কাউন্সিলার মঈন কাদেরীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ‘বাংলাদেশী বুক ব্যাংক’


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

ফিচার এডিটর
সত্যবাণী

লন্ডন: ব্রিটেনে বসবাসরত লন্ডন বারা অব বার্কিং এন্ড ডেগেনহামের কাউন্সিলার মঈন কাদেরীর এক ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ ‘বাংলাদেশী বুক ব্যাংক’ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বাংলাদেশে তাঁর নিজ এলাকা পাবনায়। শিক্ষা আহরণে ইচ্ছুক সমাজের গরীব ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা সংগ্রামে সহায়তার লক্ষ্যে নিজ এলাকায়  তিনি গড়ে তুলেছেন ‘বাংলাদেশী বুক ব্যাংক’। 

‘বাংলাদেশী বুক ব্যাংক’ একটি শিক্ষামূলক কার্যক্রম, যার প্রধান কাজ বাংলাদেশের প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিধাবঞ্চিত ছাত্র / ছাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা। ‘বাংলাদেশী বুক ব্যাংক’ প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ্য পুস্তকের সংরক্ষণাগার, যে স্থান থেকে  কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা তাদের প্রয়োজণীয় পুস্তকাদি ব্যবহার, প্রদান ও সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে।

বাংলাদেশী বুক ব্যাংকে ছাত্র / ছাত্রীরা তাদের অব্যাবহৃত বা আগের বছরের পাঠপুস্তক  দান করতে পারবেন। তাদের এই দানকরা বইগুলোই আবার প্রয়োজন অনুসারে সুবিধা বঞ্চিত ছাত্রদের ব্যবহারের জন্য প্রদান করা হবে।

এই প্রতিষ্ঠানটি সেচ্ছাসেবক দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত। এটি একটি দাতব্যমূলক এবং অলাভজনক শিক্ষামূলক সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশের প্রত্যেটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি করে ‘বাংলাদেশী বুক ব্যাংক’ এর সেবা কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যাক্তাদের। ছাত্রদের প্রয়োজনে ছাত্ররা পাঠ্যপুস্তক প্রদানকারীর সাথে সরাসরি মোবাইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে প্ৰয়োজনীয় পাঠ্যপুস্তক সংগ্রহ করতে পারবেন।

ED2C4D1B-999E-4C05-A253-B1BFAB5A5482অর্থনীতিবিদদের মতে স্বল্প সম্পদের সুষম বন্টনের মাধ্যমে একটি জাতির অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা সম্ভব,  এমন মন্তব্য করে  ‘বাংলাদেশী বুক ব্যাংক’ এর প্রতিষ্ঠাতা কাউন্সিলার মঈন কাদেরী সত্যবাণীকে বলেন,  আমাদের সমাজের যারা স্বচ্ছল তাদের ছেলে মেয়েদেরকে হাজার / লাখ টাকা খরচ করে বই কিনে দেন। আর অন্যদিকে সাধারণ পরিবার বইকেনা তো দূরের কথা সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খায়। আমাদের কলেজ, ইউনিভার্সিটি, মেডিকেল বা ইঞ্জিনিয়ারিং এর বইগুলি অনেক দামি। প্রয়োজন অনুযায়ী বই কেনার সামর্থ থাকে না অনেক স্টুডেন্টের। আমরা সবাই মিলে যদি স্বল্প বইয়ের সুষম বন্টন করতে পারি তবেই, কলেজ বা ইউনিভার্সিটির পাঠ্যপুস্তকের অভাব পূরণ করতে সক্ষম হবো। মঈন কাদেরী জানান, এই ভাবনা থেকেই ‘বাংলাদেশী বুক ব্যাংক’র আইডিয়া তাঁর মাথায় আসে।

তিনি বলেন, আমরা যদি আমাদের ব্যবহৃত পাঠ্যপুস্তকগুলো ‘বাংলাদেশী বুক ব্যাংক’ এর ওয়েব সাইট এর মাধ্যমে অন্য কে প্রদান করি তবে সে বইটির সুষ্ঠু ব্যবহার হবে। তাঁর মতে অপ্রতুল পাঠ্যপুস্তক গুলির সুষ্ঠু ব্যবহার না হলে মানব সম্পদ উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

কাউন্সিলার কাদেরী বলেন, যাই  করি বা যেভাবেই থাকি না কেন, আমরা কিন্তু আমাদের দেশ মা কে অনেক ভালোবাসি। আমরা সবাই মনে প্রানে চাই আমাদের এই ছোট্ট সুন্দর জন্মভূমিটা পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত আর শুভ দেশে পরিণত হউক। যদি আমরা সেটাই চাই তবে আমাদের দেশের ছাত্রদের পাশে দাঁড়াতে হবে, ওদের  পড়াশুনার সুযোগ ও পরিবেশ তৈরী করে দিতে হবে। আমাদের মাঝে অনেকেই আছেন যারা একটু সুযোগ পেলেই পড়াশুনা করে পৃথিবীর বুকে দেশের নাম উজ্জ্বল করার মতো প্রতিভা রাখেন।

মঈন কাদেরী বলেন, আজকের ছাত্ররা আগামী দিনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিমালার লেখক। এই ছাত্রদের অনেকেই লেখা পড়া শেষ করে আমলা , অর্থনীতিবিদ, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার, কৃষক বা অন্য পেশায় নিজেকে নিবেদিত করে আমাদের বাংলাদেশ  কে সোনার বাংলাতে পরিণত করবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের অনেক ছাত্রই আছে যারা তাদের জীবনের চাহিদা মেটানোর জন্য ছাত্র পড়ায়, হোটেলে বা রেস্তোরাতে  অল্প পারিশ্রমিকে কাজ করে, আবার অনেকে অটো-রিক্সা চালায়। যে সময় বিদ্যা অর্জন করবে সে সময় অনেক ছাত্ররাই জীবনের প্রয়োজন মেটাতে কলুর বলদের মতো খাটে। 

তিনি বলেন, আমরা হয়তো পারবোনা সার্বিক অবস্থার পরিবর্তন আনতে, তবে চাইলেই আমরা পারি আমাদের অব্যবহৃত বইটি সল্প মূল্যে বিক্রি না করে অন্য ছাত্র কে পড়ার সুযোগ দিতে। 

শিক্ষা উন্নয়নে ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কারিগর কাউন্সিলার মঈন কাদেরীর আহবান-আসুন আমরা সবাই অন্যকে সম্মান করি, আর বই দান করে মানব সম্পদ তৈরিতে সাহায্য করি।

www.bangladeshibookbank.com

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *