সত্যবাণী আড্ডায় বাবু: কাউকে অনুকরণ নয়, আমি আমার মতো হতে চেয়েছি


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
সত্যবাণী

লন্ডন: অভিনয় জগতের দীর্ঘ অনুশীলনে একক কাউকে অনুকরণ নয়, তিনি নিজে নিজের মতো হতে চেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলা নাটক ও চলচ্চিত্রের সাম্প্রতিক সময়ের জনপ্রিয় ও খ্যাতিমান অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু।

4ACAD905-5EBA-418E-944F-0F0505983BA1সোমবার সন্ধ্যায় লন্ডনে হাউজিং প্রতিষ্ঠান ‘প্রবাসী পল্লি’র সহযোগিতায় অনলাইন সংবাদ মাধ্যম সত্যবাণীর উদ্যোগে তাঁর সম্মানে আয়োজিত এক ‘সঙ্গীত সন্ধ্যা ও আড্ডা’ অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

কথোপকথন, প্রশ্নোত্তর, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজের সমন্বয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভক্ত শ্রোতাদের সাথে দীর্ঘ আড্ডায় মেতে উঠা বাংলা নাটকের কিংবদন্তী অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু বলেন, ‘আমার নাটকের গুরু মামুনুর রশীদ। আমি তাঁর কাছ থেকে শিখার চেষ্টা করেছি, শিখেছি অনেক। অভিনয়ের সময় যারা সামনে থাকতেন তাদের কথা শুনতাম, অনুশীলন করতাম, কিন্তু অভিনয় করতাম আমার নিজের মতো করে। আসলে অভিনয় জীবনের প্রথম থেকেই কাউকে অনুকরণ নয়, আমি আমার মতো হতে চেয়েছি।’

ছবি: জি আর সোহেল
ছবি: জি আর সোহেল

সত্যবাণী পরিবার সদস্যদের সাথে ফটো সেশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে প্রথমেই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন সত্যবাণীর উপদেষ্ঠা সম্পাদক আবু মুসা হাসান ও প্রধান সম্পাদক সৈয়দ আনাস পাশা। এসময় খ্যাতিমান এই অভিনেতাকে সাথে নিয়ে তাদের পাশে দাড়িয়ে ছিলেন অনুষ্ঠানের মূল পৃষ্ঠপোষক, রাজনীতিবিদ আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সত্যবাণীর বার্তা সম্পাদক নিলুফা ইয়াসমিন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফেরদৌসি কলি, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট মতিয়ার চৌধুরী ও কমিউনিটি করেসপন্ডেন্ট জামাল খান।

ছবি: জি আর সোহেল
ছবি: জি আর সোহেল

এরপর দর্শক অর্ডিয়েন্স নিয়ে ফজলুর রহমান বাবুর সাথে শুরু হয় কথোপকথন ও প্রশ্নোত্তর পর্ব। সত্যবাণীর পক্ষে পুরো পর্বটি উপস্থাপনা করেন, বিলেতের সুপরিচিত টেলিভিশন উপস্থাপক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব বুলবুল হাসান।

ছবি: জি আর সোহেল
ছবি: জি আর সোহেল

উপস্থাপকের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে নিজের পেশাগত জীবনের অনেক না বলা কথা তাঁর ভক্তদের সাথে এসময় শেয়ার করেন ফজলুর রহমান বাবু। কথোপকথনের শুরুতেই তাঁকে নিয়ে এমন একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করায় সত্যবাণীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। বলেন, ‘সত্যবাণীর আমন্ত্রণ পেয়ে আমি উৎসাহিত হয়েছি। মনে পড়েছে, ‘আজ থেকে ২৫শ বছর আগে করা মনিষির উক্তি ‘The truth is cruel, but it can be loved, and it makes free those who have loved it.’। ১শ বছরেরও আগে ব্রিটেনে যারা সত্যবাণী পত্রিকার জন্ম দিয়েছিলেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও বর্তমানে যারা এটি আবার অনলাইনে নিয়ে এসেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাবু বলেন, ‘ আসলে আমরা সবাইতো সত্যি কথাটাই বলতে চাই। রবীন্দ্রনাথও বলে গেছেন ‘সত্য যে কঠিন কঠিনেরে ভালোবাসিলাম’।

ছবি: জি আর সোহেল
ছবি: জি আর সোহেল

অভিনয় জগতে তাঁর এ সফলতার পেছনের মূল রহস্য জানতে চাইলে ফজলুর রহমান বাবু বলেন, ‘আমি ফরিদপুরের মানুষ। নদী বেষ্টিত আমার এলাকার প্রকৃতি নিয়মিতই আমাকে টানে। নদীর সাথে আমার নাড়ির সম্পর্ক। প্রকৃতিই আসলে আমাকে গড়ে তুলেছে।’
পাড়ার এক বড় ভাইয়ের আহবানে প্রথম অভিনয়, এমন তথ্য দিয়ে তিনি জানান, ফরিদপুরে আয়োজিত জাতীয় নাট্যৎসবে অভিনয়ের মাধ্যমেই এ জগতে তাঁর প্রথম পদার্পন। পড়াশোনার জন্য ঢাকায় আসার পর নাটককে নিজের করে নেন।

ছবি: জি আর সোহেল
ছবি: জি আর সোহেল

বাবু বলেন, ‘অভিনয় আমার পছন্দের পেশা। আমি এমন একজন ভাগ্যবান মানুষ, যে নিজের পছন্দের বিষয়টিকে পেশা হিসেবে নিতে পেরেছে। আমি সব সময়ই সর্বোত ভাবে চেষ্টা করি যাতে পেশাদারিত্ব বজায় রেখেই আমি আমার কাজটি করতে পারি’।

