দুটো গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান: ‘জিহাদ’ শব্দের ভুল ব্যাখ্যা মুসলমানদের ক্ষতি করছে


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

প্রেস রিলিজ ডেস্ক
সত্যবাণী

লন্ডন: ‘জিহাদ’ শব্দের অর্থ প্রচেষ্টা। কোনো কাজে সফলতার লক্ষ্যে প্রানান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার নামই জিহাদ। সততা ও ন্যায় নীতির মধ্যে জীবনযাপন, বিপরীত স্রোতের চাপকে অগ্রাহ্য করে নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করে সাহস এবং আত“বিশ্বাস নিয়ে শুদ্ধ ও ভালো কিছুকে আঁকড়ে ধরার নাম জিহাদ। কিন্তু এই পবিত্র শব্দকে হাইজ্যাক করেছে একশ্রেনীর উগ্রবাদী। আর এতে করে প্রকৃত মুসলমানেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

কথাগুলো বলেছেন আল-জাজিরা ইংলিশসহ মূলধারার বিভিন্ন মিডিয়ায় নিয়মিত কলাম লেখক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, মুসলিম কাউন্সিল অব বৃটেনের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোহাম্মদ আবদুল বারী এমবিই। সাম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর দুটো গ্রন্থ ১) এ লং জিহাদ: মাই কোয়েস্ট ফর মিডলওয়ে ২) দ্যা রোহিঙ্গা ক্রাইসিস : এ পিপুলস ফেইসিং এক্সটিংশন-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি কথা বলেন। ড. আব্দুল বারী তাঁর ব্যক্তি, সমাজ এবং পারিবারিক জীবনের নানা ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, পবিত্র কুরআনে নির্দেশিত সহজ সরল তথা মধ্যপন্থার মধ্যেই তিনি সর্বক্ষেত্রে সমাধান খুঁজেন।

বিলেতের বাংলা প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে ৫ এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল রোডস্থ ফিস্ট রেস্টুরেন্ট এই প্রকাশনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

76BBD21D-6C56-4D9E-9346-179C27003448সাপ্তাহিক জনমত সম্পাদক ও লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট নবাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ -এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক আকবর হোসেন। অনুষ্ঠানে বিখ্যাত কিংস কলেজ থেকে পিএইচডি এবং কুইন ম্যারীসহ একাধিক ইউনিভার্সিটি থেকে অনারারি পিএইচডি ডিগ্রী লাভকারী ড. আব্দুল বারীর গ্রন্থগুলো সামাজিক সচেতনতায় ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা অভিমন ব্যক্ত করেন। লিখিত প্রবন্ধে ড. বারীকে মূলধারার একজন সফল ও যোগ্য মুসলিম লীডার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বলা হয়, ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড তাঁকে লন্ডনের ১ হাজার প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় রেখেছে, আর ২০০৬ সালে টাইম আউট ম্যাগাজিন লন্ডনের মুভার এন্ড শেইকারের তালিকায় তাকে ৭ম স্থানে রাখে। তিনি ছিলেন লন্ডন অলিম্পিক অর্গানাইজিং কমিটির একমাত্র অশ্বেতাঙ্গ সদস্য। ইস্ট লন্ডন মসজিদের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবদুল বারী লোকাল কাউন্সিলের চাকরি থেকে অবসর নিয়ে লেখালেখি এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে মানবতার সেবা করছেন।

