প্রিয় শিশুসাহিত্যিক অ্যালান অ্যালবার্গ আর নেই, মৃত্যু ৮৭ বছরে

শিশুদের প্রিয় লেখক অ্যালান অ্যালবার্গ ৮৭ বছর বয়সে মারা গেছেন।তিনি স্ত্রী জ্যানেট এবং পরে রেমন্ড ব্রিগস,জেসিকা অ্যালবার্গসহ চিত্রকরদের সঙ্গে মিলে ১৫০টির বেশি বই লিখেছেন।তার বইগুলো রঙিন চরিত্র ও ছন্দময় গল্পে শিশুদের মুগ্ধ করেছে।তিনি শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য বিখ্যাত।অ্যালান অ্যালবার্গ ১৯৩৮ সালে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের ওল্ডবারিতে জন্মগ্রহণ করেন।দত্তক নেওয়া একটি শ্রমিক পরিবারে বড় হন তিনি।২০০৬ সালে তিনি দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন,“আমার বাবা-মা আমাকে ভালোবাসতেন, তারা আমাকে শিশু আশ্রমে বড় হওয়া থেকে বাঁচিয়েছেন,তবে বাড়িতে বই বা কথোপকথন ছিল না।পড়াশোনা ও জাতীয় সেবার পর তিনি ডাকপিয়ন, প্লাম্বারের সহকারী ও কবর খননকারী হিসেবে কাজ করেন।

১৯৬৯ সালে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজে জ্যানেট হলের সঙ্গে পরিচয়ের পর তাদের বিয়ে হয়।জ্যানেট একজন পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রকর ছিলেন।তারা লিসেস্টারের কাছে বসতি গড়েন। জ্যানেট যখন তার চিত্রায়িত গল্পের জন্য ভালো গল্প চান,অ্যালান বলেন,“তিনি যেন আমার পিঠে চাবি ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন।১৯৭৬ সালে তাদের প্রথম বই ‘দ্য ওল্ড জোক বুক’ প্রকাশিত হয়।এরপর ‘বার্গলার বিল’ ও ‘ইচ পিচ পেয়ার প্লাম’ তাদের খ্যাতি বাড়ায়।

ইচ পিচ পেয়ার প্লাম’ ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয়। এটি একটি ছন্দময় গল্প, যেখানে টম থাম্ব, সিন্ডারেলা, জ্যাক অ্যান্ড জিলের মতো চরিত্রের ঝলক দেখা যায়। এটি সমালোচক এলেন মসের কাছে “প্রতিভার কাজ” বলে প্রশংসিত হয়। জ্যানেটের চিত্রকলা ১৯৭৯ সালে কেট গ্রিনওয়ে পদক জিতে। ‘পিপো!’ বইটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একটি শ্রমিক পরিবারের শিশুর জীবনের গল্প বলে, যা অ্যালানের শৈশবের প্রতিফলন।তাদের মেয়ে জেসিকা ‘দ্য বেবি’স ক্যাটালগ’ ও ‘দ্য জলি পোস্টম্যান’-এর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। ‘দ্য জলি পোস্টম্যান’ রূপকথার চরিত্রদের চিঠি বিতরণের গল্প, যা ৬০ লাখ কপি বিক্রি হয়। ১৯৯৪ সালে জ্যানেট ব্রেস্ট ক্যান্সারে মারা যান। অ্যালান বলেন, “তার স্মৃতিতে বই লিখে আমি দুঃখ থেকে বেরিয়ে আসি।” পরে তিনি জেসিকাসহ অন্যান্য চিত্রকরদের সঙ্গে কাজ করেন।ওয়াকার বুকস গ্রুপের সিইও বেলিন্ডা আইওনি রাসমুসেন বলেন, “অ্যালানের খেলাধুলাপূর্ণ ভাষা ও চরিত্র সবাইকে হাসিয়েছে। তিনি শিশুসাহিত্যিক ও শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করেছেন।” অ্যালান তার শেষ দিনগুলো বাগানের শেডে লিখে কাটাতেন। ২০১১ সালে তিনি বলেন, “আমি বুড়ো হয়েছি, লেখার গতি কমেছে,তবে এখনও লিখতে ভালোবাসি।তার মৃত্যু শিশুসাহিত্যের জগতে একটি বড় ক্ষতি।তার বইগুলো আগামী প্রজন্মের শিশুদেরও আনন্দ দেবে।

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian

You might also like