চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন উন্নয়নে আইন পাস


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

জাতীয় সংসদ থেকেঃ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ব্যক্তির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়ার বিধান সংযোজন করে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন (সংশোধন) বিল,২০১৯’ পাস হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) তথ্যমন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।এরআগে বিলের ওপর বিরোধী দলীয় একাধিক সদস্যের মত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানোসহ সংশোধনী প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি করা হয়।দিনের কার্যসূচিতে বিলটি পাসের কথা থাকলেও তথ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে বৈঠকের সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া এটি পাসের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন।কিন্তু এরই মধ্যে তথ্যমন্ত্রী সংসদের বৈঠকে প্রবেশ করেন এবং স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।মন্ত্রীর অনুরোধে স্পিকার বিলটি উত্থাপনের সুযোগ দেন।তথ্যমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করতে গিয়ে তার সংসদে প্রবেশে দেরি হওয়ার কৈফিয়ত হিসেবে বলেন,যানজটের কারণে সংসদে ঢুকতে দেরি হয়েছে।অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিয়ে সংসদে ফিরতে গিয়ে যানজটের কবলে পড়েন বলেও তিনি জানান।

তার এই বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় পার্টির সদস্য ফখরুল ইমাম।তিনি বলেন,সংসদের কাজের তুলনায় অন্যকাজ কোনও মন্ত্রী বা এমপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না।তথ্যমন্ত্রীর এমন অজুহাতের প্রতিবাদে তিনি বিলের ওপর জনমত যাচাইয়ের বক্তব্য দেওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখেন।পরে অবশ্য ফখরুল ইমামের এই বক্তব্যের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে তথমন্ত্রী বলেন,অবশ্যই সবার আগে সংসদের কাজ গুরুত্বপূর্ণ।কিন্তু তিনি সংসদ থেকে দশ মিনিটের দূরত্বে ছিলেন।এক ঘণ্টা আগে রওয়ানা হয়েও তিনি সময়মতো পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন।এর কারণ যানজট।’তিনি বলেন,ঢাকায় আজ বৃষ্টি হয়েছে।বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ দিন।এ কারণেই যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে।’

বিলের ওপর জনমত যাচাইয়ের আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন,তথ্যমন্ত্রী যতটা স্মার্ট বিটিভি ততটাই আনস্মার্ট।বিটিভির মান মোটেই ভালো না।যেখানে অন্য চ্যানেল দেখা যায় না;সেখানের মানুষই শুধু বিটিভি দেখে।বিএনপি দলীয় সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন,দেশের চলচ্চিত্রের এখন চরম দুরবস্থা চলছে।একে একে সব সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে।আকাশ সংস্কৃতি এতটা উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন,প্রতিবেশী দেশ ভারতের চ্যানেল এখানে দেখা গেলেও আমাদের টিভি চ্যানেলগুলো ভারত থেকে দেখা যায় না।হারুনুর রশীদ বলেন,প্রাইভেট টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে দলীয় আনুগত্য দেখে।ফলে এগুলোয় নিরপেক্ষ সংবাদ বা অনুষ্ঠান প্রচার হয় না।মানুষ তা দেখে না।বিএনপির মোশাররফ হোসেন বলেন,বিটিভিতে আরও বড় পরিবর্তন এনে একে যুগাপযোগী করে তোলা দরকার।এই প্রতিষ্ঠানে সবসময় সরকারি দলের সংবাদ প্রচার করে।বিরোধী দল ও তাদের বিষয়ে কোনও সংবাদ দেখতে পাওয়া যায় না।

গণফোরামের মোকাব্বির খান বলেন,সরকারের কর্তা ব্যক্তিরাও বিটিভি দেখেন না।আগ্রাসন ও অপসংস্কৃতির ধাক্কায় দেশীয় চলচ্চিত্র ধ্বংসের মুখে।জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত আসনের রওশন আরা মান্নান বলেন,বিটিভিসহ অন্য চ্যানেলগুলোয় সারাদিন সিনেমা চালানো হয়।এতে করে ছাত্র-ছাত্রী ও কিশোর-কিশোরীরা পড়াশোনা করতে চায় না।এমনকি তারা স্কুলেও যেতে চায় না।এ বিষয়ে তিনি তার আপত্তির কথা তুলে ধরেন।জাতীয় পার্টির আরেক সদস্য মজিবুল হক চুন্নু বিটিভির অনুষ্ঠানের সমালোচনা করতে গিয়ে বলেন,এই বিল পাস হলে দেশে ভালো চলচ্চিত্র নির্মিত হবে,এমন নিশ্চয়তা কি মন্ত্রী দিতে পারবেন?’ তিনি বলেন,বিটিভির অনুষ্ঠান ও সংবাদ পাঠ এমন সব লোককে দিয়ে করানো হয়,যা অন্য চ্যানেলের তুলনায় মানসম্পন্ন নয়।বিটিভিতে চাকরি করেন এমন কর্মকর্তাদের আত্মীয়-স্বজনদের দিয়ে এসব অনুষ্ঠান করানো হয়।সংবাদ পড়ানোর জন্য ‘বুড়া-ধুরা’মহিলাদের দিয়ে কাজ চালানো হয়।

সংসদ সদস্যদের এসব সমালোচনার জবাবে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন,বয়স বেশি না কম;এটা কোনও কাজের মানদণ্ড হতে পারে না।কম বয়সী হলেই পারফরম্যান্স ভালো হবে এমন কোনও কথা নেই।এ ধরনের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার জন্য তিনি স্পিকারের কাছে দাবি জানান।বাংলাদেশে এখনও সবচেয়ে বেশি বিটিভির দর্শক এমন দাবি করে তথ্যমন্ত্রী বলেন,ভারতের সঙ্গে ইতোমধ্যে চুক্তি হয়েছে।শিগগিরই সারা ভারতবর্ষে বিটিভি দেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।বিটিভির মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপও তুলে ধরেন তিনি।তথ্যমন্ত্রী বলেন,গত দশ বছরে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের যতটা বিকাশ হয়েছে,উন্নত বিশ্বেও ততটা হয়নি।আগে দৈনিক পত্রিকা ছিল সাড়ে ৭০০।এখন এক হাজার ৩০০।প্রাইভেট টিভি চ্যানেল ছিল ১০টি,এখন ৩৪টি,লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে ৪৫টির।অনলাইন আগে ছিল হাতে গোনা কয়েকটি এখন লাইসেন্সের জন্য ইতোমধ্যে ৮ হাজার আবেদন জমা পড়েছে।পাস হওয়া বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে তথ্যমন্ত্রী বলেন,বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের গভর্নিং বডিতে সংশ্লিষ্ট বরেণ্য ব্যক্তিদের উপস্থিতি ইনস্টিটিউটকে সমৃদ্ধ করবে।গণমাধ্যম ব্যক্তিদের কাজের অধিক্ষেত্র বিস্তৃত হওয়ায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত এই ইনস্টিটিউটের কার্যাবলির সঙ্গে গণমাধ্যম ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি অধিকতর সঙ্গতিপূর্ণ হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *