কলকাতার বিধান সরণীতে সাধারণ ব্রাহ্ম সমাজ আয়োজিত অনুষ্ঠানে গীতবীণার পরিবেশনা
এম কে মিলন ও এস কে চৌধুরী
সত্যবাণী
কলকাতাঃ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯২৬ সালের ইউরোপ ভ্রমনের বিশেষ শতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে ৯ই আগস্ট ২০২৬,রোববার সন্ধ্যা ৬টায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতায় বিধান সরণীতে অবস্থিত সাধারণ ব্রাহ্ম সমাজ একটি বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করে।সমাজের মন্দির মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।প্রথম অংশে অনুষ্ঠিত হয় ব্রহ্মোপসনা।আচার্য অমিত দাস প্রার্থনা পর্ব পরিচালনা করেন।প্রার্থনা পর্বে বেশ কয়েকটি ব্রহ্ম সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী তানিয়া বসু পোদ্দার।
বিশেষ প্রার্থনা সমাপনান্তে লন্ডন থেকে আগত গীতবীণার শিল্পীরা “গানে গানে তব বন্ধন যাক টুটে” শীর্ষক গীতি আলেখ্য পরিবেশন করেন।সকাল বেলার আলোয় বাজে, বিদায় ব্যথার ভৈরবী।”এ গানটি দিয়ে সংগীতানুষ্ঠান শুরু হয়, তারপর একের পর এক গাওয়া হয় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক ইউরোপে রচিত চৌদ্দটি গান। কয়েকটি গানের পরপর ছিলো ভাবধারা বর্ণনা।গীতি আলেখ্যের পরিকল্পনা ও গ্রন্থনা এবং ভাব বর্ণনা করেন রবীন্দ্র গবেষক ও প্রচার মাধ্যম ব্যক্তিত্ব শ্রী পীতম সেনগুপ্ত। এ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকা ছিলো অনন্য।

সমবেত ও দ্বৈত কন্ঠে সংগীতে অংশ নিয়েছিলেন গীতবীণার শিল্পী রুমি হক,মিতালী বনোয়ারী ও সুনিতা চৌধুরী এবং মোস্তফা কামাল মিলন ও ডক্টর শ্যামল চৌধুরী।সঙ্গীতানুষ্ঠানের পরিকল্পনা,গান নির্বাচন,সংগীত নির্দেশনা ও পরিচালনা করেছেন ডক্টর শ্যামল চৌধুরী।অনুষ্ঠানটির সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন গীতবীণার প্রধান উপদেষ্টা ও স্বদেশ বিদেশ অনলাইন নিউজের সম্পাদক বাতিরুল হক সরদার।সংগীত পরিবেশন শেষে গীতবীণার শিল্পীবৃন্দ ও যন্ত্র শিল্পীদের দর্শক-শ্রোতাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন ডক্টর শ্যামল চৌধুরী। একইসাথে যথাযথ শুদ্ধতার সাথে কবিগুরুর সংগীত পরিবেশন করা গীতবীণার মূল লক্ষ্য এবং এর মাধ্যমেই বিশ্বকবির প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য অনুষ্ঠানে তবলা ও মৃদঙ্গে সংগত করেন সন্দীপ মন্ডল, এসরাজে ছিলেন সৌগত দাস।পরিশেষে বাতিরুল হক সরদার গীতবীণার পক্ষে উপস্থিত দর্শক শ্রোতাবৃন্দসহ সাধারণ ব্রাহ্ম সমাজের কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এ মহতী উদ্যোগে গীতবীণাকে আমন্ত্রণ জানানো এবং সমগ্র অনুষ্ঠানটি উপভোগ করে গীতবীণার সকলকে অনুপ্রাণিত, মহিমান্বিত ও অবিস্মরণীয় করার জন্য।

গীতবীণার পরিবেশিত গীতি আলেখ্যের গান সমূহ অত্যন্ত সাবলীল ভাবে যথাযথ সুরে ও লয়ে খোলা গলায় এবং নির্ভূল উচ্চারণে পরিবেশন করায় শিল্পীদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান ব্রাহ্ম সমাজের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত সবাই ও অপরাপর দর্শকবৃন্দ। এদের প্রায় সকলেই গীতবীণার পরিবেশিত গানের সাথে অত্যন্ত মনযোগের সঙ্গে কন্ঠ মেলানোর সমূহ প্রয়াস করেন।কলকাতা সফররত বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন নাগরিক গীতবীণার অনুষ্ঠান সম্পূর্ণটা উপভোগ করেন এবং অনুষ্ঠানটি শতভাগ সফল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।বিদায়লগ্নে সাধারণ ব্রাহ্ম সমাজের নির্বাহী কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্যকে গীতবীণার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে এ বিশেষ আয়োজনের সার্থক পরিসমাপ্তি ঘটে।বলাবাহুল্য যে,গীতবীণা অর আগে ৬ই আগস্ট বোলপুরের শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাথে যৌথ আয়োজনে অনুরূপ একটি সার্থক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে সবার ভালবাসা ও প্রশংসা অর্জন করে।