হেট স্পিচ ( ঘৃণামূলক ভাষণ) জমজমাট চাষ হচ্ছে ভারতে
দিলীপমজুমদার
১. কাকে বলে হেট স্পিচ বা ঘৃণা অমূলক ভাষণ ,কিভাবে হলতার ব্যাপ্তি
হেট স্পিচের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা এখনও তৈরি হয়নি।সাধারণভাবে কোন ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের জাতি,ধর্ম,বর্ণ ও আচরণের বিরুদ্ধে অপমানজনক,বিদ্বেষমূলক মন্তব্য বা বক্তব্য,যা সন্ত্রাসকে উৎসাহিত করে, তাকে ঘৃণা ভাষণ [ hate speech] বলা হয়।কেম্ব্রিজ অভিধানে বলা হয়েছে, Public speech that expresses hate or encourages violence towards a person or group based on something such as race , religion, sex or sexual oriention.’আমেরিকান কন্সটিটিউশনের এনসাইক্লোপিডিয়ায় বলা হয়েছে , ‘Usually thought to include communications of animosity or disparagement of an individual or a group characteristics such as race , color , national origin , sex, disability, religion or sexual orientation .ঘৃণা ভাষণ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সম্পর্কে বিদ্বেষ , বৈষম্য এবং ঘৃণা ছড়ায় ।এটি মৌখিক বা লিখিত বা আচরণগত যে কোন রকমের হতে পারে ; অফলাইন বা অনলাইনে এই ঘৃণা ছড়ানো হতে পারে । এর ফলে সামাজিক কলঙ্ক, বৈষম্য ও সহিংসতা বৃদ্ধি পায়
ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার উথ্থান ঘৃণা ভাষণকে দ্রুত প্রসারিত করে দিচ্ছে । ১৯৮৩ সালে নব্য-নাৎসি নেতা জর্জ ডায়েটজ কর্তৃক তৈরি একটি বুলেটিন বোর্ড সিস্টেমকে অনলাইনে ঘৃণাত্মক বক্তব্যের প্রথম উদাহরণ বলা যায়।১৯৯৬ সালে প্রকাশিত হয় স্টর্মফ্রন্ট।এটি ঘৃণাত্মক বক্তব্যের একটি ওয়েবসাইট।ইন্টারনেটের গঠন ও প্রকৃতি অনলাইনে ঘৃণাত্মক বক্তব্যের আধার হয়ে উঠেছে।ইন্টারনেটের ব্যাপক ব্যবহার ও অ্যাক্সেস অল্প খরচে ঘৃণাবার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে দিক-বিদিক।আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের মতে বিশ্বের জনসংখ্যার ৬৬% মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে।ফলে ঘৃণা ভাষণ বহু মানুষের কাছে সহজে পৌঁছাতে পারে। ইউনাইটেড নেশনস-এর পক্ষে বলা হয়েছে, ‘The last decade has seen minorities around the world facing new and growing threats , fueled by hate and bigotry being spewed through social media platforms.’ এই ঘৃণাভাষণ উৎসাহিত করে গণহত্যার মতো ভয়াবহ ব্যাপারকে । তার প্রমাণ ১৯৪১-৪৫ সালে নাজি জার্মানির হলোকাস্ট যাতে ৬০ মিলিয়ন ইহুদিকে পরিকল্পিভাবে হত্যা করা হয় সেখানে;১৯৬০-১৯৯৬ সালে গুয়াতেমালার মায়া গণহত্যা যাতে ২ লক্ষ মানুষকে হত্যা করা হয় ; ১৯৭১ সালে বাংলা দেশের গণহত্যা , যেখানে ৩-৩০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করা হয় ; ১৯৭৫-৭৯ সালে ক্যাম্বোডিয়ার গণহত্যা যাতে ১৩৮৬৭৩৪-৩০০০০০০ মানুষকে হত্যা করা হয় ; ১৯৯৪ সালে রুয়াণ্ডার গণহত্যা যাতে ৪৯১০০০-৮০০০০০০ মানুষকে হত্যা করা হয় ; ২০০২-০৩ সালে পূর্ব কঙ্গোর গণহত্যায় পিগমি জনসংখ্যার ৪০% নিহত হয় ; ২০০৩-০৫ সালে দারফুর গণহত্যায় ৯৮০০০-৫০০০০০ মানুষ নিহত হয় ; ২০১৬ সালে চিনে উইঘুরদের গণহত্যা , ২০১৬ সালে মায়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যা , ২০২৩ সালে গাজা গণহত্যা ।
২. ভারতেহেটস্পিচ : হেটল্যাবেরসমীক্ষা
শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক পরিচালিত এই সংস্থার সমীক্ষায় প্রকাশ : ২০২৩ সালে দেশে ৬৬৮টি ঘৃণা ভাষণের ঘটনা ঘটেছে।প্রথম স্থান মহারাষ্ট্রের যেখানে ঘৃণা ভাষণের সংখ্যা ১১৮ , দ্বিতীয় স্থান উত্তর প্রদেশের যেখানে ঘৃণা ভাষণের সংখ্যা ১০৪ , তৃতীয় স্থান মধ্যপ্রদেশের যেখানে ঘৃণা ভাষণের সংখ্যা ৬৫।এই তিনটি রাজ্য বিজেপি শাসিত । এর পর আছে রাজস্থান,হরিয়ানা ,কর্নাটক,গুজরাট,ছত্তিশগড়,বিহার ; এই রাজ্যগুলি আগে বিজেপি শাসিত ছিল অথবা পরে বিজেপি ক্ষমতা দখল করেছে।সমীক্ষার মতে ৬৬৮টি ঘৃণা ভাষণের মধ্যে ২৩৯ টি ঘৃণা ভাষণের লক্ষ্য মুসলমান সমাজ এবং ঘৃণা ভাষণের মূল বিষয় লাভ জিহাদ ,ল্যাণ্ড জিহাদ ,হালাল জিহাদ ,পপুলেশন জিহাদ ।
৩. ভারতে হেট স্পিচ : অ্যাসোসিয়েশন ফরডেমোক্রেটি করিফর্মের সমীক্ষা
বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্ম একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছেন যে বর্তমানে দেশের ৪৭৬৮ জন সাংসদ-বিধায়কের মধ্যে ১০৭ জনের বিরুদ্ধে ঘৃণা ভাষণের দায়ে মামলা চলছে। তার মধ্যে সাংসদ সংখ্যা ৩৩ , আর বিধায়ক সংখ্যা ৭৪ জন।বিজেপির ৪২ সাংসদ-বিধায়ক , কংগ্রেসের ১৫ জন সাংসদ-বিধায়ক,আম আদমি পার্টির ৭ জন সাংসদ-বিধায়কের বিরুদ্ধে মামলা চলছে । ঘৃণা ভাষণ ছড়ানোর তালিকায় আছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ,সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশি , কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং,সাংসদ নিশিকান্ত দুবে,দিলীপ ঘোষ ,প্রজ্ঞা ঠাকুর ;বিধায়কদের তালিকায় আছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন,তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে. চন্দ্রশেখর রাও , বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব ।
৪. ভারতে হেটস্পিচ : সিএসএস এসের সমীক্ষা
সেন্টার ফর স্টাডি অব সোসাইটি অ্যাণ্ড সেকুলারিজম , সংক্ষেপে সি এস এস এস । ‘দ্য ইণ্ডিয়ান এক্সপ্রেস’, ‘দ্য টাইমস অব ইণ্ডিয়া’ , ‘দ্য হিন্দু’ , ‘ইনকিলাব’ , ‘সাহাফত’ প্রভৃতি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একটা সমীক্ষা করেছে সি এস এস এস । তাঁদের বক্তব্য ২০২৩ সালে ৩৩ টি ঘৃণা ভাষণ নথিভুক্ত হয়েছিল , কিন্তু ২০২৪ সালে সেটা বেড়ে হয়েছে ১২২ টি । আবার এই ১২২টি ঘৃণা ভাষণের এক তৃতীয়াংশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির । ১২২টির মধ্যে ১১২ টি মুসলমানদের বিরুদ্ধে নিক্ষিপ্ত । ৩ টি হিন্দুদের বিরুদ্ধে , ১ টি দলিতদের ও ১টি শিখদের বিরুদ্ধে । এই ঘৃণা ভাষণের পটভূমিতে আছে ২০২৪এর সাধারণ নির্বাচন এবং হরিয়ানা , ঝাড়খণ্ড , মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচন । নির্বাচনী প্রচার ও রাজনৈতিক সমাবেশে উচ্চারিত হয়েছে ঘৃণা ভাষণ । ১২২টির মধ্যে মহারাষ্ট্রৈ ৩৮টি , উত্তরপ্রদেশে ২৩টি , ঝাড়খণ্ডে ৯টি , পশ্চিমবঙ্গে ৮টি , অসমে ৭টি , বিহারে ৭টি , গুজরাটে ৬টি ঘৃণা ভাষণ দেওয়া হয়েছে ।
১২২টির মধ্যে নির্বাচিত জন প্রতিনিধিরা ( সাংসদ,বিধায়ক,মন্ত্রী) দিয়েছেন ১০৯টি ভাষণ , যা সর্বমোটের ৮৯.৩%।কোন মন্ত্রী,কোন নির্বাচিত প্রতিনিধি ক’টি ভাষণ দিয়েছেন তার তালিকা :
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ==৪০টি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ==১৫টি
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ = ১২টি
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা ==১২টি
মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশ = ৫টি
সমীক্ষা বলছে ধীরে ধীরে ঘৃণা ভাষণ যেন স্বাভাবিক একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়াচ্ছে , তেমন কোন শাস্তির মুখে না পড়ায় ঘৃণা ভাষণ ক্রমশ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ছে —‘This situation is deeply concerning as it highlights the alarming normalization of hatred and the failure of criminal justice system to take effective action , thereby allowing hate speeches to proliferate unchecked.’
৫. ভারতে হেটস্পিচ : শাসকদল বিজেপির ভূমিকা
পরিসংখ্যান ও সমীক্ষা বলছে ২০১৪ সাল থেকে ঘৃণা ভাষণ বৃদ্ধি পেয়েছে , মূলত এইসব ভাষণ সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধেএবং ঘৃণা ভাষণে বিজেপি সবচেয়ে এগিয়ে আছে। তাদের মতে ভারতে হিন্দুরা ‘খতরে মে হায়’ এবং তার জন্য মূলত দায়ী সংখ্যালঘু মুসলমানরা । ভারতে হিন্দু রাষ্ট্র তৈরির জন্য তাদের তরফ থেকে তৈরি করা হচ্ছে ‘ইসলামোফোবিয়া’ । সাবরঙ গবেষণা ( www.sabrangindia.in) সংস্থা বিজেপির ঘৃণা ভাষণের একটি তালিকা তৈরি করেছেন । তার থেকে কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হচ্ছে :
সাল ২০১৪ ।। নরেন্দ্র মোদির বিরোধীদের পাকিস্তানে যেতে বললেন গিরিরাজ সিং । মুজফফরনগরের দাঙ্গার প্রতিশোধ নিতে অমিত শাহের আহ্বান । যোগী আদিত্যনাথের বক্তব্য , ‘ যে সব জায়গায় ১০% থেকে ২০% সংখ্যালঘু থাকে সেখানেই দাঙ্গা হয় ।’ আদিত্যনাথ উবাচ, ‘যদি তারা একটি হিন্দু মেয়েকে নিয়ে যায়, আমরা ১০০ জন মুসলিম মেয়েকে নিয়ে যাব ।’ গিরিরাজ সিং বললেন ,সমস্ত সন্ত্রাসী একটি নির্দিষ্ট ধর্মের।’সংসদে উষা ঠাকুর মুসমানদের ‘গরবা’ থেকে নিষিদ্ধ করার কথা বলেন ।সাল ২০১৫।যোগী আদিত্যনাথ অভিনেতা শাহরুখ খানকে পাকিস্তান যেতে নির্দেশ দিলেন কারণ তিনি ‘সন্ত্রাসীর ভাষায়’ কথা বলেন।কেন্দ্রীয়মন্ত্রীমহেশশর্মাআওরঙ্গজেবকেকঠোরভাবেনিন্দাকরলেন।
সাল ২০১৬ ।। অরুণ মাহুরের মৃত্যুর ব্যাপারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামশঙ্কর কাঠেরিয়া মুসলমানদের দায়ী করে বললেন , ‘আর একজন অরুণকে হারানোর আগে আমাদের সংগ্রাম করা উচিত ।’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনন্তকুমার হেগড়ে উবাচ , ‘যতদিন পৃথিবীতে ইসলাম থাকবে , ততদিন সন্ত্রাসবাদ থাকবে ।’ প্রধানমন্ত্রী মুসলমানদের শুদ্ধিকরণের আহ্বান জানালেন । নাগরিকত্ব বিলের ( সংশোধন) বিরোধিতা সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তরে অসমের হিমন্তবিশ্ব শর্মা বললেন যে ধর্মের ভিত্তিতে অভিবাসীদের পার্থক্য করা তাঁর দলের নীতি ।সাংসদ মেঘরাজজৈন বলেন ধর্মীয়সংখ্যালঘুহওয়াজৈনদেরজন্যঅপমানজনককারণএটিতাদেরঅত্যন্তহিংস্রমুসলিমসম্প্রদায়েরসমক্ষকরেতোলে।সাল ২০১৭-১৮।। মুসলিম নিষিদ্ধকরণ নীতির আহ্বান জানালেন যোগী আদিত্যনাথ । বিধায়ক সঙ্গীত সিম মুঘল সম্রাট বাবর ও আকবরকে বিশ্বাসঘাতক এবং তাজমহলকে ভারতীয় সংস্কৃতির কলঙ্ক বললেন । রামমন্দির বিরোধীদের শিরশ্ছেদের হুমকি দিলেন বিধায়ক রাজা সিং । সাংসদ বিনয় কাটিয়ার বললেন , ‘মুসলমানদের ভারতে থাকার কোন অধিকার নেই ।’ বিধায়ক বাসনাগৌড়া পাতি লায়তলাল উবাচ , ‘বুদ্ধিজীবীরা আমাদের ক্ষতি করেছে ।
সাল ২০১৯ ।হিমন্তবিশ্ব শর্মার আহ্বান –‘জিন্নাহদের তাড়িয়ে দাও’ ।অমিত শা্হ অবৈধ অভিবাসীদের (মুসলিমদের) অভিহিত করলেন ‘উইপোকা’ বলে।বিধায়ক প্রশান্ত ফুকন বললেন,এটা সকলের জানা যে লোকসভা নির্বাচনে ৯০% মুসলিম আমাদের ভোট দেয় নি ।যে গরু দুধ দেয় না তাদের খাবার দেওয়ার কোন মানে হয় না ।বিধায়ক সুরেন্দ্র সিং বলেন,মুসলিম ধর্মে আপনি জানেন যে মানুষ ৫০ জন স্ত্রী রাখে এবং ১০৫০ সন্তানের জন্ম দেয় ।এটি কোন ঐতিহ্য নয় , বরং একটি পশুত্বপূর্ণ প্রবণতা।’ভারত থেকে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের নির্মূল করার আহ্বান জানালেন বিজেপি নেতা রাজেশ্বর সিং।মুসলিম মহিলাদের গণ ধর্ষণের ডাক দিলেন মহিলা মোর্চার নেত্রী সুনীতা সিং।বোরকা সন্ত্রাসবাদের প্রতীক’ , বললেন বিধায়ক সঙ্গীতা সোম ।সাল ২০২০-২১।সাংসদ প্রবেশ ভার্মা উবাচ , ‘এই তথাকথিত মিয়ারা খুবই সাম্প্রদায়িক এবং মৌলবাদী।‘লুঙ্গিয়ালা’ ‘মুসলমানদে’র সম্বন্ধে কেশবপ্রসাদ মৌর্যের উক্তি,তারা রিভলবার হাতে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল এবং ব্যবসায়ীদের হুমকি দিচ্ছিল।এবং ‘শাহিনবাগের বিক্ষোভকারীরা তোমাদের বাড়িতে ঢুকে পড়বে, তোমাদের মা-বোনদের অপহরণ করবে , তাদের ধর্ষণ করবে , হত্যা করবে ।’সাল ২০২২।বিধায়ক রাঘবেন্দ্র প্রতাপ সিং উবাচ , ‘টোপি ব্যাণ্ড হোইবা মিয়াঁ লগ তিলক লাগাই কে চালেইন।’ সাংসদ ব্রিজভূষণ সিং উবাচ , ‘উত্তরপ্রদেশ ট্রিগার হ্যাপি/ শুটার বাবা এবং বুলডোজারবাবার সরকার আছে, তোমাদের ইনশাআল্লাহ ধ্বংস হোক।বিধায়ক মায়াঙ্কেশ্বর সিং উবাচ , ‘যদি হিন্দুরা জেগে ওঠে আমরা দাড়ি উপড়ে ফেলব এবং ছোটিয়া তৈরি করব ।’ বিধায়ক হরিভূষণ ঠাকুর বাইচালের মতে মুসলমানরা সহিংসতায় লিপ্ত জেহাদি । ‘লাভ জিহাদে’র উথ্থান ঘটিয়ে সাংসদ প্রজ্ঞা সিং বলেনযে হিন্দুদের লাভ জিহাদে জড়িতদের একইভাবে জবাব দেওয়া উচিত।বিজেপি নেতা নূপুর শর্মা এবং বিধায়ক টি রাজা সিং নবী মুহাম্মদ সম্পর্কে অবমাননাকর উক্তি করলেন ।
সাল ২০২৩-২৪।। বিধায়ক টি রাজা সিং মুসলমানদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও অর্থনৈতিক বয়কটের ডাক দিলেন। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা বাঙালি মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে একে ‘সার জিহাদ’ বলে অভিহিত করলেন।সাংসদ রমেশ বিধুরী দানেশ আলিকে ‘মুসলিম সন্ত্রাসী ও জঙ্গী’ বলে অভিহিত করলেন।রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ালেন অমিত শাহ । মসজিদ ভেঙে মন্দির নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেন বিধায়ক কে এস ঈশ্বরাপ্পা।বিধায়ক রাজা সিং মুসলিম মহিলাদের থেকে হিন্দুদের সাবধান থাকার নির্দেশ দিলেন।সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপর প্রতিশোধ নেবার আহ্বান সাংসদ অনন্তকুমার হেগড়ের।মুসলমানরা হিন্দু জনসংখ্যা হ্রাস করার মতলবে রয়েছে বলে বিধায়ক নীতেশ রানের মন্তব্য।ধর্ম নিশ্চিত করার জন্য যৌনাঙ্গ পরীক্ষা করার জন্য সি এ এ পদ্ধতির আহ্বান তথাগত রায়ের।প্রধানমন্ত্রীর মতে মুসলমানরা ‘যারা বেশি সন্তানের জন্ম দেয়’। প্রধানমন্ত্রী উবাচ,কংগ্রেস তোমাদের সম্পদ এমন কি তোমাদের সোনাও লুঠ করতে চায়।তোমরা সকলেই জানো কাকে তা দেবে।প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসকে ‘আওরঙ্গজেবের দলের’সমর্থক বলে উল্লেখ করেন।যোগী আদিত্যনাথের অভিযোগ কংগ্রেস গোহত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনতে চায়।২০২৪ সালের ২১ এপ্রিল রাজস্থানের বাঁশওয়াড়ায় প্রধানমন্ত্রীর একটি ঘৃণা ভাষণের উল্লেখ করে এই পর্ব শেষ করব।প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন কংগ্রেস হিন্দু মা-বোনেদের মঙ্গলসূত্র ও সোনা ছিনিয়ে নিয়ে বিতরণ করতে চায় মুসলমানদের । কংগ্রেসের মুসলিম-তোষণ তাঁর আক্রমণের বিষয়।যেমন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের মুসলিম-তোষণের বিরুদ্ধে বিরোধী দলনেতা সোচ্চার।মুখ্যমন্ত্রীমমতাব্যানার্জীকেবিরোধীদলনেতা‘বেগম’ বলেসম্বোধনকরেন।প্রধানমন্ত্রীর মতো শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে রাজ্য বিজেপির নির্বাচিত প্রতিনিধিরা লাভ-জিহাদ, ভূমি-জিহাদ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর , অবৈধ অভিবাসন , ধর্মীয় স্থান ধ্বংসের মতো বিষয় নিয়ে বিভেদ ও বিভাজনকে শক্তিশালী করে তুলছেন ক্রমাগত।এই বিষময় পরিস্থিতিতে ‘দিবে আরনিবে মিলিবে মিলাবে/যাবে না ফিরে’ –এই উদাত্ত বাণীতার অর্থ হারাচ্ছে।