জামালগঞ্জ ঢালার হাওরে সনাতন ধর্মের ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা সম্পন্ন


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

শামীম আহমদ তালুকদার
সত্যবাণী

সুনামগঞ্জ থেকেঃ সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের ছয়হারা গ্রামের ঢালার হাওরে শতবছরের সনাতন ধর্মের দু’দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা শেষ হয়েছে।রোববার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই চড়ক পূজা আজ সোমবার দুপুর ১টায় শেষ হয়। যুগ-যুগ ধরে চলে আসা ফেনারবাঁক ইউনিয়নের ন’মৌজার ছয়হারা গ্রামের ঢালার হাওরের সামনে শিব চর্তুদশীতে চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত হয়।মাঠের আশপাশে প্রায় শতাধিক দোকানীরা গ্রামীণ মেলা বসে।এই চড়ক পূজার  আয়োজন করেন ন মৌজা গ্রামের সনাতন ধর্মের অনুসারীরা।

চড়ক পূজাকে ঘিরে সনাতন ধর্মের লোকজনের মাঝে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ।মানুষের পিঠের চামড়ায় এক ধরনের লোহার হুক (বড়শী) আটকিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে তান্ত্রিক মন্ত্রের সাহায্যে সেই মানুষকে শূন্যে ঘোড়ানো হয় উচু থামের (চড়ক গাছের) সঙ্গে।জামালগঞ্জের ছয়হারা মাঠে ঐতিহ্যবাহী চড়কপূজার এই দৃশ্য দেখতে বিভিন্ন জেলার  হাজারো ভক্তবৃন্দের পদচারনায় মাঠটি কানায় কানায় ভড়ে উঠে। এই পুজাকে কেন্দ্র করে সব ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতি প্রমাণ করে স্বাধীনতা পরবর্তী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিলবন্ধন যেন এই চড়ক পূজাকে ঘিরে।

আশপাশের জেলা ও কয়েকটি  উপজেলাসহ জেলা শহর থেকে সনাতন ধর্মালম্বীরা ও অন্যান্য ধর্ম বর্নের লোকজন ঐতিহ্যবাহী চড়কপূজা দেখতে ভিড় জমান প্রতিবছরই এখানে। এলাকার বাহিরে বসবাসকরা সনাতন ধর্মের অসংখ্য লোকজন ছুঠে আসেন এই পূজায় আর্শীবাদ নিতে। দিরাই উপজেলার রফিনগর থেকে আগত স্কুলছাত্র এনাম হোসেন তালুকদার চড়ক পূজো দেখতে আগে থেকেই তার এক আতœীয় বাড়ীতে এসেছেন।শাল্লা উপজেলার প্রভাকর তালুকদার ও মধ্যনগর থানার রাম দাস জানান, আমাদের এলাকায় এই পূজো হয়না,তাই আমরা চড়ক পূজা দেখতে এই এলাকায় এসেছি। বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখের বিকেলে অনুষ্ঠানের মুলপর্ব শুরু হয়। ঘন্টাব্যাপী তন্ত্রমন্ত্র পাঠের পর শুরু হয় পিঠের মধ্যে ২ জন সন্যাসীকে লোহার বড়শী গাঁথার কাজ।বড়শী গাঁথার পর তাদেরকে চড়ক গাছের থামের চড়কীতে শূন্যে ঘোড়ানো হয়। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হল দুইজন সন্যাসী পিঠে বড় দুইটি লোহার হুক (বড়শী) গাথার আগে বাপড়ে এক ফুটা রক্তও বের হতে দেখা যায়নি।সন্যাসীদের ভাষায় এ ধরনের শারিরীক কষ্ট জীবিত মানুষ ভোগ করে আধ্যাতিক শক্তি বলে।সনাতন ধর্মের সন্যাসীরা আরো জানান, হাওর এলাকার মানুষের অন্ন যোগান বোরো ধান যাতে সুষ্ঠভাবে ঘরে তুলতে পারে এর জন্যও পূজার আয়োজন করেন তারা। মনোবাসনা পূর্ন সহ অনেক আশা-আখাঙ্কা পুর্ণ করতে দুর দরান্ত থেকে সনাতন ধর্মের লোকজন ছুটে আসেন চড়ক পূজায়া।

এ ব্যপারে আয়োজক কমিটির নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রীকান্ত তালুকদার বলেন, এই পূজায় হিন্দু-মুসলীম দুই ধর্মের হাজার হাজার মানুষের মিলন মেলায় সম্প্রীতির বন্ধনে পরিণত হয়। আর আমাদের বিশ্বাসমতে হাওরের ধান সুষ্ঠ ভাবে গোলায় উঠার আশা রাখি। পুজায় আসা রাজেন্দ্র পুরের গৌরাঙ্গ ও ধর্মপাশার মনধন দাসের সাথে কথা হলে তারা বলেন,চড়ক পূজায় তাদের মনোবাসনা পুরনের জন্য এখানে এসেছেন।এ রকম উদাহরণ দু-একটি নয় সনাতন ধর্মের হাজারো মানুষের। এ ব্যাপারে  চড়ক পূজার মুল সন্যাসী চন্দ্র ধর সহ প্রবীন সন্যাসীরা জানান, ছয়হারার চড়ক পূজায় অনেক সন্যাসী বেশ কিছুদিন ধরে এক কাপড়ে সংসার ত্যাগী হয় (স্ত্রী,পুত্র,কন্যা থেকেও পৃথক থাকে)।তারা একটা নির্দিষ্ট নিয়মের ভিতরে চলাফেরা সহ আহার,নিদ্রা করে থাকে এই দিন গুলোতে।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *