লন্ডন হাইকমিশনের অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

লন্ডনঃ বাংলাদেশ হাইকমিশন,লন্ডনও International Maritime Organistion(IMO)-যৌথ উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার লন্ডনে আয়োজিত এক উচ্চ পর্যায়েরআলোচনা সভায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও আইএমও-এর স্থায়ী প্রতিনিধিরা জাতিসংঘের ২৯তম সাধারণঅধিবেশনে দেয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ.কে.আব্দুল মোমেন,এমপি,এ বিশেষ ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার এবং আইএম ও-তে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সাইদামুনা তাসনীম-এর সভাপতিত্বে এ বিশেষ অনুষ্ঠানে গেষ্ট-অব-অনার হিসেবে আই এম ও এর সেক্রেটারী জেনারেল কিটাকলিম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে কমন ওয়েলথ-এর সেক্রেটারী জেনারেল পেট্রেসিয়া  স্টকল্যান্ড বক্তব্য রাখেন।অনুষ্ঠানে ভারত,জাপান,কেনিয়া,মালয়েশিয়া,নেদারল্যান্ডস,নরওয়ে,সৌদি-আরব এবং সেন্ট কীটস ও নেভিস-এর রাষ্ট্রদূত ও আইএমও-এর স্থায়ী প্রতিনিধি সহ যুক্তরাজ্যের ফরেন,কমনওয়েলথ ও ডেভেলপমেন্ট অফিসএবং যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল কমিটি ফর ইউনেস্কো-এর প্রধাননির্বাহী বক্তব্য রাখেন।এছাড়া যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে বসবাসকারী ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি বর্গসহ বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ.কে. আব্দুল মোমেন তাঁর বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর জাতিসংঘে দেয়া ঐতিহাসিক ভাষণের উল্লেখ করে বলেন,ছিচল্লিশ বছরআগে ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের ২৯তম সাধারণঅধিবেশনে বাংলা ভাষায় তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদানের মাধ্যমে বহুপাক্ষিক সুসম্পর্ক,বিশ্বশান্তি,সমৃদ্ধি ও প্রগতির কথা তুলে ধরেছিলেন,যা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির ও মূলভিত্তি।ছিচল্লিশ বছর পর বিশ্ব যখন করোনাভাইরাসের মহামারীর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে তখন বঙ্গবন্ধুরই সুযোগ্য ও দূরদর্শী কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেই পররাষ্ট্র  নীতি অনুসরণ করেই জাতিসংঘের অন্যতম সদস্য হিসেবে বিশ্বের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ গুলো মোকাবেলায় ও বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

প্রতিবছর ২৪ সেপ্টেম্বর World Maritime দিবস-২০২০উদযাপন করা কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্র  নীতির মতোই এই নেতার প্রাগ্রসর সমুদ্র নীতিমালা অনুসরণ করেই বাংলাদেশ আইএমও-এর সাথে বলিষ্ট ভাবে কাজ করে চলেছে।সূচনা বক্তব্যে হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম বলেন,জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ঐতিহাসিক ভাষণ আজও প্রখ্যাত‘মেঘনা কার্টা’র মতো বাংলাদেশের কূটনৈতিক আদর্শ ও কর্মধারার দিক-নির্দেশনা হয়ে আছে,যার ভিত্তি হচ্ছে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা,শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান,আর্থিক সমতা,সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার এবং UDHR (Universal Declaration on Human Rights)-অন্তর্ভূক্ত ও মানব জাতির কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অপরিহার্য।

আইএমও-তে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে হাই কমিশনার বলেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য ও দূরদর্শী পরিকল্পনায় বাংলাদেশের মেয়েরা আজ বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক জাহাজ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে আইএমও-এর জেন্ডার সমতার লক্ষ্যই পরিপূর্ণ হচ্ছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষতত্ত্বাব ধানে কোভিড মহামারীর সময়ে সমুদ্রে আটকে পড়া নাবিক দের প্রত্যেক কে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে এবং তাদের নিরাপদে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

