এই ‍মুহূর্তে আওয়ামী লীগের ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন নেই: আ স ম ফিরোজ

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

ঢাকাঃ জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থী নাইম হাওলাদার হত্যা মামলায় এবং তারেক চৌকিদার নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে পটুয়াখালী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজকে।তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।নাইম হত্যা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই নাজিম উদ্দিন ফকির গত ৩ সেপ্টেম্বর এবং তারেক চৌকিদার হত্যাচেষ্টা মামলায় যাত্রাবাড়ী থানার এসআই রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়াও ওইদিন তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন বুধবার।

এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।কারাগার থেকে আদালতে নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের আ স ম ফিরোজ বলেন,এক মামলায় দুই বছরের সাজা খাটলাম। জামিন হয়েছে।আবার শ্যোন অ্যারেস্ট দেখালো।আওয়ামী লীগ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আ স ম ফিরোজ বলেন,“আমি চাইলে তো হবে না।যে ক্ষমা চাওয়ার যোগ্য,সে ক্ষমা চাইবে যদি প্রয়োজন মনে করে।আমি মনে করি না এই মুহুর্তে ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন আছে।

তাকে এসলাসে নেওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ গ্রেফতার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন।আ স ম ফিরোজের পক্ষে অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন বিশ্বাস ও শফিকুল ইসলাম স্বপন গ্রেফতার না দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন।এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন আ স ম ফিরোজ।তিনি বলেন,“আমার বয়স ৭৮ বছর।দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছি।আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি।৮ বারের সংসদ সদস্য।আমি কোনও অন্যায়-অবিচার করিনি।কোনও অপরাধ করিনি।আমি অসুস্থ, আমাকে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।এক মামলায় জামিন পেলে, নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখায়।

পরে আদালত তাকে দুই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।এরপর তার চিকিৎসার আবেদন করা হয়।আদালত কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থার গ্রহণের নির্দেশ দেয়।নাইম হত্যা মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়,জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার উত্তর কুতুবখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিলেন নাইম হাওলাদার।এসময় বাম কাঁধের সামনের দিকে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।পরে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়।

তারেককে হত্যাচেষ্টা মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়,২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় তারেক তৌকিদারের রুমমেট শিহাব ছাদে গুলিবিদ্ধ হন। তখন তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তারেক নিজেও গুলিবিদ্ধ হন।এ ঘটনায় তিনি ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন।২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে আ স ম ফিরোজকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ।এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।আ স ম ফিরোজের আরেক আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন জানান,চার মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি। তিনি তখন কারামুক্ত হবেন,তখনই তাকে এ দুই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো।তিনি যেন কারামুক্ত হতে না পারেন এজন্য তাকে নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো।

You might also like