কক্সবাজারে হোটেল বুকিং বাতিল করেছেন ৫০ হাজার পর্যটক

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

ঢাকাঃ টানা চার দিনের বৈরী আবহাওয়া,ভারী বর্ষণ ও উত্তাল সাগরের প্রভাবে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার।পর্যটকশূন্য সমুদ্রসৈকতের কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে হোটেল-রিসোর্ট মালিকরা পড়েছেন চরম লোকসানে।এ সময় প্রায় ৫০ হাজার পর্যটক তাদের হোটেল বুকিং বাতিল করেছেন।সৈকতসংলগ্ন কয়েকশ দোকানপাট ও পর্যটননির্ভর বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি,মাত্র চার দিনেই কক্সবাজারের পর্যটন খাতে প্রায় শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন,টানা বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।একই সঙ্গে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে বাস যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। গত চার দিনে জেলার পাঁচ শতাধিক হোটেল,মোটেল ও রিসোর্টে প্রায় ৫০ হাজার পর্যটকের রুম বুকিং বাতিল হয়েছে।বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করলেও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তাদের অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার লাবণী পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়,টানা বৃষ্টিতে পুরো সৈকতজুড়ে বিরাজ করছে থমথমে পরিবেশ।পর্যটকের উপস্থিতি ছিল খুবই কম।যারা এসেছেন,তারাও বৃষ্টির কারণে বেশিক্ষণ সৈকতে অবস্থান না করে দ্রুত হোটেলে ফিরে যাচ্ছেন।সৈকতের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ।খোলা থাকা দোকানগুলোতেও নেই ক্রেতার আনাগোনা।ঝালমুড়ি, চটপটি,বিচ বাইক,কিটকট (চেয়ার-ছাতা), ঘোড়ায় চড়াসহ প্রায় সব ধরনের পর্যটননির্ভর ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়েছে।একই চিত্র দেখা গেছে সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকত পয়েন্টেও।ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা ব্যবসায়ী আবিদ হাসান বলেন,স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে কয়েক দিনের জন্য কক্সবাজারে এসেছি।কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে হোটেল থেকেই বের হতে পারছিলাম না।পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে কিছুক্ষণ আগে সৈকতে এলেও বেশিক্ষণ থাকা সম্ভব হচ্ছে না।

বিচ বাইক চালক বলেন,সমুদ্রসৈকতে বিচ বাইক চালিয়েই আমার সংসার চলে।কিন্তু ভারী বৃষ্টি আর ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের কারণে পর্যটক নেই বললেই চলে।তিন দিন পর সৈকতে এলেও আজ কোনো আয় হয়নি।কিটকট ব্যবসায়ী বলেন,কিছু পর্যটক সৈকতে এলেও টানা বৃষ্টির কারণে তারা বেশিক্ষণ থাকছেন না।ফলে সারাদিন চেয়ার-ছাতাগুলো প্রায় ফাঁকাই পড়ে থাকছে।ব্যবসা একেবারে বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা।কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মুখপাত্র বলেন,টানা চার দিনের বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজারে পর্যটকের আগমন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।এর প্রভাব পড়েছে হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, সৈকতকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ পুরো পর্যটন শিল্পে।গত চার দিনেই কক্সবাজারের পর্যটন খাতে প্রায় শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

You might also like