দাফনের মাটি ‘না পেয়ে’ ভেলায় ভাসছে মরদেহ, ভিডিও ভাইরাল; ইউএনও বললেন ‘ভিউ ব্যবসা’

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

চট্টগ্রামঃ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কলাগাছের ভেলায় একটি মরদেহ বহনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।ভিডিওটির সঙ্গে দাবি করা হয়, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বন্যার কারণে দাফনের জন্য মাটি না পেয়ে মরদেহ ভেলায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।তবে স্থানীয় প্রশাসন এ দাবি সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে বলেছে, ভিডিওটি বাস্তব ঘটনার ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে প্রচার করা হয়েছে।ঘটনাটি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তি মোহাম্মদ ফোরকান।এলাকাটি বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।এ কারণে স্বজনরা মরদেহ বহনের জন্য কলাগাছ দিয়ে তৈরি একটি অস্থায়ী ভেলা ব্যবহার করেন।সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে দাবি ছড়ানো হয়েছে তা সঠিক নয়।তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি মাছ ধরতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যান।ঘটনাস্থলে নৌকা না থাকায় যে ভেলায় তাঁরা মাছ ধরছিলেন,সেই ভেলাতেই মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।পরে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করা হয়।ইউএনও আরও বলেন,“দাফনের জন্য মাটি পাওয়া যায়নি বা মরদেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।কিছু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি দর্শক পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন,যা মূলত ‘ভিউ ব্যবসা’।

জেলা প্রশাসনও জানিয়েছে,ভাইরাল ভিডিওর দাবির সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার মিল পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বা ভিডিও বিশ্বাস ও প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।তবে সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও বন্যায় সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।কিছু কবরস্থান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কয়েকটি পুরোনো কবর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেখান থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে অন্যত্র পুনরায় দাফন করা হয়েছে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।ভাইরাল ভিডিওটি বন্যা পরিস্থিতির একটি বাস্তব দৃশ্য ধারণ করলেও,“দাফনের জন্য মাটি না পেয়ে মরদেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে” — এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী,মরদেহটি যথাযথ ধর্মীয় নিয়ম অনুসরণ করেই দাফন করা হয়েছে।

You might also like