ইন্ডিপেন্ডেন্ট: বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

ঢাকাঃ ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের জেরে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ।ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে বাংলাদেশ।মধ্যপ্রাচ্যের তেল রফতানিতে চরম বিঘ্ন ঘটায় দেশটিতে বর্তমানে যানবাহনের জ্বালানি রেশনিং এবং ডিজেল বিক্রিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহ্বায়ক  দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেন,আমরা সীমিত সরবরাহ পাচ্ছি এবং পাম্পগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।পাম্পগুলোতে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে।অক্টেন বা পেট্রোল না পেয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হাতে আমাদের কর্মীরা লাঞ্ছিত হচ্ছেন।মানুষের উচিত তেল মজুত করা বন্ধ করা।অনেক মোটরসাইকেল চালক একবার ট্যাংক পূর্ণ করে আবার লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।পাম্প ও কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তারা।

জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন,আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই।প্রকৃতপক্ষে,গত বছরের তুলনায় আমরা সরবরাহ বাড়িয়েছি।জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী জানান,মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জ্বালানি তেলের মোট মজুতের পরিমাণ এক লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন।এর মধ্যে ডিজেল এক লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন,অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ টন, পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন এবং জেট ফুয়েল ৪৪ হাজার ৬০৯ টন।তিনি বলেন,আমাদের যে কার্গোগুলো আসে সেগুলো থেকে নিয়মিত খালাস হয়ে একটা ফিগার যুক্ত হতে থাকে।তাই আমরা প্রতিদিন যে যে পরিমাণ সরবরাহ করে থাকি আবার নতুন করে একটা তেল যুক্ত হয়।নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) বর্তমানে তিনজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিচ্ছে এবং এ মাসের শেষের দিকে আরও ৯০ হাজার মেট্রিক টন আসার কথা রয়েছে।

এদিকে দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী,গত মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে মাত্র ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুত ছিল, যা দিয়ে বড়জোর দুই সপ্তাহ চলা সম্ভব। ডিজেলের মজুদও প্রায় একই অবস্থায়।এই পরিস্থিতিতে ঢাকা এখন সিঙ্গাপুর,মালয়েশিয়া,নাইজেরিয়া,আজারবাইজান,কাজাখস্তান,অ্যাঙ্গোলা এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির মাধ্যমে উৎস বহুমুখীকরণের চেষ্টা করছে।এছাড়া ভারতের মতো বিশেষ সুবিধা চেয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে ৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের আবেদন করেছে বাংলাদেশ।বাংলাদেশ সরকারের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেন,পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ।স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি কিনতে গিয়ে আমাদের কোষাগার শূন্য হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সরকারের কিছু করার নেই।আমাদের হাতে ১০ দিনেরও কম মজুত আছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপের মুখে নবনির্বাচিত সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। বৈশ্বিক এই জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশই প্রথম দেশ হতে পারে যার জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।অন্যদিকে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফ এক বাংলাদেশি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে,ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ কার্যত অচল হয়ে পড়তে পারে।

You might also like