ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস ও উত্তরাঞ্চলের বন্যার অবনতির শঙ্কা

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

ঢাকাঃ বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই মাঝারী,ভারী কিংবা অতিভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়ে আবহাওয়া বিভাগ।বন্যা তথ্য কেন্দ্র বলছে,দেশের তিনটি নদীর তিনটি জেলার চারটি পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।এতে উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা দিয়ে সংস্থাটি বলেছে,সোমবার দুপুর থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের ছয়টি বিভাগের কোথাও ভারী,আবার কোথাও অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে পরবর্তী ২৪ ঘন্টায় রংপুর, রাজশাহী,ময়মনসিংহ,ঢাকা,চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে ঢাকা মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে,ওই সতর্কতায় বলা হয়েছে।সাধারণত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে সেটিকে ভারী বর্ষণ,আর ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হলে সেটিকে অতি ভারী বর্ষণ বলা হয়।এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, মৌসুমি বায়ু ভারতের পাঞ্জাব,হরিয়ানা,উত্তর প্রদেশ,বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত আছে।এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।এছাড়া মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারী অবস্থায় বিরাজমান আছে,” কেন্দ্র জানিয়েছে।অন্যদিকে বন্যা তথ্য কেন্দ্র বলছে,দেশের তিনটি নদীর তিনটি জেলার চারটি পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।আগামী দুই দিন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে।ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় নদীসংলগ্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

এছাড়া আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলে তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি কিছু জায়গায় বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কোথায় কোথায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।তবে এই সময়ে বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সাবাজার জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরী নদীর পানি হ্রাস পেতে পারে এবং ওই অঞ্চলের বন্যার পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে।প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে গত কয়েকদিন ধরে কমবেশি টানা বৃষ্টি হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বৃষ্টিপাত প্রথমে পার্বত্য চট্টগ্রামে বন্যা,ভূমিধস ও মৃত্যুর কারন হলেও এখন তা ঢাকাসহ প্রায় বেশিরভাগ জেলাতেই জনজীবন বিপর্যন্ত করে তুলেছে।অতিবৃষ্টি, পাহাড়ী ঢল ও পাহাড়ধসে ক্ষয়ক্ষতি ও ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দ ও বিতরণ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যা আক্রান্ত জেলা সাতটি।সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এ দুর্যোগে বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায় এপর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। আহত হয়েছেন ৩৯ জন।

You might also like