ঢাকার রাজনৈতিক ডামাডোলে যুক্ত হচ্ছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত
মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার
এডিটর এট লার্জ, সত্যবাণী
লন্ডন: এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদটি শূন্য থাকার পর সে পদে এখন নতুন নিয়োগ দেয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে ঢাকায় পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। সিনেটের অনুমোদন সাপেক্ষে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
ঢাকায় সর্বশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন নানা ঘটনায় আলোচিত-সমালোচিত পিটার হাস। ২০২২ সালের ১৫ মার্চ থেকে ২০২৪-এর ২৩ জুলাই পর্যন্ত তিনি ছিলেন ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে। তাঁর ঢাকা ত্যাগের আগেই বাংলাদেশে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে উঠছিলো। আর পিটার হাসের চলে যাওয়ার ১৩ দিনের মধ্যেই বিশাল জনরোষের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিলো তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও।
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে এরপর বাংলাদেশে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দেশ চালানোর দায়িত্ব নিয়েছে এবং নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি নতুন সরকার গঠনের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বিদ্যমান অনিশ্চয়তায় ভরপুর গুমোট পরিস্থিতি পেরিয়ে বাংলাদেশ এক নতুন ডামাডোলের পর্বে প্রবেশ করতে চলেছে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এই প্রেক্ষিতে ঢাকার রাজনৈতিক আকাশে নতুন আরেক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আবির্ভাব তাৎপর্যপূর্ণ বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
পিটার হাস চলে যাওয়ার পর ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে আছেন দূতাবাসের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি এ্যান জ্যাকবসন। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সার্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ট্রেসি এ্যান জ্যকবসনকে অতি সম্প্রতি লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে দেখা গেছে।
এছাড়াও, দেশের আরো বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সাথেও তাঁকে ঢাকায় মতবিনিময়ে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে।
ঢাকায় দায়িত্ব নেয়ার পর নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তাঁর দায়িত্ব পালনের প্রথম মুহূর্ত থেকেই ব্যাপক ব্যতিব্যস্ততার ঘূর্ণিপাকে পড়তে হবে – এরকম মনে করা হলে ভুল হবে না।