‘মার্কিন সেফ হাউজে সমন্বয়কদের মগজধোলাই হয়েছে’, কী বলতে চেয়েছেন ফরহাদ মজহার
নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী
ঢাকাঃ সম্প্রতি একটি অনলাইন গণমাধ্যমের পডকাস্টে কলামিস্ট ও সমাজ চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন,চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের সময় এর সমন্বয়কদের বিভিন্ন দূতাবাসে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল।পডকাস্টে তিনি আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট আরও কিছু বিষয় নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।তিনি দাবি করেন,যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু বিদেশি দূতাবাস আন্দোলনকারীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য সেফ হাউজ পরিচালনা করেছিল।সে সময় প্রাণে বাঁচতে কিছু সমন্বয়ক দূতাবাসের আশ্রয়ও চেয়েছিলেন।ফরহাদ মজহার আরও দাবি করেন, এসব সেফ হাউজে আন্দোলনের সমন্বয়কদের মগজধলাই করা হয়েছে।তারা যেন শেখ হাসিনার পদ্যতাগ চান,সেভাবেই তাদের বলা হয়েছে।তিনি এক্ষেত্রে মার্কিন দূতাবাসকে দায়ী করেছেন।নিজেও জুলাই আন্দোলনের পক্ষে ভূমিকা পালন করে এই সময়ে এসে,এমন মন্তব্যের পেছনে কী কারণ থাকতে পারে— তা নিয়ে নানা বিশ্লেষণ হচ্ছে।তাহলে কি তিনি শেখ হাসিনার পতন চাননি? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফরহাদ মজহারের ঘনিষ্ঠ এক মানবাধিকার সংগঠক বলেন,‘ফরহার মজহার যা বলেছেন,সঠিক বলেছেন। কারণ তিনি একটি ফ্যসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ চেয়েছিলেন।কিন্তু একটি সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে চলে যাবে, তা চাননি। তিনি হয়তো অভিযুক্ত শেখ হাসিনাকে আইনের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন।তাছাড়া তার মতে, বাংলাদেশের বামপন্থিরা জেনে বা না জেনে যুক্তরাষ্ট্রের রেজিম পরিবর্তনে অংশ নিয়েছে।তবে ভিন্ন কথাও বলছেন কেউ কেউ।তাদের মতে, জুলাই আন্দোলনে সরকার পতনের পর নিজের কৃতিত্বের কথা জানিয়েছিলেন ফরহাদ মজহার।এমনকি বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তার সুপারিশ করা বিভিন্ন জনকে নিয়োগও দেওয়া হয়েছে। এখন এসে এ ধরনের বক্তব্য অনাকাঙিক্ষত ও বিভ্রান্তিকর।জানতে চাইলে মানবাধিকার সংগঠক রেজাউর রহমান লেনিন বলেন, প্রথমত বিগত দিনে ফরহার মজহার নিজেও গুমের শিকার হন। জুলাই আন্দোলনের সময় নাহিদ ইসলামসহ ৪ সমন্বয়ক জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে।সেটা তাদের অধিকার আছে।যা কখনও অযৌক্তিক নয়। তখন আমরাও তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে বিভিন্ন উপায়ে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু সে সময় দূতাবাসগুলো তেমন সাড়া দেয়নি। আর যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসও সে অর্থে কোনও ভূমিকা পালন করেনি। তবে জাতিসংঘের আবাসিক কার্যালয়ের পক্ষ থেকে ৪ সমন্বয়ককে সহযোগিতা করা হয়েছে। যা অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইনসহ অনেকেই জানতেন।এ সময়ে এসে ফরহাদ মজহার বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস সরকার পতনের দাবি শিখিয়ে দিয়েছে। আমার মতে, এটি তথ্যগত বিভ্রাট।