ওয়ার্কারস ইউনিয়ন ও উদীচী’র উদ্যোগে লন্ডনে আর্ন্তজাতিক শ্রমিক দিবস মে ডে পালিত

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

লন্ডন, ৬ মে: আর্ন্তজাতিক শ্রমিক দিবস মে-ডে উপলক্ষে বাংলাদেশ ওয়ার্কারস ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাজ্য সংসদের উদ্যোগে আলোচনা সভায় অধিকার আদায়ে  শ্রমজীবী মানুষের ঐক্যের ডাক দিয়েছেন  বক্তারা।

গতকাল ৫ মে পূর্ব লন্ডনের ম্যানর পার্ক কমিউনিটি হলে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন যৌথভাবে উদীচীর সভাপতি হারুন অর রশিদ ও ওয়ার্কাস ইউনিয়নের সভাপতি শাহরিয়ার বিন আলী। সমগ্র অনুষ্ঠান  পরিচালনা করেন শাহরিয়ার বিন আলী।

অনুষ্ঠান শুরু হয় বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন দাবী আদায়ের আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত পোষাক শ্রমিকদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক  মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সভায় নিহত পোষাক শ্রমিকদের কয়েকটি প্রতিকৃতি মঞ্চে প্রদর্শন করা হয়।

বিশ্বব্যাপী শ্রমিক নিপীড়নের অবসান কামনা করে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ইউকে ও ইউরোপিয়ান কমিটির সভাপতি কমরেড আবিদ আলী আবিদ, লন্ডনের বামএক্টিভিস্ট  কাউন্সিলার ড. জন উইটওয়ার্থ, ডেইলি মর্নিং স্টারের ক্যাম্পেইন ম্যানেজার  কেলভিন ট্যাকার, নিউহাম ট্রেডস কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন স্টেভ হার্ডালি, রেডব্রীজ মোমেনটামের নেতা ডায়না নেলসন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল সোসাইটি ইউকের সভাপতি ডা. রফিকুল হাসান খান জিন্নাহ, যুক্তরাজ্য উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জুবের আক্তার সুহেল, বাংলাদেশ ওয়ার্কাস কাউন্সিল ইউকের সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত দাস প্রশান্ত, বাবুল খন্দকার, যুক্তরাজ্য যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নাসিমা আহমদ মঞ্জুরি ও আমজাদ খান।

বাংলাদেশে পোষাক শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধানসহ শিল্প শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক ও পরিবহন শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ  করে বক্তারা বলেন, শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তি, দেশের প্রাণ, শ্রমিকরা না বাঁচলে দেশ বাঁচবে না। তারা বলেন, বিশ্বপুঁজিপতিদের পরামর্শে সরকার শ্রমিকদের প্রতি উদাসীন। শ্রমিকদের উদ্দেশে তারা বলেন, আন্দোলন সংগ্রাম ছাড়া কখনো দাবী আদায় হয় না। ঐক্যের প্রতি জোর দিয়ে তারা বলেন, বিভেদ সৃষ্টিকারিদের  প্রতি হুঁশিয়ার থাকুন। ঐক্যবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনই শ্রমিকদের প্রধান শক্তি। ঐক্যের কাছে পরাশক্তি নতিস্বীকার করে। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ সেই ইস্পাতদৃঢ় ঐক্যেরই জয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল শোষণ মুক্তি। স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পেরিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষ শোষণ থেকে মুক্তি পায়নি। শোষণ থেকে মুক্তির জন্য কৃষক, শ্রমিক পেশাজীবীর লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। ১৮৮৬ সালের ১ মে  আমেরিকার হে মার্কেটে ন্যায্য মজুরীর দাবীতে শ্রমিকরা রক্ত দিয়ে যে সংগ্রামের সুচনা করেছিল, তার উত্তরাধিকার সংগ্রামের  দুর্জয় স্তম্ভ মে দিবস।

এছাড়া দেশে দেশে যুদ্ধ বন্ধ এবং প্যালেস্টাইনে গণহত্যা বন্ধের দাবী জানানো হয়। বক্তারা বলেন, প্যালেস্টাইনে নিরীহ মানুষকে হত্যার পেছনের পশ্চিমাবিশ্বের প্রচ্ছন্ন মদদ রয়েছে। শিশু ও নিরীহ মানুষকে হত্যার জন্য দায়ী তথাকথিত পুরো সভ্য  বিশ্ব। স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ ছাড়া শান্তি স্থাপন সম্ভব নয়।

আলোচনা পর্ব শেষে বাংলাদেশ উদীচীশিল্পী ইউকে সংসদের শিল্পীরা গোপাল দাশের নেতৃত্বে গণসঙ্গীত পরিবেশন করেন।

You might also like