মী মাজহার। স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন খয়রুজ্জামান খসরু, রুকন আহমেদ, শরিফুজ্জান, সারওয়ার-ই আলম, এম মোসাইদ খান ,শাহ সোহেল আমিন,মোহাম্মদ মুহিদ। স্বরচিত ছড়া পাঠ করেন শাহাদত করিম, জুসেফ খান ও হিলাল সাইফ। শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী রচিত ‘একাত্তরের শহীদ ডা: আলিম চৌধুরী’ বইটির বাংলা থেকে ইংরেজীতে স্বঅনুবাদিত অংশবিশেষ পাঠ করেন কবি ফারাহ নাজ।

দেশাত্ববোধক সংগীত পরিবেশন করেন শর্মীলা দাশ,শম্পা দেওয়ান,স্বরলিপি দত্ত, শতরুপা চৌধুরী, সৈয়দ আরভিন জামান আরাভ এবং সত্যেন সেন পারফর্মিং আর্টস স্কুল-এর শিশু শিল্পীবৃন্দ। নৃত্য পরিবেশন করেন তাল তরঙ্গের সাকিবা চৌধুরী। যন্ত্র সন্চালনায় ছিলেন অমিত দে ও তানিম আহমে এবং শব্দ নিয়ন্ত্রনে শামসুল জাকী স্বপন।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *