কোম্পানীগঞ্জে সাড়ে ১৪ কোটি টাকা ভেস্তে গেছে, বাড়িঘরে জলাবদ্ধতা

চঞ্চল মাহমুদ ফুলর
সত্যবাণী

সিলেট থেকেঃ রাস্তার উন্নয়ন এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয়েছে এ মরণফাঁদ। এলাকাবাসীর আনন্দ রূপ নিয়েছে চরম বিষাদে। রাষ্ট্রীয়ভাবে সৃষ্ট এ দূরাবস্থা ও আর্তনাদ দেখার কেউ নেই।কোম্পানীগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা জানান, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই সেতু হতে বালুচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তার দৈর্ঘ্য সাড়ে ৩ কিলোমিটার। দীর্ঘ প্রায় দেড়যুগ ধরে রাস্তাটিতে কোন কাজ হয়নি। ফলে অধিকাংশ স্থানে ধ্বসে পড়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে রাস্তাটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবীর মুখে গ্রামীণ এ রাস্তাকে সড়কে রূপান্তরে হাত দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। এতে উল্লাসে মেতে ওঠেন এলাকাবাসী।ধলাই সেতু-দয়ারবাজার এই সাড়ে ৩ কিলোমিটার রাস্তার জন্য বরাদ্দ করা হয় প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা। কলাবাড়ি গ্রামের মধ্যদিয়ে চলে গেছে রাস্তাটি। বছর খানেক আগে শুরু হয় এ রাস্তার কাজ। পুরনো রাস্তা থেকে ৩ ফুট উঁচু ও দুপাশে ইটগাঁথুনি দিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বর্তমানে কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে।

কিন্তু অপরিকল্পিত এ রাস্তা এলাকার মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আনন্দ এখন পরিণত হয়ে গেছে চরম বিষাদে। বর্ষার শুরুতে অল্প বৃষ্টিতেই ডুবে গেছে কলাবাড়ি গ্রামের রাস্তার উত্তর অংশের শতাধিক বাড়িঘর। ভেস্তে গেছে হাঁস-মোরগ, গরু-ছাগলসহ গৃহস্থালি সব সহায়-সম্পদ। প্রবল বন্যায় যেখানে এই গ্রামের মানুষজনকে আশ্রয় নিতে হতো না অন্যত্র। এখন অল্পবৃষ্টিতেই আশ্রয় নিতে হয়েছে অন্যত্র বিভিন্ন বাড়ি-ঘরে।পূর্বে এ রাস্তায় শুধু কলাবাড়ি গ্রামের ভেতরেই ছিল পানি নিষ্কাশনের জন্য পাকা করা ৭টি সচল কালভার্ট। বানের পানি, পাহাড়ি ঢলসহ বৃষ্টির পানি খুব সহজেই নেমে যেতো এসব কালভার্ট দিয়ে। কিন্তু বর্তমান রাস্তা নির্মাণকাজে সাড়ে ৩ কিলোমিটার রাস্তায় পানি নিষ্কাশনের জন্য কোন কালভার্টই রাখা হয়নি।পূর্বেকার সকল কালভার্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মাটি ও ইটের গাঁথুনি দিয়ে। ফলে গত দু-দিনের অল্প বৃষ্টিতেই হাটুপানি-কোমরপানি কলাবাড়ি গ্রামের রাস্তার উত্তরাংশের বাড়িঘরে। ক্ষতি হয়েছে মানুষজনের লাখ লাখ টাকার সম্পদ। জলাবদ্ধতার কারণে স্থায়ীভাবে পানিবন্ধী হয়ে পড়েছেন গ্রামের হাজার-হাজার মানুষ। নানা জীবানুবাহিত পানির ছোঁয়াতে ছড়িয়ে পড়ছে ডায়রিয়াসহ নানা রোগব্যাধি।এ অবস্থার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী। তারা বলছেন, প্রকৌশল বিভাগ অপরিকল্পিতভাবে রাস্তাটি নির্মাণ করায় সরকারের সাড়ে ১৪ কোটি টাকার উন্নয়ন ভেস্তে গেছে। এ টাকা দিয়ে রাস্তা নয়, মানুষের জন্য স্থায়ী মরণফাঁদ তৈরি করা হয়েছে।দক্ষিণ কলাবাড়ি গ্রামের ভুক্তভোগী মকবুল আলী বলেন, ‘নয়া রাস্তা অইছে দেখিয়া খুশি অইছ্লাম। এখন রাস্তাউ আমরার লাগি কাল অই গেছে, একদিনর মেঘে (বৃষ্টিতে) আমরার গ্রামর মানষ’র হক্কলতা শেষ। আমরা এবুল অন্য’র বাড়িত আশ্রয় নিছি। জানিনা ঘর-বাড়ির পানি কোনদিন হুকাইব’।ইসলামপূর পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর আলম, সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সরেজমিনে গিয়ে দেখে এসেছি। মানুষজন খুব কষ্টে আছে। পূর্বের কালভার্টগুলো বন্ধ করে রাস্তা নির্মাণ করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আমি প্রাথমিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। আপাতত ১টি কালভার্টের নিচ খননের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিছুটা হলেও সমস্যার সমাধান হবে এবং বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ খান রাবি পূর্ব এ রাস্তায় ৭টি কালভার্ট ছিল, এ কথা স্বীকার করে বলেন, কালভার্টগুলো আগে থেকেই বন্ধ ছিল। রাস্তা নির্মাণের কারণে নতুন করে এগুলো বন্ধ করা হয়নি। আমরা এগুলো খননের জন্য একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলে খুব শিগগিরই খননের ব্যবস্থা করা হবে।

You might also like