গ্যাসের জন্য হাহাকার ঘরে-বাইরে সবখানে
নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী
ঢাকাঃ রাজধানীতে আবারও তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কোথাও স্টেশন বন্ধ করে রাখা হয়েছে,আবার কোথাও গ্যাসের আশায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।একই সময়ে বাসাবাড়িতেও গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে অনেক এলাকায় চুলা জ্বললেও রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না।রাজধানীর মালিবাগ,তেজগাঁও,বাড্ডা, খিলক্ষেত,উত্তরা ও মিরপুরের বেশ কয়েকটি সিএনজি স্টেশন ঘুরে গ্যাস না থাকার চিত্র দেখা গেছে।কোনো কোনো স্টেশনের সামনে ‘গ্যাস নেই’ লেখা সাইনবোর্ডও টানানো হয়েছে।মেরুলবাড্ডার জামান ফিলিং স্টেশনের বিক্রয়কর্মী আসাদ বলেন,সকাল থেকেই স্টেশনে গ্যাস নেই।এ কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। কখন সরবরাহ স্বাভাবিক হবে,তা তারা জানেন না।তবে রাত ১২টার দিকে কিছুটা গ্যাস আসতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
সারা দেশে লোডশেডিংয়ের নেপথ্যে কী
আকিজ ফিলিং স্টেশনের কর্মী তারেক বলেন,সাধারণত রাত ১২টার পর কিছুটা গ্যাসের সরবরাহ পাওয়া যায়।তবে তখনও গ্যাসের চাপ খুব কম থাকে। মঙ্গলবার দুপুর ২টা পর্যন্ত স্টেশনে গ্যাসের সরবরাহ পাওয়া যায়নি।তিনি বলেন,শুক্রবার বিকেল ও শনিবার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও রোববার থেকে আবারও সরবরাহ কমে গেছে। ফলে গ্যাসের জন্য স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে।গ্যাস না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকরাও।সিএনজি চালক আব্দুল মালেক বলেন,রাতে সামান্য গ্যাস পেয়েছিলেন।সেটুকু দিয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত গাড়ি চালিয়েছেন।এরপর আর গ্যাস না পাওয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকে গাড়ি নিয়ে বসে আছেন।প্রাইভেটকার চালক সানাউল্লাহ বলেন,আগের তুলনায় গ্যাসের সংকট আরও বেড়েছে।দিনের বেলাতেও এখন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।এতে গাড়ি চালাতে না পারায় আয়-রোজগার নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চালকরা।তিনি বলেন,গাড়ি চালাতে না পারলে চুক্তির টাকা পরিশোধ করা এবং সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।শুধু সিএনজি স্টেশন নয়,গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে বাসাবাড়িতেও। রাজধানীর মিরপুর, বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, রামপুরা, বনশ্রী ও খিলগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকার অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। অনেক এলাকায় চুলায় গ্যাস থাকলেও চাপ এত কম যে রান্না করা যাচ্ছে না।বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা চম্পা খাতুন বলেন,মঙ্গলবার সকাল থেকে বাসায় গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করতে হচ্ছে।ডেমরার বাসিন্দা আফরোজা বেগম বলেন, তাদের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাসের সমস্যা চলছে। গ্যাসের ওপর নির্ভর না করে এখন ইলেকট্রিক চুলাতেই রান্না করতে হচ্ছে।বাড্ডার বাসিন্দা শায়লা বলেন, গ্যাসের পাশাপাশি বিদ্যুৎ নিয়েও বিভিন্ন সময় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ফলে পরিবারের দৈনন্দিন কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীর হাজার হাজার পরিবারকে বিকল্প উপায়ে রান্না করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।একই সঙ্গে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও প্রাইভেটকারের চালকরাও জ্বালানি সংকটে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে,মহেশখালীতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণের কারণে এলএনজি খালাসে বিলম্ব এবং জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আবাসিক,সিএনজি ও শিল্প খাতেও।তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।