রাজনীতি: হিরণ্ময় আদর্শের মহাকাব্য বনাম অপরাজনীতির চোরাবালি

চৌধুরী ফরহাদ

রাজনীতি মূলত একটি জনকল্যাণমূলক শিল্প,যার মূল ভিত্তি ত্যাগ,আদর্শ,দূরদর্শিতা এবং দেশপ্রেম।রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক এরিস্টটল রাজনীতিকে বলেছিলেন “সর্বোত্তম বিজ্ঞান”,যার লক্ষ্য মানবসমাজের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ নিশ্চিত করা।তবে ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, বিশুদ্ধ রাজনীতির এই হিরণ্ময় রূপের সমান্তরালে সবসময়ই এক অন্ধকার চোরাস্রোত প্রবাহিত হয়েছে, যাকে আমরা বলি- অপরাজনীতি।গ্রিক রূপকথার প্রমিথিউস যেমন মানবকল্যাণে স্বর্গ থেকে আগুন চুরি করে এনে চিরন্তন যন্ত্রণার শাস্তি বরণ করেছিলেন, প্রকৃত রাজনীতিও ঠিক তেমনি এক যুগান্তকারী আত্মত্যাগের ব্রত। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান হয়ে আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ পর্যন্ত—প্রতিটি যুগেই আদর্শিক রাজনীতির যেমন অনন্য নজির রয়েছে, তেমনি ক্ষমতার লোভ আর ষড়যন্ত্রের অপরাজনীতিও সমাজকে ক্ষতবিক্ষত করেছে।

মোদ্দা কথা- রাজনীতি করলে শুধু সুখ্যাতি আর ফুলের মালার আশা করা সমীচীন নয়; মাঝেমধ্যে গলায় জুতার মালার মতো চরম অপমান বরণের জন্যও প্রস্তুত থাকতে হয়। রাজনীতি করলে নিজের বসতবাড়িকেই একমাত্র নিরাপদ নিবাস ভাবলে চলে না, কারাগারকেও অন্যতম আবাসস্থল হিসেবে মেনে নিতে হয়। রাজনীতিতে সবসময় যে আনন্দঘন ও সুসময় আসবে তা নয়; বরং দুর্বিষহ ও দুঃসহ যন্ত্রণার কালকেও সাহসের সাথে মোকাবেলা করতে হয়। মূলত, এটাই প্রকৃত রাজনৈতিক কর্মীর ভাগ্য ও নিয়তি।

ব্রিটিশ আমল: অধিকার আদায়ের হিরণ্ময় ত্যাগ বনাম বিভাজনের কূটচাল—
ব্রিটিশ আমলে ভারতীয় উপমহাদেশে বিশুদ্ধ রাজনীতির মূল সুর ছিল “দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ”। নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু ও মহাত্মা গান্ধীর পাশাপাশি এই বাংলার মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির কাণ্ডারি ছিলেন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এবং গণতন্ত্রের মানস পুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো দূরদর্শী জননেতারা। শেরে বাংলা ফজলুল হক কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের ক্ষমতার রাজনীতির জৌলুস ত্যাগ করে ‘কৃষক প্রজা পার্টি’ গঠনের মাধ্যমে জমিদারী প্রথার ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। অবহেলিত ও ঋণগ্রস্ত কৃষকদের বাঁচাতে তার ঋণ সালিশী বোর্ড গঠন ছিল গণমুখী রাজনীতির এক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়। অন্যদিকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী আজীবন নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা বলেছেন। একই যুগে ভারতবর্ষে শোষিত ও সর্বহারা মানুষের অধিকার আদায়ে সাম্যবাদী রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছিলেন ‘কাকাবাবু’ খ্যাত কমরেড মুজফফর আহমদ। রাজকীয় আভিজাত্য বা বুর্জোয়া রাজনীতির লোভ পরিহার করে তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি গঠনে নেতৃত্ব দেন। ব্রিটিশ সরকারের কানপুর বলশেভিক ষড়যন্ত্র মামলা কিংবা মিরাট ষড়যন্ত্র মামলার মতো চরম নির্যাতনকে তোয়াক্কা না করে তিনি জীবনের সিংহভাগ সময় অন্ধকার কারাগারের প্রকোষ্ঠে কাটিয়েছেন। কাকা বাবু কিংবা সূর্য সেন ও প্রীতিলতাদের মতো বিপ্লবীদের আত্মদান ছিল বিশুদ্ধ দেশপ্রেমের হিরণ্ময় উদাহরণ, যেখানে নিজের জীবন দেওয়ার চেয়ে বড় কোনো চাওয়া ছিল না। ত্যাগের এই রাজনীতি যেন গ্রিক পুরাণের ফিনিক্স পাখির মতো, যা নিজের চিতাভস্ম থেকে বারবার পুনর্জন্ম লাভ করে গণমানুষের অধিকারকে বাঁচিয়ে রাখে।

অপরাজনীতির রূপ ও বিভাজনের মিথ—
সেই যুগে ব্রিটিশরা তাদের শাসন টিকিয়ে রাখতে ‘ভাগ করো এবং শাসন করো’ নীতি অবলম্বর করে। এটিই ছিল এই অঞ্চলের আধুনিক অপরাজনীতির সূচনালগ্ন। লর্ড কার্জনদের বঙ্গভঙ্গের চতুর রাজনীতি এবং ১৯৪৬ সালের কলকাতার ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ বা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উস্কে দেওয়া ছিল অপরাজনীতির নিকৃষ্ট উদাহরণ। ক্ষমতার লোভে কিছু স্থানীয় নেতার ব্রিটিশদের দালালি করা ছিল মূলত ‘ট্রোজান হর্স’ বা ভেতর থেকে মূলে আঘাত করার শামিল। ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠীর চতুরতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে লর্ড কার্জন ও মাউন্টব্যাটেনদের সেই কূটচাল পুরো উপমহাদেশে দীর্ঘমেয়াদী সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিয়েছিল, যার ক্ষত আজও এই অঞ্চলের মানুষ বয়ে বেড়াচ্ছে।

পাকিস্তান আমল: স্বাধিকারের সংগ্রাম ও প্রগতিশীল রাজনীতি বনাম সামরিক স্বৈরাচার—

পাকিস্তান আমল ছিল বাঙালির শৃঙ্খল মুক্তির এবং প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশের অগ্নিপরীক্ষার কাল। এ সময় মুসলিম লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে শেরে বাংলা এবং মওলানা ভাসানীকে সাথে নিয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠন ও ১৯৫৪ সালের ঐতিহাসিক বিজয় ছিল এক বিশাল রাজনৈতিক দূরদর্শিতা। সোহরাওয়ার্দীর হাত ধরেই এই অঞ্চলে স্বাধিকারের রাজনীতি বিকশিত হয়েছিল এবং তারই যোগ্য শিষ্য হিসেবে রাজপথে লড়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। একই সাথে প্রগতিশীল, বামপন্থী ও সাম্যবাদী ধারার রাজনীতি চর্চায় অনন্য অবদান রেখেছেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ, কমরেড মনি সিংহ, ইলা মিত্র এবং অলি আহাদের মতো কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বরা। এই প্রগতিশীল নেতারা শোষিত মানুষের অধিকার আদায়ে শ্রেণী সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন। তারা ক্ষমতার মোহে অন্ধ হননি, নিজের বসতবাড়িকে আপন নিবাস ভাবেননি; বরং জীবনের সিংহভাগ সময় কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটিয়েছেন কিংবা হুলিয়া মাথায় নিয়ে আত্মগোপনে থেকেছেন। বিশেষ করে ন্যাপ প্রধান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের রাজনৈতিক জীবন ছিল সততা ও ত্যাগের এক হিরণ্ময় উপাখ্যান। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের পর তার ওপর হুলিয়া জারি হলে তিনি দীর্ঘ আট বছর আত্মগোপনে থেকে প্রগতিশীল রাজনীতিকে সংগঠিত করেন। হুলিয়া মাথায় নিয়ে ছদ্মবেশে পুরো দেশ ঘুরে বেড়ানো এই মহান নেতা স্বাধিকার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের আগে আইয়ুব খানের ডাকা গোলটেবিল বৈঠকে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সোচ্চার ভূমিকা রাখেন। তেভাগা আন্দোলনের লড়াকু নেত্রী ইলা মিত্রের ওপর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অমানুষিক নির্যাতন কিংবা কমরেড মনি সিংহের আজীবন ত্যাগ ছিল প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির হিরণ্ময় উদাহরণ। ছাত্র জনতার ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলনে মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলা, ৬২-র ছাত্র আন্দোলন, বঙ্গবন্ধুর ৬৬-র ছয় দফা এবং ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ছিল মূলত এই প্রগতিশীল ও স্বাধিকারকামী রাজনীতিরই মহিমান্বিত ফসল।

পাকিস্তানের ২৪ বছরের ইতিহাস ছিল মূলত সামরিক জান্তা, আমলাতন্ত্র এবং পশ্চিম পাকিস্তানি শোষকদের অপরাজনীতির কালো অধ্যায়। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে প্রগতিশীল রাজনীতি ও বামপন্থী দলগুলোকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক নেতাদের রাষ্ট্রদ্রোহী ও ভারতের দালাল আখ্যা দিয়ে বছরের পর বছর বিনাবিচারে জেলে আটকে রাখা ছিল চরম অপরাজনীতি। ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি দেওয়ার উদ্দেশ্যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার মতো মিথ্যা রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা দায়ের এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরও ক্ষমতা হস্তান্তর না করা ছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্লজ্জ ক্ষমতার লোভ। রোমান সম্রাট নিরো যেমন রোম পুড়তে দেখে বাঁশি বাজাচ্ছিলেন, ইয়াহিয়া-টিক্কা খানরাও তেমনি বাঙালির গণতান্ত্রিক রায়কে বুলেট দিয়ে স্তব্ধ করতে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যার অপরাজনীতিতে মেতে উঠেছিল।

বাংলাদেশ আমল: স্বাধীনতার চেতনা বনাম ক্ষমতার লিপ্সা ও দুর্বৃত্তায়ন—
১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা ছিলেন ন্যাপ প্রধান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ও কমিউনিস্ট পার্টির নেতা কমরেড মনি সিংহ। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন, একটি বিশ্বমানের প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক সংবিধান প্রণয়ন এবং শূন্য থেকে রাষ্ট্রকে দাঁড় করানোর পেছনে কাজ করেছে তাদের হিরণ্ময় দেশপ্রেম। দেশাত্মবোধের টানে রাজনীতি করা, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত রাজনৈতিক কর্মীরাই ছিলেন এই যুগের প্রাণ।

নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নূর হোসেনের বুকে-পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লেখা ছিল রাজপথের বিশুদ্ধ রাজনীতির আরও এক অমর প্রতীক। নূর হোসেনের এই আত্মত্যাগ যেন গ্রিক ট্র্যাজেডির সেই নায়কদের মতো, যারা নিজের জীবন দিয়ে সামষ্টিক মুক্তির পথ দেখায়।

অপরাজনীতির রূপ ও মীরজাফরি মিথ—
দুর্ভাগ্যবশত, স্বাধীন বাংলাদেশেও অপরাজনীতির প্রাদুর্ভাব এড়ানো যায়নি। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা এবং ৩রা নভেম্বর জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে খুন করা ছিল পলাশীর প্রান্তরের ‘মীরজাফর ও লর্ড ক্লাইভের’ ষড়যন্ত্রের আধুনিক রূপ। এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের নিকৃষ্টতম অপরাজনীতি। পরবর্তীতে সামরিক ফরমান জারি করে সংবিধান লঙ্ঘন, ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে খুনিদের রক্ষা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি করা হয়। রাজনীতিতে ‘মানি ইজ নো প্রবলেম’ তত্ত্বের মাধ্যমে দুর্বৃত্তায়ন, কালোটাকার অনুপ্রবেশ, দলবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মুক্তিযুদ্ধের ঘাতক দালালদের রাজনীতি করতে দেয়া এবং ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে চরমভাবে কলুষিত করেছে। গ্রিক পুরাণের মেডুসার দিকে তাকালে যেমন মানুষ পাথরে পরিণত হতো, রাজনীতিতে কালোটাকা ও পেশীশক্তি তেমনি তরুণ প্রজন্মের আদর্শিক চেতনাকে অবশ ও ধ্বংস করে দিচ্ছে। জনগণের ভোটের অধিকার হরণ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার প্রবণতা এই আমলের অপরাজনীতিকে এক গভীর সংকটে নিমজ্জিত করেছে।

পরিশেষে- ইতিহাসের এই দীর্ঘ পথপরিক্রমা আমাদের শিক্ষা দেয় যে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু আদর্শ চিরন্তন। গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর ফিলোসফার কিং বা দার্শনিক রাজার যে ধারণা, তার মূল নির্যাস হলো—যিনি দেশ চালাবেন তার কোনো ব্যক্তিগত লোভ থাকবে না, দেশের দুঃখই হবে তার দুঃখ। যেখানে আজকের রাজনীতিতে পদের জন্য মরিয়া দৌড়ঝাঁপ চলে, সেখানে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের কৃষক-প্রজার জন্য আমৃত্যু লড়াই, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মজলুম মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আপসহীন গণতান্ত্রিক চেতনা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন আপসহীন সংগ্রাম ও সুদীর্ঘ কারাবাস, কাকাবাবু কমরেড মুজফফর আহমদের বছরের পর বছর নির্জন অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটানো, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ কিংবা কমরেড মনি সিংহের ঐতিহাসিক ত্যাগ ও দৃষ্টান্তগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় রাজনীতি আসলে ভোগের নয়, ত্যাগের জায়গা। যুগে যুগে যে সমস্ত রাজনৈতিক কর্মী বা শাসক শুধু ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে অপরাজনীতি করেছেন, ইতিহাস তাদের আস্থাকুড়ে নিক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে, যারা কারাগারকে নিজের আবাসস্থল মেনে, সব দুঃসহ যন্ত্রণাকে মোকাবেলা করে জনগণের অধিকারের কথা বলেছেন, ইতিহাসের হিরণ্ময় পাতায় তারাই অমর হয়ে আছেন। আজকের সংকটের আলোকেও যদি আমরা অন্ধকার অপরাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে সেই প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক ও ত্যাগের বিশুদ্ধ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফিরতে না পারি, তবে ইতিহাসের দায় আমাদের কখনোই ক্ষমা করবে না।

লেখক: কলামিস্ট ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী।

You might also like