নন্দিতা ভট্টাচার্য মুনমুনের রহস্যজনক মৃত্যু: এক অজানা সত্যের অনুসন্ধান
সংগ্রাম দত্ত:সাম্প্রতিক সময়ে কানাডার সাসকাটুন শহরে বাংলাদেশি প্রবাসী নারী নন্দিতা ভট্টাচার্য মুনমুনের রহস্যজনক মৃত্যু গভীর শোক এবং নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। উন্নত জীবনের আশায় বাংলাদেশ থেকে কানাডায় পাড়ি জমানো মুনমুনের এই আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ আজও অজানা।মুনমুনের নতুন জীবনের অধ্যায় শুরু করেছিলেন সাসকাটুন শহরে।কর্মঠ,বন্ধুবৎসল ও দৃঢ় মনোবল সম্পন্ন এই নারী হোটেল হেরিটেজ ইন-এ কাজ করছিলেন।তবে তার রহস্যজনক মৃত্যুর পর থেকে স্থানীয় প্রশাসনের নীরবতা এবং কানাডিয়ান মূলধারার গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি অনেককেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।স্থানীয় সূত্র ও অভিবাসী সমাজের বরাত অনুযায়ী, মুনমুনের মৃত্যু ঘিরে নানা রহস্য রয়ে গেছে।কানাডার সাসকাটুন পুলিশ সার্ভিস এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি—যা এই ঘটনার স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে।জাতীয় পর্যায়ের কানাডিয়ান গণমাধ্যমে এই খবরের অনুপস্থিতি লক্ষণীয়। ফলে তার মৃত্যুকে ঘিরে যে শোক ও বিচারের দাবি তৈরি হয়েছে, তা এখনো মূলধারায় প্রবেশ করেনি।
স্থানীয় শ্রমিক সংগঠন, অভিবাসী অধিকার কর্মী এবং দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এই মৃত্যুর পূর্ণ তদন্ত ও সরকারি পর্যায়ে দায়বদ্ধতা চেয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন। তাদের দাবি, এই ঘটনাটি কেবল একটি ব্যক্তি মৃত্যুর গল্প নয়, বরং এটি অভিবাসী নারীদের নিরাপত্তা, কাজের পরিবেশ, এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।নন্দিতা ভট্টাচার্য মুনমুনের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এখনও বহু প্রশ্ন রয়ে গেছে। তার পরিবার, প্রিয়জন ও সম্প্রদায়ের মানুষেরা এখনো প্রতীক্ষায়—এমন একটি জবাবের, যা’ তাকে ন্যায়বিচার দেবে এবং তার মৃত্যু কেবল একটি পরিসংখ্যান হয়ে হারিয়ে যাবে না।নন্দিতা ভট্টাচার্য মুনমুন মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরের পূর্বাশা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা। তিনি প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড এর শ্রীমঙ্গল শাখায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালে তিনি তাঁর স্বামী অনুপ ভট্টাচার্যসহ কানাডার সাসকাটুন শহরে অভিবাসী হিসেবে বসবাস শুরু করেন। কানাডায় গিয়েও তিনি কর্মজীবন চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং হেরিটেজ ইন হোটেল অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে কর্মরত ছিলেন।
২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর সকালে মুনমুন তার স্বামীর সঙ্গে হোটেলে যান এবং সেখানে নিজের কাজ শুরু করেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে স্বামী তাঁকে আনতে গেলে হোটেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ জানায়, মুনমুন ছয়তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন। তবে কীভাবে তিনি ছাদে উঠলেন বা পড়ে গেলেন, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজেও নেই কোনো প্রমাণ। তাঁর পার্সে থাকা গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ও কার্ডগুলোও নিখোঁজ।হোটেলের ছাদ সাধারণত অতিথিদের জন্য উন্মুক্ত নয় এবং শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কর্মচারীরাই সেখানে যেতে পারেন। প্রশ্ন উঠছে—কীভাবে মুনমুন ছাদে গেলেন? আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা না পরিকল্পিত হত্যা—কোনটি ঘটেছে তা নিয়ে পুলিশ এখনো স্পষ্ট কিছু জানায়নি। তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা এবং তথ্য প্রকাশে ধীরগতির কারণে পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ক্ষোভ বিরাজ করছে।একজন কর্মঠ, শিক্ষিতা ও স্বপ্নবান নারীর এমন রহস্যময় মৃত্যু সমাজকে নাড়া দিয়েছে। নন্দিতার পরিবারের পাশাপাশি সকল প্রবাসী বাংলাদেশিরা চাচ্ছেন দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত, যাতে সত্য উদ্ঘাটিত হয় এবং বিচার নিশ্চিত হয়। নন্দিতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও তাঁর পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাই।