সিলেট নগরীর বাসা-বাড়িতে  ঢুকছে বন্যার পানি

চঞ্চল মাহমুদ ফুলর
সত্যবাণী

সিলেট থেকেঃ  সিলেট নগরীসহ ও বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিদিই বাড়ছে বন্যার পানি। সিলেটের সুরমাসহ প্রধান নদী-নদীগুলোর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির ক্রমাবনতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সিলেট নগরীর বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে।সরেজমিনে সিলেট নগরীর উপশহর, যতরপুর, মেন্দিবাগ, তালতলা, চাঁদনীঘাট, ঝালোপাড়া, শেখঘাট, কলাপাড়া, ঘাসিটুলা, লামাপাড়া, মজুমদারপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এসব এলাকার বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। এসব এলাকার অনেক রাস্তায় হাঁটুর সমান পানিতে সয়লাব। এতে বিড়ম্বনায় পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।এদিকে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) সোমবার (১৬ মে) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাস প্রতিবেদনে বন্যা পরিস্থিতির ক্রমাবনতির শঙ্কার কথা জানিয়েছে। তারা জানান, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় পর্যবেক্ষণাধীন পানি সমতলের স্টেশনের সংখ্যা ১০৯টি। এরমধ্যে ৭৯টি স্টেশনে পানি বাড়ছে এবং ২৬টি স্টেশনে পানি কমছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সুরমা নদীর পানি সিলেটের কানাইঘাটে, কুশিয়ারার পানি আমলশীদ ও শেওলায় এবং সারি গোয়াইন নদীর পানি সারিঘাটে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ওইসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এ পরিস্থিতি আরও নাজুক হতে পারে বলে জানিয়েছে পূর্বাভাস কেন্দ্র।প্রতিবেদনে সুরমা, কুশিয়ারাসহ প্রধান নদীগুলোর পানি সমতল কতিপয় পয়েন্টে সময় বিশেষে দ্রুত বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।এছাড়াও আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার নদ-নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং সিলেট জেলার নি¤œাঞ্চলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সিলেট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ সিলেট প্রতিদিনকে বলেন, সিলেটের সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট অংশে ১৪.২৭ সে. মিটার ও কুশিয়ারার অমলসিদে ১৬. ৬৬ সে. মিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট অংশে ১.৫২ সে. মিটার ও কুশিয়ারার অমলসিদ অংশে নদীর পানি বিপদসীমার প্রায় ১. ২৬ সে. মিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।তিনি বলেন, হঠাৎ করে ঢলের পানি আসাতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ধারাবাহিকতা আরও ৩/৪ দিন থাকবে। এরপর বৃষ্টি কমে গেলে ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

You might also like