654C5EF0-8142-4D58-A29D-3DF8C61A217Cএকজন অভিনেতার জন্য আরাধ্য জায়গা হলো মঞ্চ ও চলচ্ছিত্র, এমন মন্তব্য করে ফজলুর রহমান বাবু বলেন, ‘বিগত মাঝখানের দুটি দশক আমাদের চলচ্চিত্রের জন্য খুবই খারাপ সময় ছিলো, নামতে নামতে এমন স্থানে এসেছিলাম আমরা যে রুচিবান দর্শক সিনেমা হলে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। এই সময়ে সিনেমার সংখ্যা বেড়েছে কিন্তু দর্শক কমেছে। আগে ৫০টি চলচ্চিত্র তৈরী হলে এরমধ্যে ১০টি থাকতো ভালো রুচিশীল। আর এখন ৫শ টি সিনেমা হলে, এর মধ্যে ভালো সিনেমা থাকে বড়জোড় ১১টি। আর একারনেই এক সময় সারা দেশে ২৪শ সিনেমা হল থাকলেও এখন ঠিকে আছে মাত্র ২শ।’

ভবিষ্যতে আপনার দর্শকরা আপনাকে কতটুকু মনে রাখবে, এমন এক প্রশ্নের জবাবে অভনয় জগতের এই কিংবদন্তী বলেন, ‘ভবিষ্যত বলার ক্ষমতা নেই আমার। মানুষের স্মৃতিতেই আমাদের বেঁচে থাকা। দর্শকদের স্মৃতিতে কিভাবে বেঁচে থাকা যায়, অভিনয় করতে গিয়ে আমি সবসময়ই সেই চেষ্টা করি’।

ছবি: জি আর সোহেল
ছবি: জি আর সোহেল

তাঁর দুয়েকটি চরিত্রের অভিনয়ে দর্শকদের ঘৃণার উদ্রেক হয়েছে, অর্ডিয়েন্স থেকে এমনটি জানতে পেরে বাবু বলেন, অভিনয়ে এটিই আমার স্বার্থকতা। ঘৃনার চোখে হলেও আমি দর্শকের স্মৃতিতে আছি, একজন অভিনয় শিল্পীর কাছে এর চেয়ে বড় আর কি পাওয়ার থাকতে পারে’।
টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সাম্প্রতিক রমরমা উপস্থিতি সুস্থ সংস্কৃতি বিকাশে কেমন ভূমিকা রাখছে, অর্ডিয়েন্স থেকে পাওয়া এমন অপর প্রশ্নের জবাবে কিংবদন্তী অভিনয় শিল্পী বাবু বলেন, ‘আজকে যারা টিভি চ্যানেলগুলোর মালিক, তারা আসলে টিভি চালানোর কথা না, তাদের অন্য কিছু করার কথা ছিলো। এই টিভি চ্যানেলগুলোর কমিটমেন্ট সুস্থ ধারার সংস্কৃতির প্রতি নয়,তাদের কমিটমেন্ট বানিজ্য ও ক্ষমতা চর্চার প্রতি।
কথোপকথন পর্বে তাঁকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন সিনিয়র সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাসন, সংস্কৃতিকর্মী মাহফুজা তালুকদার, সত্যবাণীর বার্তা সম্পাদক নিলুফা ইয়াসমিন হাসান, টিভি ওয়ান’র সিইও গোলাম রসুল ও অনুষ্ঠান সহযোগী প্রবাসী পল্লীর পরিচালকমন্ডলীর সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমূখ।

উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কমিউনিটি এক্টিভিস্ট ও কেমডেন ল সেন্টারের সাবেক কর্মকর্তা জামাল হাসান, ইমিগ্রেশন এডভাইজার মাহমুদ কাইয়ুম, অভিনেত্রী মাহফুজা তালুকদার, গুলশান হাসান, রুমী হক, তানজিলা, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব সহসভাপতি তারেক চৌধুরী, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য,  চ্যানেল এস’র রেজাউল করিম মৃধা, টেলিভিশন উপস্থাপিকা উর্মী মাজহার, সিনিয়র সাংবাদিক শামসুল আলম লিটন, কালের কন্ঠের লন্ডন প্রতিনিধি জুয়েল রাজ, এনটিভি’র আকরাম হোসেইন, এলবি২৪ এর শাহীন আহমেদ, ফটো সাংবাদিক জি আর সোহেল ও নাহিদ জায়গীরদার, রাজনীতিক সৈয়দ এনামুল ইসলাম, সানরাইজ টুডে’র চেয়ারম্যান ওয়াজেদ হাসান সেলিম, যুবনেতা সৈয়দ মুমিন, শহীদ শেখ, ছাত্রনেতা তামিম ও সজিব, ব্যাবসায়ী সৈয়দ আসাদ হক, কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট সৈয়দা বিলকিস মনসুর, সৈয়দা নাসিহা হক প্রমূখ।

B4A49AE3-EB3F-40D0-96A9-4A85FD77AA18কথোপকথন পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে ফজলুর রহমান বাবু নিজে পরিবেশন করেন সেই জনপ্রিয় গান, ‘নিথুয়া পাতারে নেমেছি বন্ধুরে ধরো বন্ধু আমার কেহ নাই…’।
এই পর্বে অন্যানের মধ্যে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী সাইদা তানি, পরাগ হাসান ও রাজিয়া রহমান।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *