এগিয়ে রিফর্ম ইউকে,লেবার পার্টির বড় পরাজয়ের আশঙ্কা
নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী
যুক্তরাজ্যে: যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফল প্রকাশ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির বড় ধরনের ভরাডুবির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী দল রিফর্ম ইউকে বড় জয় পেতে যাচ্ছে। পাশাপাশি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (লিব ডেম) ও গ্রিন পার্টিও ভালো ফলের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।বৃহস্পতিবার (৭ মে) যুক্তরাজ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচনে ইংল্যান্ডজুড়ে ১৩৪টি স্থানীয় কাউন্সিলের প্রায় পাঁচ হাজার আসনে ভোট হয়।এ ছাড়া লন্ডনের ৩২টি বরো বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, উত্তরের মেট্রোপলিটন জেলা, কাউন্টি কাউন্সিল ও একক কর্তৃপক্ষ এলাকাতেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস ও নিউহামসহ লন্ডনের ছয়টি বরোতে মেয়র নির্বাচন হয়েছে। পাশাপাশি স্কটল্যান্ডে স্কটিশ পার্লামেন্ট এবং ওয়েলসে ওয়েলস পার্লামেন্ট নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনকে ঘিরে লন্ডনপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও বাড়তি আগ্রহ দেখা গেছে। টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহাম, বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহাম এবং রেডব্রিজ এই চার বরোতে তিন শতাধিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।২০২৪ সালে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর এটিই প্রথম স্থানীয় নির্বাচন। তাই প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য এই নির্বাচনকে বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই গণনা শুরু হয়। শুক্রবার (৮ মে) সকাল থেকে ফলাফল প্রকাশ শুরু হয়।বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ান প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের কাউন্সিল নির্বাচনে লেবার ও কনজারভেটিভদের পেছনে ফেলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে রিফর্ম ইউকে। এখন পর্যন্ত লেবার পার্টি আটটি কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এর মধ্যে রিফর্ম ইউকে দুটি এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি একটি কাউন্সিলে জয় নিশ্চিত করেছে।
পাঁচ হাজার আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৩৮টি আসন নিয়ে প্রথম অবস্থানে রয়েছে রিফর্ম ইউকে। গত নির্বাচনের তুলনায় দলটি ৩১১টি বেশি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে লেবার পার্টি ২০৪টি আসনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এখন পর্যন্ত তারা ২৪৫টি আসনে জয় পেয়েছে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি পেয়েছে ২২০টি আসন, কনজারভেটিভ পার্টি ১৯৩টি এবং গ্রিন পার্টি ৪৯টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যান্য দল পেয়েছে আরও ৩৮টি আসন।রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ এই ফলাফলকে ‘ঐতিহাসিক পরিবর্তন’ বলে উল্লেখ করেছেন। লন্ডনের হ্যাভারিংয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, রিফর্ম ইউকে এখন টোরি ও লেবার অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও জয় পাচ্ছে। তিনি বলেন, লেবার পার্টি তাদের অনেক ঐতিহ্যবাহী এলাকায় রিফর্মের কাছে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দিনের শেষে কনজারভেটিভদেরও কিছু শক্ত ঘাঁটিতে বড় ধাক্কা খেতে হবে।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, লেবার পার্টির জন্য এই ফলাফল ‘খুবই কঠিন’। তিনি ফলাফলের দায় স্বীকার করে বলেন, কেন এমন ফল হলো তা দলকে খতিয়ে দেখতে হবে। পশ্চিম লন্ডনের ইলিং এলাকার কিংসডাউন মেথডিস্ট চার্চে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা সারাদেশে লেবার পার্টির অসাধারণ প্রতিনিধিদের হারিয়েছি। তারা নিজেদের সম্প্রদায় ও দলের জন্য অনেক কাজ করেছেন। এটা কষ্টের এবং এর দায় আমি নিচ্ছি।তবে ফলাফল খারাপ হলেও তিনি পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি সরে যাচ্ছি না। তার মতে, ভোটাররা মূলত পরিবর্তনের ধীর গতি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।কনজারভেটিভ পার্টির নেত্রী কেমি ব্যাডেনক বলেছেন, কনজারভেটিভরা ফিরে আসছে। তিনি দাবি করেন, দলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের পর তারা পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে এবং তার লক্ষণ এখন দেখা যাচ্ছে। ওয়েস্টমিনস্টার সিটি কাউন্সিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তার দল লেবার পার্টির কাছ থেকে কাউন্সিলটির নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিয়েছে।