সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের আয়োজনে লন্ডনে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ বাংলাদেশ বইমেলা
সৈয়দ হিলাল সাইফ
সত্যবাণী
লন্ডন: আজ লন্ডনের ব্র্যাডি আর্টস অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারে সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ,যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে শুরু হয়েছে“ত্রয়োদশ বাংলাদেশ বইমেলা: সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব,লন্ডন ২০২৫”।দুই দিনব্যাপী এই বইমেলা ও উৎসবের মূল লক্ষ্য প্রবাসে বাংলা ভাষা,সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসার ঘটানো।অনুসন্ধান সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ,কবি প্রকাশনী,ইউ পি এল,সাহিত্য প্রকাশ অভ্র,স্বরবৃত্ত প্রকাশ,পরিবার পাবলিকেশন ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ সহ দেশ বিদেশের প্রকাশনী বইমেলাকে পূর্নাঙ্গ করে তুলে ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান:
প্রথম দিনের অনুষ্ঠানমালার সূচনা হয় দুপুর ১টায় এক অনাড়ম্বর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ভাষাবিদ ও গবেষক প্রফেসর মাহমুদ শাহ কোরেশী,সাবেক মহাপরিচালক, বাংলা একাডেমি, ঢাকা।
গণ্যমান্য অতিথিরা ছিলেন:
• শামীম আজাদ – কবি ও গল্পকথক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত (যুক্তরাজ্য)
• শুভ্র দেব – গায়ক, গীতিকার ও সুরকার, একুশে পদকপ্রাপ্ত (বাংলাদেশ)
• জো উইন্টার – কবি, সাহিত্য সমালোচক ও অনুবাদক (যুক্তরাজ্য)
• আব্দুল হাসিব – কবি ও লেখক (কানাডা)
• রোকসানা লাইস – কবি ও গল্পকথক (কানাডা)
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সভাপতি রোমান্টিক কবি মোহাম্মদ ইকবাল।এরপর সম্মাননা স্মারক ও সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ পুরস্কার প্রদান করা হয় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদান রাখা গুণীজনদের মাঝে।সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ পদক ২০২৫ সে ভূষিত হন বহুমাত্রিক লেখক কবি ,ছড়াকার
দিলু নাসের।এছাড়া ঘরের গুণী হিসেবে পদক পান শক্তিমান কবি আতাউর রহমান মিলাদ। বইমেলাকে সফল করতে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করার জন্য কবি এম মোসাইদ খান ও বাঁচিকশিল্পী স্মৃতি আজাদকে ও সম্মানিত করা হয়।
প্রথম পর্ব (১টা–৪টা):
• উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
• স্বাগত বক্তৃতা
• সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান
এই পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উদয় শংকর দূর্যয়।
দ্বিতীয় পর্ব (৪টা–৫টা):
আলোচনা: “সাহিত্য চর্চায় অনুবাদের গুরুত্ব”
• আলোচকরা অনুবাদের মাধ্যমে ভাষার সেতুবন্ধন,সাহিত্য বিনিময় ও সংস্কৃতির প্রসারের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন।পরিচালনা করেন কবি ইকবাল হোসেন বুলবুল।আলোচনায় ছিলেন লেখক গবেষক সেলিম জাহান,কবি মিল্টন রহমান,গল্পকার সাগর রহমান ও বৃটিশ কবি জো উইন্টার।
তৃতীয় পর্ব (৫টা–৬টা):
ইংরেজ কবিদের কবিতা পাঠ
• যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা কবিরা এই পর্বে তাদের মৌলিক কবিতা পাঠ করেন,যা ছিল একটি আন্তসংস্কৃতিক সাহিত্য বিনিময়ের অনন্য উদাহরণ।
চতুর্থ পর্ব (৬টা–৭টা):
কবিতা পাঠের আসর ও আবৃত্তি
• প্রবাসী কবি, সাহিত্যিক ও আবৃত্তিকাররা এই আসরে অংশগ্রহণ করেন।
পঞ্চম পর্ব (৭টা–৮টা):
নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
• প্রবাসী লেখকদের একাধিক নতুন প্রকাশিত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
ষষ্ঠ পর্ব (৮টা–৯টা):
আরও এক পর্ব কবিতা পাঠ ও আবৃত্তির
• দিনশেষে দর্শক-শ্রোতারা উপভোগ করেন আরও একটি মনোমুগ্ধকর কবিতা পাঠ ও আবৃত্তির সেশন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লেখক,কবি,প্রকাশক,সাংবাদিক,শিক্ষাবিদ,সাংস্কৃতিক কর্মী ও বাংলা ভাষাপ্রেমীরা অংশগ্রহণ করেন।এই আয়োজন ছিল শুধুই একটি মেলা নয়, বরং প্রবাসী বাংলা সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা।আগামীকাল সোমবার দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানেও রয়েছে সাহিত্য,সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতা নিয়ে বিভিন্ন পর্ব ও পরিবেশনা।