সাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার নীরব প্রতিযোগিতা
সংগ্রাম দত্ত: বিশ্ব রাজনীতির উত্তাল পরিস্থিতিতে,যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে।বিশেষ করে,সাবমেরিন শক্তির ক্ষেত্রে এই দুই পরাশক্তির প্রতিযোগিতা গভীর সাগরের নীরবতায় চলমান।সম্প্রতি,সাবমেরিন মোতায়েন এবং যৌথ সামরিক মহড়া এই প্রতিযোগিতাকে আরও উস্কে দিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন শক্তি:
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সাবমেরিন বহর ৭১টি পরমাণু চালিত সাবমেরিন নিয়ে গঠিত, যা চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত: ওহাইও-শ্রেণি (Ohio-class): ১৪টি ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন (SSBN) এবং ৪টি গাইডেড মিসাইল সাবমেরিন (SSGN)। প্রতিটি SSBN ২৪টি ট্রাইডেন্ট II D5 মিসাইল বহনে সক্ষম। [ভর্জিনিয়া-শ্রেণি (Virginia-class): নতুন প্রজন্মের আক্রমণাত্মক সাবমেরিন, যা টর্পেডো এবং টমাহক মিসাইল বহনে সক্ষম।সিওউলফ-শ্রেণি (Seawolf-class): উচ্চগতির, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সাবমেরিন, যা গভীর সমুদ্রে গোপন মিশনে ব্যবহৃত হয়।লস অ্যাঞ্জেলেস-শ্রেণি (Los Angeles-class): পুরাতন হলেও এখনও কার্যকর, এই শ্রেণির সাবমেরিনগুলি বিভিন্ন মিশনে ব্যবহৃত হয়।এই সাবমেরিনগুলির পরমাণু চালিত হওয়ার ফলে, তারা দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করতে সক্ষম, যা যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করে।
রাশিয়ার সাবমেরিন শক্তি: রাশিয়ার নৌবাহিনীর সাবমেরিন বহর প্রায় ৬৪টি সাবমেরিন নিয়ে গঠিত, যা পরমাণু ও ডিজেল-ইলেকট্রিক উভয় ধরনের।বোরেই-এ শ্রেণি (Borei-A class): নতুন প্রজন্মের ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন, যা ১৬টি বুলাভা মিসাইল বহনে সক্ষম।ইয়াসেন-এম শ্রেণি (Yasen-M class): উন্নত আক্রমণাত্মক সাবমেরিন, যা কালিব্র, ওনিক্স এবং হাইপারসনিক জিরকন মিসাইল বহনে সক্ষম।ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন: ২৩টি সাবমেরিন, যা উপকূলীয় এলাকায় গোপন মিশনে ব্যবহৃত হয়।রাশিয়া তার সাবমেরিন বহর আধুনিকীকরণে মনোযোগ দিচ্ছে, যা তার সামরিক কৌশলগত ক্ষমতা বৃদ্ধি করছে।
সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি: ২০২৫ সালের আগস্টে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের উস্কানিমূলক মন্তব্যের পর দুটি পরমাণু সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ দেন। এই পদক্ষেপ রাশিয়া ও চীনের মধ্যে জয়েন্ট সি ২০২৫ (Joint Sea-2025) নামে বৃহৎ সামরিক মহড়ার সূচনা করে, যা সাগরীয় নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করে।যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সাবমেরিন শক্তির প্রতিযোগিতা বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই প্রতিযোগিতা শুধু সামরিক শক্তির প্রদর্শনী নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্যের প্রতিফলন। ভবিষ্যতে, এই প্রতিযোগিতা কীভাবে বিকাশ লাভ করবে, তা বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম রয়টার্স, দি সান, দি নিউক্লিয়ার ফ্রেট ইনিসিয়াটিভ, ফেডারেশন অফ আমেরিকান সাইনসিস্ট এ প্রকাশিত রিপোর্টের আলোকে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।