কুলাউড়ার সাগরনাল চা বাগানের যুদ্ধে শহীদ সিপাহি মোকমেদ আলীর কবর এখনো ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে চল্লিশদ্রোণ গ্রামে
সংগ্রাম দত্ত: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সিপাহী মোকমেদ আলীর কবর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগর উপ মহাকুমার কদমতলা ব্লক ও থানার অধীনস্ত চল্লিশদ্রোণ গ্রামের কবরস্থানে এখনো চিরনিদ্রায় সমাহিত।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৪ বছর অতিবাহিত হলেও আজো শহীদ মোকমেদ আলীর পরিবারের লোকজন, কোন সংগঠন বা সরকার তার সম্পর্কে কোনো খোঁজখবর নেয়নি।সম্প্রতি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ধর্মনগর এলাকার মিনাজুল আলম বঙ্গভিটা নামক এক ফেসবুক পেজে
কবরস্থানের ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য শেয়ার করে বিষয়টি পোস্ট করেন। এতে অসংখ্য মানুষের কমেন্টস করতে দেখা গেছে এবং বিষয়টি নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ধর্মনগরের বাসিন্দা মিনাজুল আলম বঙ্গভিটা পেজে উল্লেখ করেছেন যে, ১৯৭১ সালের ১২ই অক্টোবর কুলাউড়া উপজেলার সাগরনাল চা বাগান এলাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধে অংশ নিয়ে শহীদ হন বীর মুক্তিযোদ্ধা সিপাহি মোকমেদ আলী। তিনি ছিলেন সেইসব নির্ভীক যোদ্ধাদের একজন, যাঁরা পরিবার পরিজন ও জীবনের মায়া ত্যাগ করে মাতৃভূমিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবর থেকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। পরদিন ১৩ই অক্টোবর ১৯৭১ তাঁর মরদেহ আনা হয় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগর উপ মহাকুমার কদমতলা ব্লক ও থানার অধীনস্ত চল্লিশদ্রোণ গ্রামে ।ঐ গ্রামে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৮ নম্বর বেঙ্গল রেজিমেন্টের অস্থায়ী ক্যাম্প ছিল। স্থানীয় গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে জানাজার নামাজের পর তাঁকে পার্শ্ববর্তী এক ছোট্ট, নির্জন কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। সেদিন থেকেই তিনি আজো ভারতের মাটিতে উল্লেখিত কবরস্হানে চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন।
বঙ্গভিটার প্রতিবেদনটিতে তিনি উল্লেখ করেন যে স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও সিপাহি মোকমেদ আলীর পরিবার তাঁর খোঁজ নেননি বা হয়তো জানেনই না যে তিনি ভারতের ত্রিপুরায় সমাহিত আছেন।
এই কবরস্থানে আরো অনেক অজ্ঞাতনামা মুক্তিযোদ্ধার কবর আছে । যাঁদের নাম-পরিচয় আজো অনির্ধারিত। একেকটি কবর একেকটি নিঃশব্দ আত্মত্যাগের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।শুধু সিপাহি মোকমেদ আলীর নাম ও পরিচয় জানা গেছে বলে স্থানীয় জনসাধারণের উদ্যোগে তাঁর কবরস্থানে একটি স্মৃতিফলক তৈরি করে রাখা হয়েছে। সিপাহি মোকমেদ আলী মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে আট নম্বর বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন যোদ্ধা (৩৯৪০০৮৮) প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ আছে।বঙ্গভিটা পেজে পোস্টকারী মিনাজুল আলম ভারতের যে স্থানের কবরে তিনি সময় তো আছেন তিনি সেই এলাকার অধিবাসী। মিনাজুল আলম পরিচিত লোকজনসহ শহীদ পরিবারের সদস্যগণ যোগাযোগের জন্য তিনি তার ঠিকানা ও ইমেইল ( minhazul0503@gmail.com) নাম্বারও বঙ্গাবভিটা পেজে শেয়ার করেছেন।