বারাহ শাবক ওসি মোয়াজ্জেম


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Riton লুৎফর রহমান রিটন

 

এই বরাহ শাবকের নাম মোয়াজ্জেম। দেশের মানুষ এখন ‘ওসি মোয়াজ্জেম’ বললেই শনাক্ত করতে পারে ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার এই বদমাশটার চেহারা। আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলা নুসরাত নামের মেয়েটা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কুলাঙ্গার সিরাজের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগ করতে গিয়েছিলো থানায়। ওর কাছে মেয়েটা যখন ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলো কাঁদতে কাঁদতে, দু’হাতে মুখ ঢেকে, তখন এই বরাহ শাবক সেটা ভিডিও করেছে। বরাহ শাবকটির কথাবার্তাতেই পরিস্কার বোঝা যাচ্ছিলো সিরাজের দেয়া টাকাতেই সে তার বউ বাচ্চাকে ভাত খাওয়ায়। কাপড় পরায়। সে সিরাজের চাকর বিশেষ। সরকার তাকে মাইনে দেয় না। মাইনে পায় সে সিরাজের কাছ থেকে। মেয়েদের মাদ্রাসাটা ছিলো সিরাজের হেরেম বিশেষ। আর সেই হেরেমের খোজা প্রহরী ছিলো মোয়াজ্জেম।
ধর্ষক সিরাজের অপকর্ম অপকীর্তিকে সুরক্ষা দিতেই তৎপর ছিলো এই মোয়াজ্জেম খোজা।

(ফেনীর জেলা প্রশাসক এনামুলের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেছিলো নুসরাত। সেই বরাহ নন্দনও ব্যাপারটাকে পাত্তাই দেয়নি। কোনো ভূমিকাই রাখেনি সে। জামাতী সিরাজের কেনা গোলাম ছিলো সে-ও!)

সিরাজের যৌন নিগ্রহের ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে মেয়েটাকে কেঁদে আকুল হতে দেখে বরাহ শাবক মোয়াজ্জেম বলেছে–
–‘এমন কিছুই হয়নি যে তোমাকে এখনই কাঁদতে হবে’

দু’হাতে মুখ ঢেকে কাঁদতে কাঁদতে মেয়েটা বললো,
‘আমার গায়ে হাত দিছে আমি হাতটা সরায়ে ফেলছি।’

মোয়াজ্জেম বলেছে
–‘এইটুকই?’
(কতো বড় অমানুষ এই বদমাশটা। গায়ে হাত দেয়াটাকে বলছে–এইটুকুই!

এরপর মেয়েটা আকুল করা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানালো সিরাজ তার বুকে হাত দিয়েছে।
শুনে চনমনে হয়ে উঠেছে মোয়াজ্জেমের কণ্ঠ–
–‘বুকে হাত দিছে?’
মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে মাথা নেড়ে তার সমর্থন ব্যক্ত করেছে।

অতঃপর মোয়াজ্জেম জিজ্ঞেস করেছে
–‘পিওনের মাধ্যমে তোমারে ডাকছিলো না তুমি গেছো? (এর আগে তিন বার একই প্রশ্ন করেছিলো এই বরাহ নন্দন। বারবার মেয়েটা জানিয়েছে পিওনের মাধ্যমে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলো সিরাজ। মোয়াজ্জেম বারবার ঘটনাটাকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে তার ‘সিরাজ আব্বা’কে রক্ষার চেষ্টা চালিয়েছে।)

এরপর মোয়াজ্জেম বলেছে
–‘এডা কিছু না। বাদ দাও। কেউ লেখবেও না তোমার কথা। যাও।’ (তারমানে ওখানে লোকাল কোনো পোষা সাংবাদিকও মোতায়েন ছিলো। মনে আছে সমকালের লোকালটা লিখেছিলো–‘মাদ্রাসা ছাদে নিজের শরীরে আগুন দিয়ে ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা!’ ঐ পোষা সারমেয়টাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার। )।

সিরাজ কর্তৃক নুসরাতের বুকে হাত দেয়ার অভিযোগটা আমলে না নিয়ে সব শেষে বরাহ শাবক মোয়াজ্জেম বলেছে
–‘কিছু হয় নাই, রাখো।’
কিছুই হয় নাই! বলে কী হারামীটা!

০২
নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার পর একাত্তর টিভির আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ও দু’জন আলোচকের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়েও চাকর মোয়াজ্জেম বারবার সিরাজকে রক্ষার চেষ্টায় ছিলো অটল অনঢ়।
মিডিয়ার বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণে সারাদেশ সোচ্চার হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মোয়াজ্জেমকে ‘ক্লোজড’ করেছে বা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ক্লোজ করা মানে এক ধরণের দায়মুক্তি দেয়া। এই বরাহ শাবককে দায়মুক্তি দেয়া চলবে না। ওকেও গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতে হবে ওর।
পুলিশের ওপর আস্থা হারালে মানুষ দাঁড়াবে কোথায়?

হলি আর্টিজানে জঙ্গী হামলাসহ বিভিন্ন জায়গায় জঙ্গী দমনে পুলিশের সাহসী ভূমিকার পর পুলিশের পক্ষে এই ফেসবুকেই একাধিক রচনা এবং একাধিক ছড়া আমি লিখেছি। পুলিশের উর্ধতন অনেক কর্মকর্তাই আমার বন্ধু। তাঁদের পজিটিভ ভূমিকার কারণে স্বস্তি এবং গৌরবের অংশ হই আমিও। আমার সেই মেধাবী দেশপ্রেমী সাহসী দায়িত্বশীল বন্ধুরা নিশ্চয়ই মোয়াজ্জেমের মতো একটা ক্রীতদাসের দায় নিজেদের কাঁধে তুলে নেবেন না।

লুৎফর রহমান রিটন: বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তী ছড়াকার

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *