জিয়াউর রহমানকে ভাসানী বললেন, তোমার হাতে ধানের শীষ তুলে দিলাম: প্রধানমন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী
টাঙ্গাইল: জুলাই সনদে বিএনপি সই করেছে এবং এর প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আজকের এই জনসভায় দাঁড়িয়ে পরিষ্কারভাবে আমি আপনাদের সামনে মিডিয়ার মাধ্যমে সমগ্র দেশের মানুষকে বলতে চাই,যে জুলাই সনদ আমরা সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ড. ইউনূস যখন ডেকেছিলেন সনদ সই করার জন্য,সবচেয়ে প্রথমে বিএনপি গিয়েছিল। বিএনপি জুলাই সনদ সই করে এসেছে।সেই জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন ইনশাআল্লাহ আমরা বাস্তবায়ন করবো।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকালে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত শেষে এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে জেলা বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করে।
তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনা করার জন্য। সনদ, যেটি বিএনপি সই করে এসেছে, যেই সনদে অন্যরা সই করে এসেছে। আমরা দেখছি, এখন যারা বিরোধী দলে আছে। আর তাদের সঙ্গে আরেকটা দল আছে, তারা তো তখন সইই করে নাই। তাদের দেখলাম নির্বাচনের পরে গিয়ে হঠাৎ করে চুরি করে সই করলো। প্রথমে জুলাই সনদে কে সই করেছে? বিএনপি সই করেছে। যারা নির্বাচনের পরে গিয়ে সই করলো, কিন্তু জুলাই আন্দোলনে জুলাই সনদের জন্য যারা গলা ফাটায় ফেলে, তাদের তো আমরা প্রশ্ন করতে পারি, এতই যদি তোমাদের দরদ হয়, তো তোমরা প্রথমে কেন সই করলা না ভাই?’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একটু আগে বলেছি, আবারও পরিষ্কার বলছি, বিএনপি যেই জুলাই সনদে সই করেছে, অনুষ্ঠান করে যেই জুলাই সনদে সকল রাজনৈতিক দল সই করেছে, সেই জুলাই সনদ ইনশাআল্লাহ বিএনপি বাস্তবায়ন করবে। এর কোনও নড়চড় হবে না।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই মাওলানা ভাসানীর একটি প্রতীক ছিল। বলেন তো তার প্রতীকটা কি ছিল? ধানের শীষ। এই মাওলানা ভাসানীর প্রতীক ছিল কিন্তু ধানের শীষ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দায়িত্বভার পেলেন, মাওলানা ভাসানী দেখলেন যে, ভাসানী সারাটা জীবন দেশের জন্য যেই কষ্টটা করেছেন, কাজ করতে চেয়েছেন, দেশের মানুষের যে কথাগুলো বলতে চেয়েছেন—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঠিক সেই কথাগুলো বলছেন এবং সেই কাজগুলোই করার চেষ্টা করছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেজন্যই যখন ১৯৭৯ সালে নির্বাচনের সময় আসলো, সেই সময় মাওলানা ভাসানী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বললেন, তোমার হাতে আমি ধানের শীষ তুলে দিলাম। প্রিয় ভাই-বোনেরা, সেদিন থেকে মাওলানা ভাসানীর সেই ধানের শীষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তথা বিএনপি, শহীদ জিয়া, শহীদ জিয়ার পরে খালেদা জিয়া, খালেদা জিয়ার পরে আপনারা যারা বিএনপির নেতাকর্মী—সেই ধানের শীষকে জনগণের মাঝে নিয়ে গিয়েছেন।’
তারেক রহমান বলেন, ‘যারা বিএনপির খাল খনন, বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড, বিএনপির কৃষকের কার্ড, পেশাদার খেলোয়াড় তৈরিসহ এই সকল জনগণের জনকল্যাণ কর্মসূচি সেইগুলোকে বাধাগ্রস্ত করবে, বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করবে। আমাদের সজাগ থাকতে হবে; আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। স্বৈরাচারের ভূত কাদের ওপর আবার ফিরে আছর করছে? কারা আবার দেশে অরাজকতা তৈরি করতে চাচ্ছে?’বগুড়া ও শেরপুরে নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে নির্বাচন, উপনির্বাচন হয়েছে, সেখানে মানুষ শান্তিতে আছে। সেখানে পরিস্থিতি ঠান্ডা। কিন্তু পরিস্থিতি গরম কোথায়? বায়তুল মোকাররমে। যেখানে ঘটনা ঘটলো, সেখানে কোনও খবর নাই। পরিস্থিতি গরম হচ্ছে বায়তুল মোকাররমে। কারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে, নিশ্চয়ই সেটি আপনাদের অজানা নয়।কাজেই আমাদের সজাগ থাকতে হবে।’
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। আরও বক্তব্য দেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশীদ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য আবদুস সালাম পিন্টু, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন, টাঙ্গাইল-৭ নাগরপুর-দেলদুয়ার আসনের সংসদ সদস্য রবিউল আওয়াল লাভলু, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আখন্দ, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম ওবায়দুল হক নাসির, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটু, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ।সমাবেশের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সন্তোষে পৌঁছে মাওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারত ও পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইল জেলা শহরের পৌর উদ্যানে বৈশাখী কৃষি মেলার উদ্বোধন করেন। তিনি মেলার স্টল ঘুরে ঘুরে দেখেন।সূত্র: বাংলাট্রিবিউন