ড. আবদুল বারী তাঁর রোহিঙ্গা বিষয়ক গ্রন্থ প্রসঙ্গে বলেন, এই মহূর্তের পৃথিবীতে চরম নির্যাতনের বড় নজির হচ্ছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। একটি জাতির বড় অংশকে তাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে বা লাখো লাখো মানুষ প্রাণভয়ে পালিয়ে এসেছেন। তাদেরকে মানবিক সহায়তা দিচ্ছেন অনেকে, বাংলাদেশ পাশে আছে। কিন্তু সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম শিক্ষার আলো বঞ্চিত হলে পুরো জাতিটিই হারিয়ে যাবে বা পতনের মুখে পড়বে।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন নিউহ্যাম কাউন্সিলের ডিপুটি স্পিকার, লেখক ও আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজির আহমদ। আরো বক্তব্য রাখেন, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ও সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক এমদাদুল হক চৌধুরী, সাপ্তাহিক জনমত এর প্রধান সম্পাদক ও লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নাহাস পাশা, প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাসন, সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক কবি ফরিদ আহমদ রেজা, চ্যানেল এস এর সিনিয়ির নিউজ প্রেজেন্টার ডঃ জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের জেনারেল সেক্রোটারি মুহাম্মদ জুবায়ের, সাপ্তাহিক সুরমার বার্তা সম্পাদক কবি আবদুল কাইয়ুম, ইক্বরা টিভির জেনারেল ম্যানেজার হাসান হাফিজুর রহমান পলকসহ আরো অনেকে।

সৈয়দ নাহাস পাশা বলেন, আমাদের কমিউনিটিতে ইংরেজী ভাষায় খুব কম বই বেরুচ্ছে। ড. বারী তাঁর বইগুলো ইংরেজি ভাষায় লিখেছেন-এজন্য তাঁকে ধন্যবাদ। তরুণ সমাজ তাঁর বই পড়ে উপকৃত হতে পারবে। তরুনেরা ইসলামের ভুল ব্যাখ্যার বদলে সঠিক নির্দেশনা পাবে এবং উগ্রতার বদলে মানবতার পক্ষেই তারা জাগ্রত হবে।

এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, যতোই ঐক্যবদ্ধ সমাজের কথা বলা হোক না কেন, মেইনস্ট্রিম অনেক ক্ষেত্রে মুসলমান বা এথনিক কমিউনিটিকে দমিয়ে রাখারই চেষ্টা হয়, সে ক্ষেত্রে ড. বারী যেভাবে মেইনস্ট্রিমে কাজ করছেন, প্রভাব রাখছেন এটি কল্যাণকর। আর তাঁর গ্রন্থ যে মধ্যপন্থার ম্যাসেজ নিয়ে এসেছে, তার যথার্থ প্রচারণা দরকার।

ডঃ জাকি রেজওয়ানা বলেন, পবিত্র কোরআনের সঠিক নির্দেশনা আমরা অনেকেই বুঝি না। কিন্তু মাঝে মধ্যে বহু নন-মুসলিমের সাথে এসব নিয়ে তর্ক বা আলোচনা করা যায়, তারা বরং যুক্তিটা মানে। ডঃ বারীর বইগুলোর বড় পাঠক হচ্ছেন অমুসলিম, এটা ভালো। এর মাধ্যমে বৃহত্তর সমাজে সঠিক ম্যাসেজ যেতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে নবাব উদ্দিন বলেন, জিহাদ নাম শুনে বিভ্রান্ত হতে পারেন অনেকে। আমি নিজেই বইয়ের নাম দেখে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলাম। পরে বইটি পড়ে বুঝলাম তিনি সত্যিকারের জিহাদ অর্থাৎ নৈতিকতার জিহাদের কথা বলেছেন। সত্যের পক্ষে থাকার জন্য নিজের মনের সাথে যে যুদ্ধ সেই জিহাদের কথাই বলেছেন।

সমাপনী বক্তব্যে ব্যারিস্টার নাজির আহমদ বলেন, ডঃ আব্দুর বারী শুধু একজন লেখক আর ইসলামিক নেতাই নন, তিনি একজন সাদামনের মানুষ হিসেবে আমাদের জন্য অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত। সমস্যা-সংকটে কখোনোই যাকে কালোমুখে দেখা যায় না। এমন ব্যক্তিত্ব পুরো কমিউনিটির জন্য গর্বের। তাঁর ১০টি গ্রন্থের প্রায় সবগুলোই আমাদের পরিবার, সন্তান এবং সমাজের সামগ্রিক কল্যাণে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখবে বলে মনে করি।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *