দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে ট্রাম্পের বিরোধিতা করতেও পিছপা হব না: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

যুক্তরাজ্যঃ দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি বা সিদ্ধান্তের প্রকাশ্য বিরোধিতা করতেও প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেওয়া প্রথম বড় সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।আজ রোববার (২৬ জুলাই) বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেন,ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রথম আলাপটা বেশ ভালো হয়েছে।ট্রাম্পকে তিনি খুবই আন্তরিক বলে মনে করেছেন।তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর ভরসা করেন কি না, এমন প্রশ্ন দুবার করা হলেও সরাসরি কোনো জবাব দেননি তিনি।উত্তর এড়িয়ে বলেন, বিশ্ব প্রতিনিয়ত পাল্টাচ্ছে।পরিস্থিতি যেভাবে সামনে আসবে,সেভাবেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আগামীকাল সোমবার পুরো সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করা হবে। তাতে বার্নহ্যাম আরও বলেন, আমি কোনো অবস্থাতেই এমন কথা বলতে পারি না যে তার সঙ্গে আমার কখনো মতবিরোধ হবে না।ব্রিটেনের জন্য যা সঠিক,সেই ভিন্ন চিন্তাভাবনা প্রকাশের প্রয়োজন আমার হতেই পারে।নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকাই আমার মূল শক্তি।প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও এ অভ্যাসের কোনো পরিবর্তন হবে না।দেশের জন্য সঠিক মনে হলে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন কি না জানতে চাইলে নতুন প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জবাব দেন,অবশ্যই।যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো কিছুর আগে নিজের দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে হয়। এ দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতে চাইলে এটাই প্রধান কাজ।ইরানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সংঘাত শুরু করার বিষয়ে নিজের ‘উদ্বেগ’ ছিল বলেও জানান বার্নহ্যাম।তিনি স্পষ্ট করেন, নিজের কাছে যা সঠিক মনে হবে, তা বলতে কখনোই কুণ্ঠা বোধ করবেন না।অবশ্য সামরিক খাতে জিডিপির ৩ শতাংশ খরচের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা সময়সীমা বেঁধে দিতে রাজি হননি তিনি।তার বর্তমান অর্থমন্ত্রী জন হিলি আগের সরকারের সময় পদত্যাগ করেছিলেন।সে সময় হিলির অবস্থান ছিল,২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে এ পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ না করলে দেশ নিরাপদ থাকবে না।

এ প্রসঙ্গে বার্নহ্যাম বলেন, নতুন চ্যান্সেলরকে নিয়োগ দেওয়ার সময় প্রতিরক্ষা খাতের খরচের গুরুত্ব এবং তার আগের অবস্থান সম্পর্কে আমি পুরোপুরি অবগত ছিলাম।তবে এ মুহূর্তে আমাদের দুজনের সামনে প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো,প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের জোগান নিশ্চিত করা।চলতি বছরের শেষের দিকে বাজেট ঘোষণার আগে এ বিষয়টিই গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করতে হবে।প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আবার জানতে চাইলে তার সংক্ষিপ্ত জবাব ছিল, আমাদের এটি করার পথ খুঁজে বের করতে হবে।এদিকে ২০২৯ সালের আগে আগাম সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা এবারই প্রথম সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন বার্নহ্যাম। জনগণের অনীহাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন,আমি আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করে দিচ্ছি।আমার মনে হয় না,মানুষ এখন কোনো নির্বাচন চায়।আগাম নির্বাচনের চেয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পুরো মনোযোগ এখন দেশকে আবার কাঙ্ক্ষিত জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়ার।

You might also like