ধর্মের অপব্যাখাকারী উগ্রবাদীদের গ্রেফতারের দাবী যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সভা

মতিয়ার চৌধুরী
সত্যবাণী

লন্ডনঃ কুষ্টিয়ায় জাতির জনকের ভাষ্কর্য ভাংচুর কারীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা ও ধর্মের অপব্যাখ্যাকারী উগ্রবাদীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ। গেল ৭ই ডিসেম্বর লন্ডন সময় সন্ধ্যে সাত ঘটিকায় যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ আয়োজিত ভ্যার্চুয়্যাল প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এদাবী জানান। বক্তারা বলেন একটি চিহ্নিত উগ্রগোষ্টী ধর্মের অপব্যাখ্যা করে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করছে। এই গোষ্টী বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেনা। তাদের পরিচালিত মাদ্রসা গুলোতে জাতীয় পতাকা উড়ায়না, মানেনা জাতীয় সংঙ্গীত। এইসব মাদ্রসায় পড়ানো হয়না ইংরেজী বিজ্ঞান ইতিহাস অর্থনীতি সমাজ বিজ্ঞানের মত গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলো।

বক্তারা দেশের কউমীমাদ্রসা গুলোকে একটি নিদৃষ্ট সিলেবাসের আওতায় আনার দাবী জানান। যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক নইম উদ্দিন রিয়াজের সঞ্চালনায় অনুষ্টিত ভার্চুয়্যাল প্রতিবাদ সাভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ সাংবাকি কলামিষ্ট আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিসিবি’র পরিচালক ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল । বক্তব্য রাখেন ষ্টাডি সার্কেলের পরিচালক মোজাম্মিল আলী, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সহসভপতি অধ্যাপক আবুল হাশেম, হরমুজ আলী, জালাল উদ্দিন, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সৈয়দ ফারুক, সারব আলী, আ.স.ম মিসবাহ, কাওছার চৌধুরী , আনসারুল হক আব্দূল আহাদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী, সাজ্দাদ মিয়া খসরুজ্জামান খসরু প্রমুখ। বক্তারা বলেন স্বাধীনতা বিরোধীদের ইন্দনে দেশের কয়েকজন চিহ্নিত ধর্মব্যবসায়ী ও স্বঘোষিত চরমোনাইর পীর ধর্মের দোহাই দিয়ে বাংলাদেশ থেকে জাতির পিতার ভাষ্কর্য অপসারন করতে চাইছে।

শুধু তাই নয় বলেছে জাতির পিতার ভাষ্কর্য বুড়িগঙ্গায় ফেলে দিবে এটি জঘন্য অপরাধ। তাদের এই বক্তব্যটি সম্পুর্ণ রাষ্ট্রদোহী এবং সংবিধান বিরোধী। জাতির জনকের অবমাননাকারী সংবিধান বিরোধী বক্তব্য দিয়ে এরা স্বাধীনতাকে অস্বীকার করেছে আর একারণেই এদের শাস্থি পেতে হবে। এই গোষ্টীই ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের কাফের ফতোয়া দিয়েছিল, পরবর্তিতে জোনাইদ বাবুনগরীরর নেতৃত্বে ৩৫ হাজার কউমীমাদ্রসার ছাত্র শিক্ষক আগানিস্থানে তালেবান বাহিনীতে যোগ দেয়। এরাই একসময় রাজ পথে শ্লোগান দিয়েছে ‘‘ আমরা সবাই তালেবান বাংলা হবে আফগান।’’ এই ধর্মান্ধ গোষ্টী সাম্প্রদায়িক সম্পৃতির দেশ বাংলাদেশকে তালেবানী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। এদের অর্থের উৎস এবং ইন্দন দাতাদেরও আইনের আওতায় অনতে হবে। প্রবীণ সাংবাদিক আব্দূল গাফ্ফার চৌধুরী বলেন মূর্তি এবং ভাষ্কর্য এক জিনিষ নয়, ভাষ্কর্য হলো একটি দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিক। বিশ্বের প্রতিটি দেশেই ভাষ্কর্য রয়েছে। সুফি বাদের প্রতিষ্টা মৌলানা রুমি, অমর খাইয়াম, আল্লামা ঈকবাল সহ বিশ্বের বিশিষ্ট জনদের ভাষ্কর্য রয়েছে। যারা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে এর বিরোধীতা করছে তাদের ইসলাম সম্পর্কে কোন ধারনাই নেই, ছবি তোলা, ভিটিও ধারন করাও ইসলাম নিষেধ করেছে আবার প্রয়োজনের তাগিতে তা জায়েজ করা হয়েছে। বর্তমান বিশ্বে ছবি এবং ভিটিও ছাড়া চলার কোন উপায় নেই । এসব জায়েজ হলে, ভাষ্কর্য নাজায়েজের কিছু নয়।

প্রয়োজনের তাগিদেই ভাষ্কর্য তৈরী করা হয়। বিশেষ অতিথি শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির দেশ। হাজার হাজার বছর ধরে বাংলার মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্পৃতির মাঝে বসবাস করে আসছে। আমলা লক্ষ্য করছি একটি ধর্মব্যবসায়ী গোষ্টী তাদের হীন স্বার্থ হাসিল করার জন্য ধর্মের অপব্যাখা করে সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। ধর্মের অপব্যাখ্যাকারীদেরও আইনের আওতায় অনতে হবে। হরমুজ আলী বলেন সাম্প্রতিক সময়ে দেশের চিহ্নিত কিছু ফেতনাবাজ ধর্মের অপব্যাখা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিনষ্ট করতে চাইছে। এই গোষ্টী বিভিন্ন সময় অহেকুত ফতোয়া দিয়ে দেশে রক্তপাত ঘটিয়েছে এরা এরা আলকায়দা তালেবানের মতাদর্শে বিশ্বাসী। তাদের উদ্দেশ্য সফল হতে দেয়া হবেনা।আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন কয়েকজন চিহ্নিত ধর্মব্যবসায়ী হেফাজতের ব্যানার ব্যবহার করে একের পর এক দেশদ্রোহী বক্তব্য দিয়ে দেশের ধর্মপ্রান মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে মামুনুল হক,বাবুনগরী, চরমোনার স্বঘোষিত পীর সহ অন্যান্যদের গ্রেফতারের দাবী জানান।

You might also like