গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধ


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

20190118_225241-1-1-1-1_1-275x300

 

 

 

 

রায়হান আহমেদ তপাদার

একটি গোষ্ঠির কোটারি স্বার্থের কাছে রাষ্ট্যব্যবস্থা জিম্মি হয়ে পড়েছে। ইউরোপ-আমেরিকা থেকে শুরু করে বিশ্বের সর্বত্র রাষ্ট্রব্যবস্থার ইতিবাচক দিকগুলো একটি পুঁজিবাদি কর্পোরেট শক্তি ও লুটেরা শ্রেনীর কাছে কুক্ষিগত হয়ে পড়ছে। রাষ্ট্রের প্রাকৃতিক,খনিজ সম্পদ, ভূ-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপর জনগনের সর্বোচ্চ সম্পৃক্ততা ও নিরাপত্তা ক্রমে শিথিল হয়ে পড়ছে। মার্কিন সাংবাদিক-অর্থনীতিবিদ পল ক্রেইগ রর্বাটস’র একটি উদ্ধৃতি এ সপ্তাহে আইসিএইচ অনলাইনের হোমপেজে শোভা পাচ্ছে-যেখানে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করছেন। পল ক্রেইগ রবার্টস’র মতে একটি ব্যর্থরাষ্ট্রের প্রধান চারিত্রলক্ষণ হচ্ছে, সাধারণ রাষ্ট্রব্যবস্থায় অপরাধিরা সরকারের বাইরে থেকে সরকার ও জনস্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে, আর ব্যর্থরাষ্ট্রে অপরাধিরা সরকারের ভেতরে থেকেই জনগনের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে। এই বাস্তবতায় বর্তমান মার্কিন সরকারের ভেতর ওয়ালস্ট্রীট গ্যাংস্টারদের প্রভাব ও অপতৎপরতার পূর্ণ আলামত রয়েছে বলে পল রর্বার্টস মনে করেন, যা’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের কাতারে সামিল করছে। তৃতীয়বিশ্বের দেশগুলো সত্যিকার অর্থে স্বাধীন সার্বভৌম কিনা এ নিয়ে তথাকথিত দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে যুক্তিতর্ক হতে পারে, তবে ব্যর্থ রাষ্ট্রের তালিকায় অভিষিক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অথবা বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যে মূল পার্থক্য হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা তাদের রাষ্ট্রের ব্যর্থতার জন্য শাসকদের দিকে সরাসরি আঙুল তোলতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমা বিশ্বের ‘ডিপ স্টেট’থিউরি বেশ আলোচিত হতে দেখা যাচ্ছে, যেখানে রাষ্ট্র ও সরকারের বাহ্যিক অবকাঠামোর ভেতরে লুকিয়ে থাকা আরেকটি প্রবল শক্তির অস্তিত্ব পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। তারা কর্পোরেট পুঁজিবাদের শিখন্ডি হয়ে রাষ্ট্রের রাজনীতি, অর্থনীতি, লোকসংস্কৃতি ও গণমাধ্যমকে সেই ডিপ স্টেটের অনুকুলে পরিচালিত করছে। এ কারণেই অর্থনৈতিক মন্দা বা গ্রেট ডিপ্রেশনের সময় মার্কিন জনগনকে রাস্তায় নেমে আসতে দেখা গেছে, যারা নিজেদের ৯৯ভাগ মানুষের প্রতিনিধি দাবী করছে। বাকি একভাগের বিরুদ্ধে তাঁদের আন্দোলন, যারা কর্পোরেট মাফিয়া, মিলিটারী ইন্ডাসট্রিয়াল কমপ্লেক্সের ধ্বজাধারি। এরাই রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ঘুনপোকার মত লুকিয়ে থাকা শক্তি বা ডিপ স্টেট।ট্রাম্পের বর্তমান বা পরবর্তী মেয়াদ পরে কে ক্ষমতায় আসবেন এবং রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কে কী ভূমিকা রাখবেন সে ব্যাপারে আলোকপাত করার সময় সম্ভবত হয়েছে। নতুন বহুকেন্দ্রিক বাস্তবতায় ওয়াশিংটনের পতন তুলনামূলকভাবে বেশি হারে হচ্ছে। ট্রাম্প প্রেসিডেন্সির অধীনে পতন এমন মাত্রায় গিয়ে ঠেকবে যে ওয়াশিংটন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হতে বাধ্য হবে। তার আগে ডলারভিত্তিক অর্থনীতির পতন হতে হবে; রক্তপাতের মধ্য দিয়েও তা হতে পারে। মার্কিন অভিজাতদের পরিকল্পনা দেখে মনে হয়, টিকে থাকার জন্য তারা বড় ধরনের সংঘাত বাধাবে, অতঃপর ধ্বংসস্তূপের ওপর নতুন বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা দাঁড় করাবে। কিন্তু মার্কিন ডিপ স্টেটের এমন হিসাবে ভয়ংকর ভ্রান্তি রয়েছে। আরো পাঁচ বছর উসকানি অব্যাহত থাকলে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার কৌশলগত ধৈর্য’ আর কত দিন দেখাবেন পুতিন ও শি চিনপিং?

এরই মধ্যে কিছু পরিবর্তন ঘটেছে। ইরান, সিরিয়া, ভেনিজুয়েলা ও জনগণতান্ত্রিক কোরীয় প্রজাতন্ত্র (উত্তর কোরিয়া) বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ চারটি এলাকা। তারা ওয়াশিংটনের অপতৎপরতা ঠেকিয়ে দিয়েছে। সিরীয় ভূমি এখন দামেস্কের নিয়ন্ত্রণে; পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে ইরান; পিয়ংইয়ং ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে এবং ভেনিজুয়েলায় বলিভারীয় বিপ্লব এখনো টিকে আছে। ধরা যাক, কেউ একজন ডেমোক্রেটিক পার্টিতে আবির্ভূত হয়েছেন, যিনি মার্কিন ডিপ স্টেট ও সামরিকশিল্প কমপ্লেক্সের স্বার্থরক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। হয়তো তিনি হিলারি ক্লিনটন, ম্যাডেলিন অলব্রাইট বা ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কোনো প্রার্থী। ট্রাম্প প্রেসিডেন্সির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি হয়তো ব্যতিক্রমী যুক্তরাষ্ট্র’র ধারণাকে নবায়িত করবেন।রাশিয়া, চীন, যুক্তরাষ্ট্র-সবাই আরো সামরিকায়নের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ মনে হয়। মার্কিন আগ্রাসনের মুখে রাশিয়া ও চীন তাদের কৌশলগত স্বার্থ সুরক্ষায় বেশ জোর দিচ্ছে। আগামী দিনে সাইবার স্পেস ও পৃথিবীর নিকটবর্তী আকাশ নিশ্চিতভাবেই শঙ্কাপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ট্রাম্প পারমাণবিক গজবের সূচনাকারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখাতে রাজি নন। কিন্তু পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেমন হবেন? মার্কিন ডিপ স্টেট এমন একজনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করাতে সক্ষম হবে বলেই মনে হচ্ছে, যিনি মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে যুদ্ধ বাধানোর যুক্তি দাঁড় করাবেন। মনে হতে পারে আমি বাড়িয়ে বলছি। ইরান প্রসঙ্গে পম্পেওর সাম্প্রতিক মন্তব্যে নজর দিন। ভাবুন, ট্রাম্পের পর হিলারি ক্ষমতায়। তিনি সিরিয়ায় নো-ফ্লাই জোনের কথা বলেছিলেন, যার মানে রুশ জঙ্গিবিমান ভূপাতিত করা।

কিন্তু এমন একজন প্রেসিডেন্ট যদি আসে তাহলে কী করণীয়? ইউরোপ ও যক্তরাষ্ট্রে সবল জনমুখীবিরোধী পক্ষ দরকার। কিন্তু এখন যে অবস্থা, তাতে কোনো যুদ্ধবিরোধী হবে বলে মনে হয় না। মূলধারার গণমাধ্যম মিথ্যা খবর গিলিয়ে, অপতথ্য প্রচারণা করে জনগণের মাথা খারাপ করে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধাকাঙ্ক্ষী সামরিকশিল্প কমপ্লেক্স যেভাবে চায় সেভাবেই সত্যকে রূপ দেওয়া যায়। আগামী ছয় বছরে পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে। মানুষ বুঝতেই পারবে না চারপাশে কী ঘটছে। পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞের শঙ্কা এড়াতে হলে পুতিন ও শি’র মতো নেতৃত্ব গুণসম্পন্ন ও সুস্থির কারো ওপর ভরসা করতে হবে। কিন্তু তাঁরা ক্ষমতায় না থাকলে এবং তাঁদের উত্তরসূরিদের হাতে মার্কিনদের যথাশিক্ষা দেওয়ার সমরাস্ত্র থাকলে কী হবে? ইংরেজরা মোঘলদের বংশ পরম্পরায় ধু ধু বালুচরে মরানদীর মত বেঁচে থাকা শেষ মোঘল নবাব বাহাদুর শাহকে ১৮৫৮ সালে বার্মায় নির্বাসনে পাঠিয়ে দেয়। সেখানেই মৃত্যু হয় বাহাদুরশাহ্র । এরপর ভারতে কোম্পানী শাসনের স্থলে বৃটিশ রাণীর শাসন জারি হয়। বাংলায় শুরু হয় মুসলিম বিরোধি ব্যাপক ধরপাকড়, সেই সাথে পুরো ভারতজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শত শত প্লিন্সলি স্টেটকে বৃটিশ শাসনের অধীনে নিয়ে আসা হয়। হাজার হাজার সন্দেহভাজন বিদ্রোহীকে ফাঁসি দেয়া হয়। ভবিষ্যতে জনগনের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক আশা-আকাঙ্খার যে কোন সম্ভাবনাকে কঠোর হাতে দমন বা নির্মূল করতে ১৮৬১ সালে পুলিশ অ্যাক্ট বাস্তবায়ন করা হয়। বৃটিশ ভারতের এই পুলিশ বাহিনীর সাথে বৃটেনের বা বিশ্বের অন্য কোন দেশের পুলিশ বাহিনীর কোন মিল নেই। পুলিশ জনগনের বন্ধু, মানুষ বিপদে পড়লে পুলিশের দ্বারস্থ হয়, পুলিশও নাগরিকদের যে কোন সমস্যায় অকৃত্রিম বন্ধুর মতো হাত বাড়িয়ে দেয়।

আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনগনের নিরাপত্তা ও সহায়তার ক্ষেত্রে পুলিশ একটি বড় মানদন্ড হয়ে উঠলেও বৃটিশ-ভারতে পুলিশ হয়ে ওঠে ঔপনিবেশিক শাসকদের স্বার্থরক্ষার সবেচ বড় হাতিয়ার। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে জনগনের ট্যাক্সের টাকায় প্রতিপালিত পুলিশ বাহিনীকে স্থানীয় জনগনের বিরুদ্ধ শক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে ভারতীয় হিন্দু-মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৃচিশ বিরোধি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বরাজ আদায় করে নেয়ার পর গত সত্তুর বছরে উপমহাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে নানা পরিবর্তন সংঘটিত হলেও দেড়শ বছর আগের বৃটিশ ঔপনিবেশিক পুলিশ আইনে তেমন কোন পরিবর্তন ঘটেনি। বৃটিশরা যেভাবে পুলিশ বাহিনীকে স্থানীয় জনগনের যে কোন বিক্ষোভ প্রতিবাদ দমনের মাধ্যমে ঔপনিবেশিক স্বার্থরক্ষার উপযোগি করে গড়ে তুলেছিল তারই ধারাবাহিকতায় স্বাধীন দেশগুলোর পুলিশ বাহিনী আজো জনগনের স্বার্থের বদলে শাসকশ্রেনীর রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষায় কাজ করতে সম্ভাব্য সব রকম আইনগত নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রশক্তির এই গণবিরোধি অবস্থান পুঁজিবাদ ও ঔপনিবেশিক শাসনের হাত ধরে আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। স্থান ও কালের ব্যবধানে উন্নত এবং উন্নয়নশীল বিশ্বে রাষ্ট্রশক্তির এই গণবিরোধি অবস্থানে কিছু মাত্রাগত পার্থক্য থাকলেও সাবেক ঔপনিবেশিক অঞ্চলে জনগনের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক স্পিরিট এবং পুঁজিবাদি স্বার্থের দ্বন্দ যেন জনগনের অমোঘ নিয়তি। গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এক কনফারেন্সে ওবামা প্রশাসনের সাবেক সিআইএ ডিরেক্টর জন ব্রেনান বলেছেন, নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তাদের জন্য অবলিগেশন বা কর্তব্য হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেপরোয়া অথবা গণতন্ত্র বিরোধি আদেশ বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকা।

অপরদিকে জন ব্রেনানের এই বক্তব্যকে জনপ্রিয় টিভি টকশো উপস্থাপক রাশ লিমবাফ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে( নিরব অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার উস্কানী বলে অভিহিত করেছেন এমনকি এর সাথে ডিপ স্টেট বা সরকারের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকার শক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন। রাশ লিমবাফ মার্কিন রাজনীতিতে ডিপ স্টেট শক্তির সক্রিয় তৎপরতাকে ২০১৭ সালের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করলেও পলিটিকো ম্যাগাজিনের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট মাইকেল কাউলি’র মতে ডিপ স্টেটের তৎপরতা মিশর, আলজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্কের মত দেশগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় রয়েছে। যেখানে নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের পর্দার অন্তরালে সামরিক বাহিনীর জেনারেলরাই সর্বময় কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে থাকেন। সাম্প্রতিক সময়ে এই তালিকায় মিয়ানমারের নাম বিষেশভাবে উঠে আসতে পারে, সেখানে অং সান সুচির দল ক্ষমতার নিরঙ্কুশ অবস্থান পাওয়ার পরও সামরিক বাহিনীই রাষ্ট্রের সর্বেসর্বা। এই ডিপ স্টেট সরকারকে বিশ্ব সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন, বন্ধুহীন করে তোলার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রকে সামরিক ও রাজনৈতিক-অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ন করে তোলে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মিয়ানমারে অং সান সুচির দল ক্ষমতায় আসার পর সেখানকার সেনাবাহিনী রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশী বেপরোয়া মারমুখী হয়ে ওঠে। সেনাবাহিনী ও মগ সন্ত্রাসীদের হাতে রোহিঙ্গা গণহত্যা আধুনিক ইতিহাসের সবচে ঘৃন্য নজির হিসেবে আখ্যায়িত হচ্ছে যা’ এখন মিয়ানমারকে আবারো একটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

রায়হান আহমেদ তপাদার: লেখক ও কলামিস্ট

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *