শান্তিগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে ব্রিজ নির্মাণঃ হুমকির মুখে বোরো

চঞ্চল মাহমুদ ফুলর
সত্যবাণী

সিলেট থেকেঃ সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাই হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে লাউয়া নদীতে (বেতখালী) ব্রিজ নির্মাণ করায় হুমকির মুখে পড়েছে বোরো ফসলী জমি ও ফসল রক্ষা বাঁধ। এতে খাই হাওরের ফসলের সুরক্ষা নিয়ে কৃষকদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। শান্তিগঞ্জ সংবাদদাতা ছায়াদ আহমেদ এমন তথ্য জানিয়েছেন।পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শান্তিগঞ্জ বাজার হতে রজনীগঞ্জ বাজার রাস্তাটি বসিয়াখাউরী পর্যন্ত আরসিসি কাজ চলমান রয়েছে। বর্তমানে শান্তিগঞ্জ বাজার-রজনীগঞ্জ রাস্তার নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে খাই হাওরস্থ বেতখালী নামক এলাকায় লাউয়া নদীর উপর স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিইডি)’র তত্ত্বাবধানে বিশ্বব্যাংক ও জিওবি-এর অর্থায়নে ১০ কোটি ৩৭ লাখ ৩৯ হাজার ৫৮৩ টাকা ব্যয়ে সেতুর নির্মাণ কাজ চলছে।

চলতি বছরের প্রথম দিকে লাউয়া নদীর উপরে ব্রিজ নির্মাণ কাজের পাইলিং কাজ শুরু করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ফসল রক্ষা বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার এলাকা কেটে ফেলা হয়। এতে বিপাকে পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণাধীন খাই হাওরের প্রায় ২৯ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ।চলতি বছর ২৮ ফেব্রুয়ারির বাঁধের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণাধীন ফসল রক্ষা বাঁধের লাউয়া নদীর অংশের প্রায় ৫০ মিটার বাঁধ অরক্ষিত রয়েছে। ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না করা হলে শেষ মূহুর্তে এসে ৫০ মিটার মিটার কাজ তড়িগড়ি করে শেষ করলে বাঁধ ও খাই হাওরের বোরো ফসল হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। খাই হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের ৫৩নং পিআইসির অধীনে ৩৩০ মিটার ফসল রক্ষা বাঁধ রয়েছে। তন্মধ্যে দু’পাশে অধিকাংশ বাঁধের কাজ শেষ করা হলেও মধ্যখানে ব্রিজের ফাইলিং-এর কাজ করায় ৫০ মিটার বাঁধ পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

খাই হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের ৫৩নং পিআইসির সভাপতি মো.আফিকুল ইসলাম বলেন, আমার পিআইসির অধীনে লাউয়া নদীর পড়ে বেতখালী বাঁধ টি পড়েছে। বাঁধের বড় একটি অংশ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন কেটে ফেলেছে। এতে ফসল রক্ষা বাঁধের মূল বাঁধ কাটায় হুমকির মুখে পড়েছে। বাঁধ নির্মাণের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ না করতে পারলে পরবর্তীতে রাতারাতি বাঁধ নির্মাণ করলে বাঁধটি টেকসই হবে না। ঝুঁকির মধ্যে বাঁধটি পড়বে।শান্তিগঞ্জ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো.মাহবুব আলম বলেন, খাই হাওরে প্রায় ২৯ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ রয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের লোকজন বাঁধটি কাটার সময় আমাদেরকে অবগত করেন নি। চলতি বছর বাঁধ নির্মাণের জন্য পিআইসি কমিটিকে কাজ দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাঁধের অধিকাংশ কাজ শেষ হলেও ৫০ মিটার কাজ ব্রিজ নির্মাণের ফলে মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না, ঝুঁকির মধ্যে পড়ে আছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধের ঐ অংশের কাজ শেষ করা না হলে বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ থেকে যাবে।শান্তিগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আল নুর তারেক বলেন, বাঁধটি কাজের প্রয়োজনে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন কেটে ফেলেছে। তবে বাঁধ নির্মাণের নির্ধারিত সময় ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধটি মেরামত করে কাজ সম্পন্ন করা হবে। শান্তিগঞ্জের ইউএনও মো.আনোয়ার উজজামান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফসল রক্ষা বাঁধ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের ব্রিজ নির্মাণকাজ একই স্থানে হওয়ায় বাঁধ কেটে ফেলা হয়েছে। ফসল রক্ষা বাঁধটি দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও কোন সমাধান করা যাচ্ছে না। তবে বাঁধের কাজ শেষ মূর্হুতে করলে টেকসই হবে না এবং ঝুঁকির মধ্যে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

You might also like