ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানালেন শরীরে অতিরিক্ত আঘাতের কারণেই রায়হানের মৃত্যু হয়েছে

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

সিলেট: বারবার আঘাতের কারণেই রায়হানের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মো. শামসুল ইসলাম। নির্যাতনে রায়হানের দুটি নখও উল্টে ফেলা হয় বলে জানান তিনি।বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করে পিবিআই। সকাল ৯টা থেকে শুরু করে ১১টায় পিবিআই সিলেটের আখালিয়া নবাবি মসজিদ কবরস্থান থেকে রায়হানের মরদেহ উত্তোলন কাজ শেষ করে।

দ্বিতীয়বার ময়না তদন্ত শেষে ডা. শামসুল ইসলাম জানান, রায়হানের শরীরে অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছে। এসব কারণেই তার মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরে এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা যাবে।রায়হানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের পরই অ্যাম্বুল্যান্সে করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পুনরায় ময়নাতদন্ত শেষে বিকাল সোয়া ৪টায় মরদেহটি ফের দাফন করা হয়।

এ সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার সজীব আহমেদ ও সহকারী কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নিয়মমাফিকভাবে কবরস্থানে সুরতহাল রিপোর্ট করে পিবিআই।এদিকে, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে, রায়হানকে জীবিত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসএমপির কর্মকর্তারা।এর আগে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য রায়হানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল বাতেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই রায়হান আহমদের মরদেহ কবর থেকে তোলার অনুমতি দেন সহকারী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম মাহফুজুর রহমান।

প্রসঙ্গত, রবিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রায়হান উদ্দিন মারা যান। তিনি সিলেট নগরের আখালিয়া নেহারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন রায়হান। তবে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান উদ্দিনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে নিহতের পরিবার।এ ঘটনায় রবিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। তবে মামলার পর থেকে পলাতক বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আকবর হোসেন ভুঁইয়া।

You might also like