ঝুট ব্যবসা দখল নিয়ে বিএনপির দুইপক্ষের সংঘর্ষ, গুলি-ককটেল বিস্ফোরণ
নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী
গাজীপুর: গাজীপুরে ঝুট ব্যবসার দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ ও ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।এ সময় ককটেল বিস্ফোরণের পাশাপাশি ঝুটবোঝাই ট্রাক এবং ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। সেইসঙ্গে একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়।শনিবার (৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মহানগরীর বাসন থানাধীন বিটিপাড়া এলাকায় দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বিটিপাড়া এলাকার ম্যানেল ফ্যাশন লিমিটেড নামের কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন যুবদলের নেতা নাজমুলসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।শনিবার সকালে সেখান থেকে ঝুট বের করতে যান মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শরীফ আজাদ,বাসন থানা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নুর ইসলাম ও মান্নান।সেখানে তাদের বাধা দেয় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
ওই সময় শরীফ আজাদের অনুসারীরা পিছু হটে যায়।সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আবারও ঝুট বের করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।একপর্যায়ে একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। হামলাকারীদের অনেকের হাতে দেশীয় অস্ত্র ও রামদা ছিল।সংঘর্ষ চলাকালীন হামলাকারীরা কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে এবং কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।একপর্যায়ে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন।ম্যানেল ফ্যাশন লিমিটেড থেকে ঝুট ব্যবসার অর্ডার পাওয়া খান ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী কৌশিক খান বলেন, ‘কারখানার সঙ্গে আমাদের বৈধ চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ঝুট কিনতে গিয়ে আমরা হামলার শিকার হয়েছি।১৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও যুবদলের প্রায় ২০০-২৫০ জন নেতাকর্মী অস্ত্রসহ আমাদের ওপর হামলা চালান।এ সময় হামলাকারীরা আমাদের ঝুটবোঝাই ট্রাক এবং এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা লুটে নিয়েছে।’
এ বিষয়ে বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন,‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’