হাই কমিশনার কোভিডের কারণে বিভিন্ন দেশের সমূদ্র সীমায় আটকে পড়া প্রায় আট হাজার নাবিক,যাদের মধ্যে বাংলাদেশী নাবিকরাও রয়েছেন,তাদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং সেই সাথে সমূদ্রে আটকে পড়া বাংলাদেশী নাবিকদের  স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সুযোগ করে দেয়ার জন্য আইএমও-এর সদস্য দেশ গুলির প্রতি আহবান জানান।বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি অভিনন্দন  জানিয়ে আইএমও-এর সেক্রেটারী জেনারেল কিটাকলিম বলেন,বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমান বাংলাদেশের মানুষের জন্য স্বাধীনতা, শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগ করে গেছেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনার সফল নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন,বাংলাদেশ আজ তাঁরই নেতৃত্বে আইএমও-তেও  বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে এবং সমূদ্র  নীতিমালা ও এর যথার্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজেদের সামর্থ  উল্লেখ যোগ্য ভাবে উন্নীতকরেছে।কমনওয়েলথ-এর সেক্রেটারী জেনারেল পেট্রেসিয়া  স্টকল্যান্ড বলেন,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন দূরদর্শী ও সফল নেতা ছিলেন। তিনি তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছেন গণতন্ত্র,শান্তি,স্বাধীনতা, মানবাধিকারও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য।আর এসবই হচ্ছেক মনওয়েলথ-এর মৌলিক আদর্শ।তিনি ১৯৭৩ ও ১৯৭৫ সালে কমনওয়েলথ শীর্ষস ন্মেলনে বঙ্গবন্ধুর যোগদানের কথা উল্লেখ করে বলেন,কমনওয়েলথই হচ্ছে প্রথম আন্তর্জাতিক সংগঠন যা বাংলাদেশকে ১৯৭২ সালে সদস্য দেশের মর্যাদা দেয়।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল কমিটি ফর ইউনেস্কো-এর প্রধান নির্বাহী জেমসব্রিজ বলেন,জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্য পদ লাভের জন্য বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত যে অসাধারণ ও সফল কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছিলেন তারই ঐতিহাসিক দলিল হচ্ছে ২৯তম সাধারণ অধিবেশনে তাঁর  এই অনন্য বক্তৃতা।জেমস ব্রিজ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চ-এর ভাষণের কথাও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন,ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণটিই উনেস্কো ওয়ার্ল্ডড কুমেন্টারী হেরিটেজ হিসেবে সংরক্ষণ করেছে।

যুক্তরাজ্যের এফসিডিও-এর দক্ষিণ এশিয়া প্রধান ফারগুস অল্ডও বিইব লেন,১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্য পদ অর্জন একটি ঐতিহাসিক ঘটনা এবং এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের ও বলিষ্ঠ সমর্থন ছিলো।তিনি জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি গৌরবের বিষয় বলেউল্লেখ করেন।ফারগুস অল্ড বিশ্বের পরিবেশ সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনার ভূমিকার ভূয়ষী প্রশংসা করে বলেন,তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ পরিবেশ পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য ও সক্ষমতা অর্জন করেছে।একেই সাথে  Climate Vulnerable Forum (CVF)-এর চেয়ার হিসেবে শেখ হাসিনা বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৪৮টি দেশের পরিবেশ পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও আইএমও-এর স্থায়ী প্রতিনিধিরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে এবং জাতিসংঘে তাঁর ভাষণের ৪৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ শ্রদ্ধা জানান।রাষ্ট্রদূত ও আইএমও-এর স্থায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন ভারতের হাইকমিশনার গায়ত্রি ইসার কাউর,নেদারল্যান্ডের এ্যাম্বাসেডর কেরল ভ্যান ওস্টেরম, জাপানের এ্যাম্বাসেডর ইয়াসুমাসা নাগামিন,নরওয়ের এ্যাম্বাসেডর ওয়েগের  স্ট্রমেন, দক্ষিণআফ্রিকার হাইকমিশনারন মেটেম্বা  গুগুলেথু পুডনিক্সিয়া অলিভিয়া ট্যাম্বু,কেনিয়ার হাইকমিশনার সেলেব মানোয়া ইসিপিসু,সেন্ট কীটস্ও নেভিস-এর হাইকমিশনার  ড. লেভম ওসাক,আইএমও-তে সৌদি আরবের স্থায়ী প্রতিনিধিই সাম মোঃআলমারি এবং মালয়েশিয়ার ম্যারিটাইম এ্যাটাসী ক্যানাগালিংগম টি সেলভারাসাহ।

You might also like