বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন:বিএনপির সঙ্গে ৩২টি দল আর তিন জোট সরকারের জন্য কতটা হুমকি

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

ঢাকাঃ বাংলাদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে সমমনা ৩২টি রাজনৈতিক দল। গঠিত হয়েছে আলাদা তিনটি রাজনৈতিক জোট। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে যুগপৎ আন্দোলনে এসব দলকে নিয়ে বিএনপি কর্মসূচি পালন করছে।যদিও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতৃত্বে এই ছোট দলগুলোর রাজপথের সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অনেকের। বিএনপির সমর্থনে তিন জোটে রয়েছে ৩০টি রাজনৈতিক দল।এর মধ্যে নাগরিক ঐক্য, গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলনসহ সাতটি দল নিয়ে গঠন হয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ। বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট ভেঙে গঠন করেছে ১২ দলীয় জোট। আর জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট নামে একত্র হয়েছে ১১টি রাজনৈতিক দল।এই তিন জোটের বাইরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপি স্বতন্ত্র দল হিসেবে বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলন করছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বীর আহমেদ মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বাইরে ছোট দলগুলোর প্রাসঙ্গিকতা খুব একটা নেই।নির্বাচনী রাজনীতিতে বিএনপির সমর্থনে তিন জোট ও জোটের বাইরে থাকা দলগুলোর উল্লেখযোগ্য ভোটারও নেই।সরকার পতনের আন্দোলন সফল করতে হলে সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে মাঠে নামাতে হবে যেটি এখনো হয়নি বলেই তিনি মনে করেন।অধ্যাপক ড. সাব্বীর আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে এই ছোট দলগুলোর যে প্রাসঙ্গিকতা তারা তৈরি করেছে, এটা নির্বাচনী রাজনীতির অংশ। প্রধান যে বিরোধীদল তারাই আসলে চেষ্টা করে যে আমাদের সঙ্গে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর একটা সমর্থন রয়েছে। এবং এটা তারা জোর দিয়েই বোঝানোর চেষ্টা করে।’

কী বলছে বিএনপি?
বিএনপি বলছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে তারা এককভাবে মাঠে থাকবে। একই দাবিতে যুগপৎভাবে মাঠে থাকবে অন্যান্য দল ও জোট।বিএনপির ১০ দফা দাবি এবং ২৭ দফা রূপরেখার সমর্থনে সমমনা দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে লক্ষ্য পূরণ করাই বিএনপির লক্ষ্য।ছোট দলগুলোর সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে যারাই আন্দোলন করবে তাদের স্বাগত জানাবে দলটি।বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম বিবিসিকে বলেন, ‘সব দল তো বড় দল হবে না। ছোট দল থাকবে, মাঝারি দল থাকবে বিভিন্ন পর্যায়ের দল থাকবে। কিন্তু তারা এদেশের নাগরিক। তারা এদেশে ভোট দেয়। তাদের একটা সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে।’সুতরাং তারা তাদের জায়গা থেকে কথা বলে যাবে এবং তাদের কথা শোনারও কিন্তু লোক আছে, ভোটার আছে এবং এলাকা আছে যাদের তারা অ্যাড্রেস করছে। সুতরাং আমরা মনে করি এটা আমাদের জন্য, এটা দাবি আদায়ের জন্য যুগপৎ আন্দোলনে কাজে লাগবে,’ তিনি আরও বলেন।শামা ওবায়েদ বলেন, যুগপৎ আন্দোলনে ছোট বড় যেকোনো রাজনৈতিক শক্তি তাদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।‘নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠাসহ ১০টি দফায় যারা একমত পোষণ করছে সেসকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলগুলো যুগপৎভাবে বিএনপির সঙ্গে মাঠে থাকবে।দুএকটি দল ছাড়া প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল কিন্তু দেশের স্বার্থে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এসে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি যেটা বলছে সেটা যদি আরও দশটা দল বা বিশটি দল বলে তাহলে অবশ্যই দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে আমরা উপকৃত হবো,’ তিনি বলেন।

আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া
যদিও আওয়ামী লীগ এই জোট বা এতগুলো রাজনৈতিক দলের বিরোধিতাকে কোনো হুমকি হিসেবে দেখছে না।বিএনপির সঙ্গী ৩২টি দল ও জোটের রাজনৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বিবিসিকে বলেন, ‘এদের কোনো সাংগঠনিক কাঠামো আছে? এসব দলের কোনো গঠনতন্ত্র আছে? এখন তারা কে কী বললো, তারা কী জোট করলো এটা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ কি কোনো চিন্তা-ভাবনা করে?’বিপ্লব বড়ুয়া মনে করেন, ‘এ ধরনের একটি নাম্বার (সংখ্যা) দিয়ে কাউকে কি বোকা বানানো সম্ভব? এবং এদের লিডারশিপে যারা আছে তারা কি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি, তাদের কি কোনো রাজনৈতিক আদর্শ আছে? কোনো সাংগঠনিক কাঠামো আছে?’‘আমি মনে করি না এ ধরনের একটি বড়সড় তথাকথিত জোট সৃষ্টি করে বিএনপি কারও কাছে কোনো আনুকূল্য পাবে,’ বলেন বিপ্লব বড়ুয়া।

সরকারবিরোধী জোট কতটা হুমকি?
বিএনপির সমর্থনে মাঠের আন্দোলনে গঠিত জোট ও তাদের শরিক দলগুলোকে নিয়ে দুই দলের ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে। বাংলাদেশে জোটের রাজনীতি একটা বাস্তবতা।নির্বাচনকে ঘিরে কৌশলগত স্বার্থে প্রধান দুই দলই ছোটখাট রাজনৈতিক দলকে পাশে রাখতে চায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সরকারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল একসাথে হওয়াটা কি ক্ষমতাসীন দলের জন্য বিপদের হতে পারে কিনা?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আহমেদ মনে করেন, দেশের জনগণকে যদি তারা (এই জোট) তাদের সাথে নিতে পারে তাহলে তারা আওয়ামী লীগের জন্য হুমকি হতে পারে।‘কিন্তু এটা যদি নিছক আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই, এই সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাই- এই মেসেজটাই বার বার রাজনীতিতে পুনরাবৃত্তি করা হয়, সেটা আসলে একটা অবস্থা তৈরি করবে যে অবস্থায় ঘুরে ফিরে জনগণ ভোগান্তির শিকার হবে’ বলেন তিনি।তিনি আরও বলেন, ‘এবং দুই পক্ষের মধ্যে একটা সাংঘর্ষিক অবস্থা সৃষ্টি হবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত তারা তাদের আন্দোলনের সাথে জনগণকে টানতে না পারছেন, জনগণকে আকৃষ্ট করতে না পারছেন, এটা ক্ষমতাসীন দলের জন্য বড় কোনো হুমকি হবে বলে আমার মনে হয় না।’

জামায়াত প্রসঙ্গ
বিএনপির সমর্থনে তিন জোটের বাইরে যুগপৎ আন্দোলনে দেখা গেছে জামায়াতকে। বাংলাদেশে বিএনপির বাইরে মাঠের আন্দোলনে জামায়াতের সাংগঠনিক শক্ত ভিত্তি রয়েছে।বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচীতে মাঠে নেমেছে জামায়াত। জামায়াতকে ঘিরেও দুই দলের কৌশলী রাজনীতি দৃশ্যমান হচ্ছে।আওয়ামী লীগ মনে করে বিএনপি জামায়াত থেকে আলাদা হয়ে আন্দোলন করা লোক-দেখানো একটি অবস্থান।আওয়ামী লীগের বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘জামায়াতের উত্থান হয়েছে জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। জনগনকে বিভ্রান্ত করার জন্য জামায়াত আলাদাভাবে আন্দোলন করছে। জামায়াত আসলে বিএনপিরই একটি অন্তর্নিহিত শক্তি এবং জামাত বিএনপি এক ও অভিন্ন।’অন্যদিকে বিএনপির অভিযোগ জামায়াতকে ব্যবহার করে রাজনীতি করছে আওয়ামী লীগ।বিএনপির শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘তাদেরকে যদি বাতিল করতে হয়, নিষিদ্ধ করতে হয় আওয়ামী লীগের সে সুযোগ আছে, তারা করতে পারে। তারা করছে না। আওয়ামী লীগের এজেন্ডা হচ্ছে জামায়াতকে রাখবে এবং জামায়াতকে বিএনপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করবে।’সূত্র: abnews24.com

You might also like