প্রকৃতি তার আগাছা নিজেই পরিস্কার করবে


Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

IMG_2684আহমেদ নুরুল টিপু

 

সাদ্দাম হোসেনের দুই ছেলের মধ্যে উধয় ছিল বড় আর কাসেই ছিল ছোট । বাপের অসম্ভব ক্ষমতা আর প্রতিপত্তির জোরে দিনে দিনে দুই ভাই-ই একধরনের নর পিশাচে পরিনত হয় । তাদের নিস্টুরতার পরিমান তাদের বাপকেও হার মানিয়েছিল । পিতা সাদ্দাম ডাক্তারী পড়তে উধয়কে বাগদাদের নামি দামি একটি মেডিকেল কলেজে পাঠিয়েছিলেন কিন্তু সে মাত্র তিন মাস পড়েই সেখান থেকে পালিয়ে আসে । সবাইকে অবাক করে পাশের এক ইঞ্জনিয়ারিং ইউনিতে ভর্তি হয়ে ৭৬ জনের ব্যাচে ১ নম্বর স্থান দখল করে ফেলে । বায়ুন্ডলে পুত্রের এত তাড়াতাড়ি মেধাবি বনে যাওয়ার পিছনে সাদ্দামের সন্দেহ হলে তিনি খবর নিয়ে দেখেন উধয় তার শিক্ষককে হুমকির মধ্যে রেখে জোর করে ১ নাম্বার হয়েছে । হাল ছেড়ে সাদ্দাম হুসেন উধয়কে দেশের ক্রীড়া সংস্থার প্রধান বানিয়ে দেন । তখন উধয় ইরাকের নামী দামী বিখ্যাত সব এথল্যাটসদেরকে কোন খেলায় হারলেই কান ধরে উঠবস করাতো, সবার সামনে বেত্রাঘাতে শাস্তি দিত । ফলে প্রতিভা থাকা সত্তেও ইরাকের খেলোয়াড়রা উধয়ের ভয়ে প্রতিযোগিতায় কেউ নাম লিখাতে সাহস করতো না ।

মানুষ খুন ছিল তাদের বা-হাতের খেল । ধর্ষনেও উধয় ছিল ভয়ঙ্কর । মিস বাগদাদ উপাধি পাওয়া এক ইরাকি সুন্দরীকে একবার উধয় তার হেরেমে ডেকে নিয়ে আসে এবং মেয়েটির পিতার উপস্তিতিতেই তাকে ধর্ষন করে । পিতা প্রতিবাদ করলে তাকে নির্মম্ভাবে খুন করে তার পালিত সিংহকে দিয়ে খাইয়ে ফেলে । ত্যক্ত বিরক্ত সাদ্দাম হুসেন পুত্রকে একবার জেলেও পুরেছিলেন কিন্তু লাভ হয়নি, সে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে । ইরাকের মানুষ ভয়ে চুপসে গিয়ে ভাবতো সাদ্দাম পুত্রের অত্যাচারের লাগাম টানার কেউ বোধ হয় আর এই পৃথিবীতে নেই, বাকি জীবন তাদেরকে এই বিভীষিকায় পার করতে হবে ।

কিন্তু না, বেশিদিন পার করতে হয়নি । কারন প্রকৃতি তার আগাছা নিজেই পরিস্কার করতে অভ্যস্ত ।

২২ শে জুলাই, ২০০৩ । প্রায় ২ শত মার্কিন সৈন্যের একটি বিশেষ দল ইরাকের তিক্রিতের উধয় হুসেনের বাড়িটি ঘেরাও করে । অএইচ-৫৮ হেলিকপ্টার আর এ-১০ ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী ফাইটার জেটের উপর্জুপুরি বর্ষনে উধয় আর কাসের হেরেম চুর্ন বিচুর্ন হয়ে যায় । দুই পুত্রের টুকরা টুকরা লাশ বস্তায় ভরে ল্যাবে নিয়ে পরীক্ষা নিরিক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয় যে, এটি পরম ক্ষ্মতাবান সাদ্দাম পুত্রের দেহবাশেষ ।

উধয় কাসের সেই হেরেমখানা এখন ধুলায় মিশে একাকার, মানুষ তো দূরে থাক, বনের ঘুঘুও সেখানে আর বিষ্ঠা ছাড়ে না !

আমাদের নারায়ণগঞ্জের সেই দুই ভাইয়ের কীর্তি আজ উধয় কাসের পরিনতির দিকেই এগুচ্ছে । যে শিক্ষক আমাদের মা বাবার পরেই সবচেয়ে শ্রদ্ধার আসনে অধিস্টিত থাকেন সেই শিক্ষকে তারা ইচ্ছেমত কান ধরে উঠবস করিয়েও ক্ষান্ত দেয়নি, টুনকো অভিযোগ এনে হাতকড়া পরিয়ে এখন জেলে পুরে দিয়েছে । সাদ্দাম হুসেন যেমন তার বখাটে ছেলেদের কারনে নরপিশাচ উপাধিতে ভুষিত হয়েছিলেন ঠিক তেমনি আওয়ামীলীগকেও আজ এই ধরনের কিছু লোকের কারনে ‘গডফাদার’ খেতাবে ভূষিত হতে হচ্ছে । অথচ আজকের আওয়ামীলীগে মেধাবিদের কোন কমতি নেই, অদম্য পেশাজীবীদের কোন ঘাটতি নেই ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী , এদের লাগাম টানার সময় হয়েছে, এই অমানুষদেরকে থামান । মনে রাখবেন এই দুজনের নিস্টুরতা আর সীমাহীন অত্যাচার আওয়ামীলীগ সহ্য করলেও প্রকৃতি সইবে না, বড় নিসটুর প্রতিশোধ নেবে, ইতিহাস তাই বলে !

আহমেদ নুরুল টিপু: সত্যবাণী’র ফিচার করেসপন্ডেন্ট

Share on Facebook0Tweet about this on TwitterShare on Google+0Email this to someonePrint this page

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *