‘রাতে পানি, সকালে ক্ষুধা’, লালমনিরহাটে হাহাকার
নিউজ ডেস্ক
সত্যবাণী
লালমনিরহাটঃ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে লালমনিরহাটে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে।সোমবার (৪ আগস্ট) বিকাল ৩টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ডালিয়া ব্যারাজে খুলে রাখা হয়েছে ৪৪টি জলকপাট।এর আগে রোববার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে সারারাত বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। এতে লালমনিরহাটের চার উপজেলায় প্রায় ৮ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।জানা গেছে, তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার ৩০টি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে সদর উপজেলায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ ও আদিতমারী উপজেলায় ৪ হাজার মানুষ, কালীগঞ্জ উপজেলায় ১ হাজার মানুষ ও হাতীবান্ধা উপজেলায় ১ হাজার ৮০০ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।রাতভর পানি প্রবেশের কারণে এসব এলাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। বিশুদ্ধ পানি, শিশুদের খাবার, স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং পশুর খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ধসে পড়েছে কয়েকটি সড়কও। কৃষি জমি ও মাছচাষে দেখা দিয়েছে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা।
দ্বিতীয় দফার এ বন্যায় আজ বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে পানিবন্দী মানুষকে কোনো শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়নি। পানিবন্দী কেউ কেউ অনাহারে, অর্ধাহারে দিন পার করছেন। তবে পর্যাপ্ত খাবার মজুদ থাকার দাবি করেছে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন।সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের দিঘলটারী এলাকার সাবিত্রি রানী (৫০) বলেন, মর রাত থেকে ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে, রান্নাঘরেও পানি। সারাদিনও রান্না করতে পারিনি। সরকারিভাবে কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি।একই এলাকার সন্ধা রানী (৫২) বলেন, আমি তো মাঠে কাজ করে খাই। এখন বন্যা আসছে কি করি খাব জানি না। বাজার থেকে কিনে আনা সামান্য শুকনো খাবার ছাড়া কিছু নেই আমাদের কাছে।
একই ইউনিয়নের কালমাটি এলাকার সামসুল হক (৪৫) বলেন, আমাদের কষ্টের সীমা নেই। রান্নার কোনো ব্যবস্থা নেই। ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছি। সরকার বাহাদুর তো আমাদের দিকে তাকায় না।এদিকে প্রায় ২ শতাধিক পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন জামায়াত মনোনীত সদর ৩ আসনের প্রার্থী হারুন অর রশীদ। বুক পানিতে নেমে নিজেই এ খাবার পৌঁছে দেন পানিবন্দীদের কাছে। তবে বেসরকারি সংস্থা কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলকে দেখা যায়নি পানিবন্দী এলাকায়।লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শাহরিয়ার তানভীর আহমেদ বলেন, হাতীবান্ধায় দ্বিতীয় দফা পানির বৃদ্ধিতে ত্রাণ হিসেবে ২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী পানিবন্দীদের শুকনো খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টা দেশে ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি কিংবা ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ সকল জায়গা মনিটরিং করা হচ্ছে। কোথাও কোনো ভাঙন দেখা দিলে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।