ময়মনসিংহ ৫৮৩ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা

নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী

ময়মনসিংহঃ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থী বাছাইয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিয়েও ভাবছে স্থানীয় প্রশাসনসহ ভোটাররা।সবারই চাওয়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হোক।সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত থাকুক কেন্দ্রগুলো।জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে প্রায় অর্ধেক ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ।এসব কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।কেউ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে চেষ্টা করলে কঠোরভাবে দমনেরও হুঁশিয়ারির কথাও জানানো হয়েছে।ভোটারদেরও প্রত্যাশা,গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই তাদের নির্বাচিত প্রার্থী সংসদে যাক।

জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ থেকে জানা যায়, ময়মনসিংহের ১১টি সংসদীয় আসনে ১ হাজার ৩৬৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৮৩টিই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিপরীতে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে রয়েছে ৭৮২টি। অর্থাৎ জেলার প্রায় ৪৩ শতাংশ কেন্দ্রেই বিশেষ নজরদারি ও বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন।জানা যায়, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ত্রিশাল ও ভালুকায়। উভয় উপজেলায় ৭২টি করে কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সদরে ৬৫টি এবং ময়মনসিংহ-১০ আসনে গফরগাঁওয়ের পাগলা থানায় ৫৮টি কেন্দ্রকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অন্য উপজেলার মধ্যে ফুলবাড়িয়ায় ৫০টি, ঈশ্বরগঞ্জে ৪৭টি, নান্দাইলে ৪৩টি এবং গৌরীপুরে ৪২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হালুয়াঘাটের ২০টি, ধোবাউড়ায় ২৫টি, ফুলপুরে ১৯টি, তারাকান্দায় ২৯টি, মুক্তাগাছায় ১৯টি এবং গফরগাঁওয়ে ২২টি কেন্দ্র।

ময়মনসিংহের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য মতে, ময়মনসিংহ জেলার ১১টি আসনে মোট ভোটার ৪৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৪ লাখ ৬ হাজার ৮৯২ জন, নারী ২৩ লাখ ৫৭ হাজার ১৬৬ জন এবং হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ৪১ জন। ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট- ধোবাউড়া) আসনে ৭ জন, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর- তারাকান্দা) আসনে ৭ জন, ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে ৫ জন, ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে ৯ জন, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে ৫ জন, ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনে ৫ জন, ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে ৬ জন, ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে ৪ জন, ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে ৬ জন, ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে ৯ জন ও ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ৫ জন প্রার্থী মিলে ৬৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ভোটাররা জানান, এই জেলার আসনগুলোতে বিএনপি, ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র ও জামায়াত জোটের প্রার্থীদের মধ্যে লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হতে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। ভোটকেন্দ্র শান্তিপূর্ণ থাকলে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন ভোটরা। এজন্য সবার প্রত্যাশা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের পাগলা এলাকার ভোটার শামসুল আলম বলেন, ‘বিগত নির্বাচনগুলোতে পাগলা এলাকার বেশ কিছু কেন্দ্রে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। প্রভাবশালীরা কেন্দ্র দখলের জন্য লোকজন নিয়ে এসে হামলা চালায়। ওই কেন্দ্রগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।’ পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য থাকলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোটগ্রহণ শেষ হবে দাবি এই ভোটারের।এ বিষয়ে ময়মনসিংহের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান  জানান,নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারবেন।কোনও কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোরভাবে দমন করবে। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না।

You might also like