জাকসু নির্বাচন: অবশেষে ভোট গণনা শুরু
নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী
ঢাকাঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে এ গণনার কাজ শুরু হয়।এর আগে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।তবে ভোটের শেষ ভাগে কাজী নজরুল ইসলাম হল ও তাজউদ্দীন আহমদ হলে ভোটারদের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় ভোটগ্রহণ কিছুটা দেরিতে শেষ হয়।নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি হলের ব্যালট পৃথকভাবে গণনা করা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণার জন্য কর্মকর্তারা কাজ করছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্যে দেখা যায়,অধিকাংশ হলে অর্ধেকেরও বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।উদাহরণস্বরূপ,শহীদ রফিক-জব্বার হলে ৬৫৬ ভোটারের মধ্যে ৪৭০ জন ভোট দিয়েছেন এবং রোকেয়া হলে ৯৫৫ ভোটারের মধ্যে ৬৮০ ভোট পড়েছে। এই উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করছে।ভোটগ্রহণ চলাকালীন সময়ে কিছু অনিয়ম ও জটিলতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে ব্যালট পেপারে ভুল থাকার কারণে ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। কয়েকটি হলে ভোটারদের আইডি যাচাই সংক্রান্ত জটিলতাও দেখা দেয়। এসব ঘটনার কারণে বিভিন্ন পক্ষ অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়।বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায় এবং একই অভিযোগে বিএনপিপন্থী তিনজন শিক্ষক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
শুধু তাই নয়,সন্ধ্যার পর প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের চারটি প্যানেলও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়।তারা অভিযোগ করেন যে,নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও অনিয়ম ছিল।তবে এসব অভিযোগ সত্ত্বেও পুরো নির্বাচনী পরিবেশে কোনো বড় ধরনের সহিংসতা বা সংঘর্ষ ঘটেনি।বরং দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ, এপিবিএন, র্যাব এবং বিজিবি সদস্যরা অবস্থান নিয়েছিলেন যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রগুলো থেকে ব্যালট বাক্স পুরাতন প্রশাসনিক ভবনে নিয়ে আসা হয় এবং গণনা কার্যক্রম শুরু হয়।নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা পেতে শিক্ষার্থীদের আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে।কমিশনের ধারণা অনুযায়ী,শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর নাগাদ ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে।শিক্ষার্থীরা উৎসাহের সঙ্গে ফলাফলের প্রতীক্ষায় থাকলেও নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে উত্থাপিত বিতর্ক এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।