ন্যাপ নেতা শরীফ হাসানের জীবনাবসান

ঢাকা করেসপন্ডেন্ট
সত‍্যবাণী

ঢাকা: বাংলাদেশ ছাত্র সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা,৮০ ও ৯০ দশকের ছাত্র নেতা, বাংলাদেশ যুব সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, ন্যাপ নেতা এডভোকেট মোঃ শরীফ হাসান (৬০) গত মঙ্গলবার ২৯শে জুলাই সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছেন। (ইন্না লিল্লাহ ই ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তিনি ঢাকার তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ারিং পাশ করেন এবং তেজগাঁও কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে
স্নাতকোত্তর পাশ করেন। এছাড়া তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এড. ও এম.এড সম্পন্ন করে।

কর্মজীবনে মি: হাসান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপ-আনুষ্ঠানিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক ছিলেন। উক্ত পদে থেকেই তিনি কয়েক বছর আগে অবসরে যান। কর্মজীবনে তিনি কোথাও অসততার সাথে আপোষ করেন নাই।

তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার সরূপকাঠীতে হলেও পিতার চাকরির সুবাদে ঢাকায়ই তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। তিনি অতান্ত মেধাবী,ভাগ্মী ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন পরিচ্ছন্ন মানুষ এবং সুলেখকও ছিলেন।

মাত্র ২৮ বছর বয়সে প্রথম তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়। বছর ২/৩ পরে তিনি চেন্নাইয়ে তাঁর ওপেন হার্ট সার্জারী করেন। এর পর দীর্ঘদিন মোটামুটি চলছিল। অবসরে যাওয়ার পর তার শরীরে আবার নানা সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসার জন্য তিনি থাইল্যান্ড যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর তার হার্টে কয়েকটি ব্লক ধরা পরে। কিডনি ২ টিও প্রায় ড্যামেজ দেখতে পান।
অত:পর সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ২ মাস সেখানে থেকে শরীরের উন্নতি ঘটিয়ে পূণরায় চিকিৎসা করা।কিন্তু ২ মাসেও শরীরের কোন উন্নতি না হওয়ায় ডাক্তার তাঁকে দেশে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন। সে থেকে দেশে ডায়ালেসিস করায়ে চলছিলেন।

মৃত্যুকালে শরিফ হাসান  স্ত্রী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শামিমা আক্তার ও ২ প্রকৌশলী পুত্রকে রেখে যান।

বুধবার ৩০শে জুলাই পল্লবীতে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে চীরনিদ্রায় শায়িত হন রাজপথ কাঁপানো এক সময়ের ছাত্রনেতা শরিফ হাসান।

 

You might also like